বিজ্ঞাপন

৫ ওয়াক্ত নামাজের বিশেষ ৫ পুরস্কার

৫ ওয়াক্ত নামাজের বিশেষ ৫ পুরস্কার

প্রতিদিনের ৫ ওয়াক্ত নামাজ আমাদের সামনে ক্ষমা লাভের শত সুযোগ তৈরি করে। নামাজের প্রতিটি ধাপে আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য ক্ষমা লাভের ব্যবস্থা রেখেছেন। যেমন অজু, মসজিদের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া, নামাজ আদায় করা এবং নামাজ পরবর্তী তাসবিহ বা জিকির সব কিছু ক্ষমা লাভ ও সওয়াব অর্জনের সুযোগ তৈরি করে।

১. অজু: শরীর ও আত্মার পবিত্রতা

আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন কোনো মুমিন বান্দা অজু করার সময় কুলি করে, তখন তার মুখ দিয়ে সমস্ত পাপ বের হয়ে যায়। যখন সে নাকে পানি দিয়ে তা পরিষ্কার করে, তখন তার নাক দিয়ে পাপ ঝরে পড়ে। যখন সে মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন তার মুখ থেকে এমনকি চোখের পলকের নিচ থেকেও পাপ বের হয়ে যায়। যখন সে দুই হাত ধোয়, তখন তার হাত থেকে এমনকি নখের নিচ থেকেও পাপ ঝরে পড়ে। যখন সে মাথা মাসেহ করে, তখন তার মাথা থেকে এমনকি দুই কান থেকেও পাপ বের হয়ে যায়। আর যখন সে তার দুই পা ধৌত করে, তখন তার পা থেকে এমনকি পায়ের নখের নিচ থেকেও পাপ ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার হয়ে যায়। এরপর তার মসজিদে হেঁটে যাওয়া এবং নামাজ আদায় করা বাড়তি সওয়াব হিসেবে জমা হয়। (নাসাঈ)

২. মসজিদে হেঁটে যাওয়া: ক্ষমার দিকে একেকটি পদক্ষেপ

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেছেন, আপনাদের কেউ যখন সুন্দরভাবে অজু করে এবং একমাত্র নামাজের উদ্দেশ্যেই মসজিদে আসে, তখন সে যতটি পদক্ষেপ ফেলে, প্রতিটি পদক্ষেপের বদলে আল্লাহ তায়ালা তার মর্যাদা এক ধাপ বাড়িয়ে দেন এবং তার একটি করে পাপ ক্ষমা করে দেন, যতক্ষণ না সে মসজিদে প্রবেশ করে। মসজিদে প্রবেশ করার পর যতক্ষণ সে নামাজের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে নামাজের অবস্থাতেই গণ্য করা হয়। (ইবনে মাজাহ)

৩. নামাজ: নিশ্চিত আত্মশুদ্ধি

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করলেন, ধরো তোমাদের কারও বাড়ির দরজার সামনে একটি নদী আছে এবং সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তার শরীরে কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে?

তারা বললেন, না, তার শরীরে কোনো ময়লার দাগও থাকবে না।

তখন মহানবী (সা.) বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণ হলো এমন। এর মাধ্যমেই আল্লাহ তায়ালা বান্দার সমস্ত গুনাহ মুছে দেন। (বুখারি ও মুসলিম)

৪. নামাজ পরবর্তী জিকির: ক্ষমা লাভের সীমাহীন সুযোগ

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার এবং আল্লাহু আকবার ৩৩ বার পড়ে এবং একশ বার পূর্ণ করতে এই দোয়া পাঠ করে,—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইইন কাদির।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই। তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। রাজত্ব একমাত্র তারই এবং সমস্ত প্রশংসাও তার। তিনি সব কিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

তার সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, এমনকি তা যদি সমুদ্রের ফেনা পরিমাণও হয়। (মুসলিম)

৫. ক্ষমার উন্মুক্ত দ্বার

জায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং তাতে কোনো ভুল বা খেয়াল হারিয়ে না ফেলে সম্পূর্ণ মনোযোগী থাকে, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (আবু দাউদ)

সর্বশেষ কথা হলো, এই পুরস্কারগুলো অর্জন করতে হলে আমাদের নামাজের গুণগত মানের দিকে নজর দিতে হবে, সেই সাথে নামাজের আগের ও পরের কাজগুলোও একইভাবে মনোযোগ দিয়ে করতে হবে। কোনো কঠিন দাগ তুলতে যেমন শক্তিশালী ও কার্যকর ডিটারজেন্টের প্রয়োজন হয়, তেমনি আপনার নামাজের শক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে একাগ্রতা, বিনয় এবং নিষ্ঠার সাথে তা সেরা উপায়ে আদায় করতে হবে। এই বিষয়গুলোর প্রতি সঠিক মনোযোগ দিলে ইনশাআল্লাহ সারা জীবন আপনি আত্মিক বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে পারবেন।

এনটি