শাসকগোষ্ঠীর বুদ্ধিবৃত্তিক স্বৈরাচার ও জুলুমের সামনে পাহাড়ের মতো অটল ছিলেন ইমাম আহমদ বিন হাম্বল শায়বানি। আব্বাসীয় রাজদরবারে যখন যুক্তিবাদী মুতাজিলা মতবাদের একচ্ছত্র আধিপত্য, তখন তৎকালীন খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা চরম বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একাই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এই মহান মনীষী। ইতিহাসের পাতায় যা পবিত্র কোরআন সৃষ্টি না সৃষ্টি হওয়া সংক্রান্ত চরম বিতর্ক বা মিহনাতু খালকিল কোরআন নামে পরিচিত।
মুতাজিলা মতবাদের সামনে অটল পর্বত
ইতিহাসবিদদের মতে, কোরআন সৃষ্টি সংক্রান্ত এই সংকট ইতিহাসে কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের পর ইসলামের প্রথম যুগে ছড়িয়ে পড়া মুরতাদ বা ধর্মত্যাগীদের ফেতনার পর ইসলামের সবচেয়ে কঠিন বুদ্ধিবৃত্তিক ও ধর্মীয় সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হয় একে। এ কারণেই অনেক ঐতিহাসিক ইসলামের মূল ভিত্তি ও আধ্যাত্মিক চেতনা রক্ষায় ইমাম আহমদের অবদানকে ধর্মত্যাগীদের দমনে প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর সিদ্দিকের ঐতিহাসিক ভূমিকার সমতুল্য মনে করেন।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের জন্ম ও বেড়ে ওঠা
ইসলামী সভ্যতার সোনালী যুগে বাগদাদে জন্ম নেন আহমদ বিন হাম্বল (রহ.)। আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ তখন জ্ঞান-বিজ্ঞান, কবিতা, সুফিবাদের চর্চায় মুখরিত এক সমৃদ্ধ নগরী। এই প্রাণোচ্ছল ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশের মধ্যেই দ্বিতীয় হিজরি শতকের শেষের দিকে অর্থাৎ ১৬৪ হিজরি মোতাবেক ৭৮০ খ্রিস্টাব্দে এক সম্ভ্রান্ত ইরাকি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল শায়বানি। তার বংশধারা গিয়ে মিলেছে আরবের বিখ্যাত মায়াদ বিন আদনান গোত্রের সাথে।
পারিবারিক আভিজাত্য
তার দাদা হাম্বল বিন হিলাল ছিলেন বনু জোহল বিন শায়বান গোত্রের একজন প্রভাবশালী নেতা এবং উমাইয়া আমলে খোরাসানের গভর্নর। তবে উমাইয়াদের হটিয়ে আব্বাসীদের ক্ষমতা দখলের আন্দোলনের শুরুর দিকেই তিনি আব্বাসীদের পক্ষে অবস্থান নেন। ইমাম আহমদের পিতা মুহাম্মদ বিন হাম্বল ছিলেন আব্বাসীয় সেনাবাহিনীর একজন পদস্থ কর্মকর্তা। আহমদের শৈশবের একেবারে শুরুর দিকেই তার পিতা ইন্তেকাল করেন।
শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলার মানসিকতা
ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, হাম্বল পরিবারটি আব্বাসীয় রাষ্ট্রের বেশ ঘনিষ্ঠ ছিল এবং পরিবারের অনেক সদস্যই আমির, সেনাপতি ও রাজদরবারের উচ্চ পদে আসীন ছিলেন। কিন্তু তরুণ আহমদ প্রথম থেকেই শাসকগোষ্ঠীর সাথে এই ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলতেন।
এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, তার চাচা একবার বাগদাদ শহরের পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি একটি প্রশাসনিক প্রতিবেদন তৎকালীন গভর্নরের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আহমদকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আহমদ ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত হতে এতটাই অনীহ ছিলেন যে, তিনি সেই প্রতিবেদনটি গভর্নরের কাছে না নিয়ে মাঝপথে নদীতে ফেলে দেন।
উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ ভ্রমণ
পিতৃহীন আহমদকে তার মা অত্যন্ত ধার্মিক ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে বড় করে তোলেন। ওহীর জ্ঞান তথা কোরআন ও সুন্নাহর পথে ছেলেকে একজন ইমাম হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আহমদ বাগদাদের বিখ্যাত মুহাদ্দিস হুসাইন বিন বশির আল-ওয়াসিতির মতো শায়খদের কাছে হাদীস শাস্ত্রের পাঠ নিতে শুরু করেন। বাগদাদের শায়খদের কাছ থেকে হাদীসের জ্ঞান পুরোপুরি আয়ত্ত করার পর তিনি উচ্চতর শিক্ষার জন্য অন্য শহরে সফরের সিদ্ধান্ত নেন, যা তৎকালীন যুগের জ্ঞান পিপাসুদের একটি চিরন্তন ঐতিহ্য ছিল।
শিক্ষকগণ
জ্ঞান অন্বেষণের এই সফরে ইমাম আহমদ হিজাজ, তেহামা, ইয়েমেন, বসরা ও কুফায় যান। সেখানে তিনি এমন সব প্রবীণ আলেমের সান্নিধ্য লাভ করেন যারা বড় বড় তাবেয়ীদের যুগ পেয়েছিলেন। তার শিক্ষকদের মধ্যে আব্দুর রহমান বিন মাহদি, ওমাইর বিন আব্দুল্লাহ, ইমাম আবু হানিফার প্রধান ছাত্র ও বিখ্যাত বিচারক কাজী আবু ইউসুফ, সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ এবং স্বয়ং ইমাম শাফেয়ীর মতো বিখ্যাত মনীষীরা ছিলেন।
ইয়েমেনের সানায় গিয়ে শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন হাম্মামের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য তার ও তার পরম বন্ধু ইয়াহইয়া বিন মঈনের সফরটি ছিল চরম ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তৎকালীন সময়ে তেহামা, হিজাজ ও ইয়েমেনের এই দূরপাল্লার সফরগুলোর বেশির ভাগই ইমাম আহমদ পায়ে হেঁটে সম্পন্ন করেছিলেন, যেখানে পাথেয় বলতে কোনো অর্থ ছিল না, ছিল শুধু সুদৃঢ় মনোবল।
বাগদাদের কেন্দ্রীয় মসজিদে হাদিসের শিক্ষক
চল্লিশ বছর বয়সে তিনি বাগদাদের কেন্দ্রীয় মসজিদে ফতোয়া দেওয়া এবং হাদীস পড়ানোর জন্য বসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তার ইলমের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তার মজলিশ এতটাই বিশাল হয়ে ওঠে যে, প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী তার দরসে উপস্থিত হয়ে হাদীস লিপিবদ্ধ করতেন।
সংসার জীবন
তার ইলমের গভীরতা, আধ্যাত্মিক গাম্ভীর্য ও আত্মমর্যাদাবোধ মানুষকে মুগ্ধ করত। চল্লিশ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম সন্তান সালেহের মাতা আব্বাসা বিনতে ফাদলকে বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল অত্যন্ত সুখের।
ইমাম আহমদ নিজেই বলেছিলেন, উম্মে সালেহ আমার সাথে ত্রিশ বছর সংসার করেছে, কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনো একটি বিষয়েও কখনো মতদ্বৈধতা বা একটি কটু কথার বিনিময় হয়নি।
পাঠদানের বৈশিষ্ট্য
ইমাম আহমদের পাঠদানের দুটি ক্ষেত্র ছিল। একটি ছিল তার নিজের বাড়িতে, যা ছিল তার সন্তান ও ঘনিষ্ঠ ছাত্রদের জন্য। অন্যটি ছিল কেন্দ্রীয় মসজিদে, যেখানে সাধারণ মানুষ ও হাজারো ছাত্রের ভিড় হতো। তিনি ছিলেন চরম গাম্ভীর্য ও মর্যাদার অধিকারী। তার মজলিশে কোনো ধরনের রসিকতা বা ঠাট্টা-তামাশার সুযোগ ছিল না। শিক্ষকের এই ব্যক্তিত্বের কারণে ছাত্ররাও তার সামনে অত্যন্ত বিনীত হয়ে থাকত।
হাদিস বর্ণনায় সতর্কতা
হাদিসের বড় মাপের হাফেজ হওয়া সত্ত্বেও ইমাম আহমদ নিখুঁতভাবে হাদিস বর্ণনা করার জন্য সর্বদা মূল পাণ্ডুলিপি বা বই দেখে হাদিস পড়াতেন। তার পুত্র আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেন, আমি আমার পিতাকে মূল বই ছাড়া মুখস্থ থেকে হাদিস বর্ণনা করতে খুব কমই দেখেছি, হয়তো সব মিলিয়ে একশরও কম হাদিস তিনি বই ছাড়া বর্ণনা করেছেন।
বিনয়ের মূর্ত প্রতীক
বিশাল পাণ্ডিত্য সত্ত্বেও তিনি ছিলেন বিনয়ের এক মূর্ত প্রতীক। তিনি চাইতেন না যে তার ব্যক্তিগত ফতোয়া বা মতামতগুলো কেউ কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করুক। কোনো ছাত্র তার ফতোয়া বা মতামত লিখে রাখছে শুনলে তিনি ভীষণ ক্ষুব্ধ হতেন।
নিজের মাযহাব নিজে ইমাম আহমদের ব্যক্তিগত মতামত
ইমাম আহমদের মাযহাবকে মূলত আহলে হাদীসের মাযহাব বলা যায়, যেখানে ব্যক্তিগত রায় বা যুক্তির ব্যবহার সবচেয়ে কম করা হয়েছে। তিনি নিজে চাননি যে তার নামে কোনো নির্দিষ্ট মাযহাব গড়ে উঠুক, বরং তিনি সর্বদা তার ছাত্রদের সরাসরি কোরআন ও সুন্নাহর সাথে যুক্ত রাখতে চেয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার ফতোয়া ও ছাত্রদের সংকলনের ওপর ভিত্তি করে হাম্বলি মাযহাবের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই মাযহাবের মূল ভিত্তিগুলো হলো:
হাম্বলি মাযহাবের মূল ভিত্তি
- প্রথমত, ওহীর বাণী তথা কোরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট বাণী। এটিই ছিল তার মাযহাবের প্রধান ভিত্তি। যেখানেই তিনি স্পষ্ট হাদীস পেতেন, তার বিপরীতে অন্য কারও মতামতকে তিনি বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দিতেন না।
- দ্বিতীয়ত, সাহাবীদের ইজমা বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। সাহাবীদের ইজমার ওপর তিনি অন্য কোনো রায় বা কিয়াসকে প্রাধান্য দিতেন না।
- তৃতীয়ত, সাহাবীদের মধ্যে মতভেদ হলে সেক্ষেত্রে যে মতটি কোরআন ও সুন্নাহর সবচেয়ে কাছাকাছি, সেটি গ্রহণ করতেন।
- চতুর্থত, মুরসাল ও জঈফ হাদীস গ্রহণ করা, যদি তার বিপরীতে অন্য কোনো সহীহ হাদীস বা সাহাবীদের বক্তব্য না থাকে।
- পঞ্চমত, কিয়াস বা অনুমান, যা তিনি একদম শেষ উৎস হিসেবে ব্যবহার করতেন, যখন ওপরের চারটি উৎসে কোনো সমাধান পাওয়া যেত না।
হাম্বলি মাযহাব
অন্যান্য মাযহাবের মতো হাম্বলি মাযহাব খুব দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েনি। এর কারণ, এই মাযহাব ছিল সবচেয়ে শেষে গড়ে ওঠা মাযহাব। ততদিনে বাকি তিনটি মাযহাব মুসলিম বিশ্বে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে ফেলেছিল।
তাছাড়া এই মাযহাব দীর্ঘ সময় ধরে কোনো রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি, যা অন্যান্য মাযহাবের প্রসারে বড় ভূমিকা রেখেছিল। শুরুতে এই মাযহাব শুধু ইরাক ও শামের কিছু অংশে সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে মিশরে এর সামান্য বিস্তার ঘটে এবং আরব উপদ্বীপে মোহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের আন্দোলনের মাধ্যমে এই মাযহাব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
মুতাজিলাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান
ইমাম আহমদের জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে কোরআন সৃষ্টি সংক্রান্ত ঐতিহাসিক বিতর্ক ও নির্যাতন। আব্বাসীয় খলিফা মামুন যখন মুতাজিলাদের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ঘোষণা করেন যে কোরআন আল্লাহর বাণী নয়, বরং এটি সৃষ্টি (মাখলুক), তখন ইমাম আহমদ এর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন। খলিফা এবং প্রধান মুতাজিলা আলেম আহমদ বিন আবি দুয়াদের সমস্ত যুক্তির সামনে তিনি অটল থাকেন।
ইবনে আবি দুয়াদ খলিফাকে প্ররোচিত করেন যেন তলোয়ারের জোরে মানুষের ওপর এই মতবাদ চাপিয়ে দেওয়া হয়। খলিফা মামুন বিভিন্ন অঞ্চলের গভর্নরদের কাছে ফরমান পাঠান যে, সমস্ত কাজী ও আলেমদের ডেকে পরীক্ষা করা হোক। যারা কোরআনকে সৃষ্টি বলে স্বীকার করবে না, তাদের চাকরিচ্যুত করা হোক এবং তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হোক।
কারাগার ও গৃহবন্দী জীবন
এই রাষ্ট্রীয় ত্রাসের মুখে অনেক ফকিহ ও আলেম প্রাণভয়ে খলিফার মত মেনে নেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র চারজন আলেম নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন, যাদের মধ্যে পরবর্তীতে আরও দুজন পিছু হটেন। বাকি রইলেন শুধু দুজন—ইমাম আহমদ বিন হাম্বল এবং ফকিহ মুহাম্মদ বিন নূহ। তাদের দুজনকে শিকল দিয়ে বেঁধে দূরবর্তী তারসুস শহরের কারাগারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। পথিমধ্যেই মুহাম্মদ বিন নূহ ইন্তেকাল করেন। এর কিছুদিন পর খলিফা মামুনও মারা যান। কিন্তু সংকট কাটেনি, মামুনের পর খলিফা মুতাসিম এবং পরবর্তীতে খলিফা ওয়াসিকও এই ধারা বজায় রাখেন। এই দুই খলিফার আমলে ইমাম আহমদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা চরম আকার ধারণ করে। তাকে কারারুদ্ধ করা হয় এবং অমানুষিক নির্যাতন করা হয়, কিন্তু কোনো কিছুই তার ঈমানকে টলাতে পারেনি।
ফতোয় প্রদানে নিষেধাজ্ঞা
কারাগারে প্রতিদিন ইমাম আহমদকে চাবুক মারা হতো, যতক্ষণ না তিনি অজ্ঞান হয়ে যেতেন। তলোয়ারের খোঁচায় তার শরীর রক্তাক্ত করা হতো। দীর্ঘদিন পর যখন তিনি অত্যন্ত দুর্বল শরীরে কারাগার থেকে মুক্তি পান, তখন তাকে নিজ বাড়িতে গৃহবন্দী করে রাখা হয়।
মুক্ত বাতাসে
খলিফা ওয়াসিকের আমলে তার ওপর ফিকহ চর্চা ও ফতোয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর তিনি ঘরের বাইরে গিয়ে নামাজ পড়া বা মানুষের সাথে কথা বলার সুযোগ পাননি। পরবর্তীতে খলিফা মুতাওয়াক্কিল ক্ষমতায় এসে এই চরমপন্থী বুদ্ধিবৃত্তিক নির্যাতনের অবসান ঘটান এবং ইমাম আহমদকে সম্মানজনকভাবে মুক্ত করেন।
ইন্তেকাল
কারাগারের সেই দীর্ঘ ও অমানুষিক নির্যাতনের ধকল ইমাম আহমদের শরীর সইতে পারেনি। মুক্ত হওয়ার পর তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে ২৪১ হিজরিতে ৭৭ বছর বয়সে বাগদাদের এক সাধারণ মহল্লায় ইসলামের এই মহান মনীষী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তিনি রেখে গেছেন হাদীসের এক বিশাল ভাণ্ডার যার নাম আল-মুসনাদ। ইতিহাসের পাতায় ও মানুষের হৃদয়ে আহমদ বিন হাম্বল আজও শাসকগোষ্ঠীর জুলুমের বিরুদ্ধে কলম ও আদর্শের লড়াইয়ের এক অমর প্রতীক হয়ে বেঁচে আছেন।
