বিজ্ঞাপন

কোরআন তিলাওয়াতের সময় যে ৭ ভুল করবেন না

কোরআন তিলাওয়াতের সময় যে ৭ ভুল করবেন না

বিশুদ্ধ উচ্চারণে কোরআন তিলাওয়াত জরুরি। উচ্চারণে ভুল হলে অর্থ পরিবর্তন হতে পারে এবং এতে গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোরআন তিলাওয়াতের সময় তাজবিদগত ভুল থেকে দূরে থাকা উচিত। কোরআন তিলাওয়াতের সময় সচরাচর ঘটে এমন সাতটি ভুল এবং তা শুধরে নেওয়ার সঠিক উপায় তুলে ধরা হলো:

১. কাছাকাছি উচ্চারণের বর্ণগুলোর মধ্যে গুলিয়ে ফেলা

এই ভুলটি  সবচেয়ে মারাত্মক ভুল। কারণ আরবি ভাষায় মাত্র একটি অক্ষরের পরিবর্তনের কারণে পুরো শব্দের অর্থই বদলে যেতে পারে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো ‘ক্বলব’ (قلب), যার অর্থ হৃদয় বা অন্তর। কিন্তু এই গভীর ও ভারী ‘ক্বাফ’ অক্ষরটিকে যদি হালকা ‘কাফ’ হিসেবে উচ্চারণ করা হয়, তবে তা হয়ে যায় ‘কালব’ (كلب)—যার অর্থ কুকুর। একইভাবে ‘দ্বাদ’ ও ‘দাল’ কিংবা ‘সীন’ ও ‘সোয়াদ’-এর মতো বর্ণগুলোর উচ্চারণে অনারব পাঠকরা প্রায় বিভ্রান্তিতে পড়েন।

মুক্তির উপায়: অক্ষরের মাখরাজ বা উচ্চারণের সঠিক স্থান থেকে অনুশীলন শুরু করা উচিত। যেসব অক্ষরের উচ্চারণে সমস্যা হয়, সেগুলোকে পাশাপাশি রেখে চর্চা করা এবং জিহ্বা ও ঠোঁটের অবস্থান নিশ্চিত করতে আয়নার সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

২. গুন্নাহ এড়িয়ে যাওয়া

নির্দিষ্ট কিছু নিয়মে ‘নূন’ ও ‘মীম’ অক্ষরের ক্ষেত্রে নাসিক্য সুরের সাহায্যে দুই মাত্রা পরিমাণ গুন্নাহ করতে হয়। তাড়াহুড়ো করে তিলাওয়াত করতে গিয়ে এই গুন্নাহ না করলে তিলাওয়াতের স্বাভাবিক মাধুর্য নষ্ট হয়ে যায়।

মুক্তির উপায়: বিশ্বখ্যাত কারীদের তেলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নিয়ম অনুযায়ী যেখানে গুন্নাহ আসবে, সেখানে মনে মনে দুই মাত্রা গুণতে থাকা। ধীরগতির তিলাওয়াত এই অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে, গতি পরে এমনিতেই চলে আসে।

৩. মাদ্দ বা দীর্ঘায়িত উচ্চারণে তারতম্য

একটি দীর্ঘ স্বরবর্ণকে চার মাত্রা টেনে পরেরটিকে মাত্র দুই মাত্রা টানা তিলাওয়াতের ছন্দ নষ্ট করে ফেলে। স্বশিক্ষিত বা নিজের চেষ্টায় শেখা পাঠকদের মধ্যে এই ভুলটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এর চেয়েও ক্ষতিকর বিষয় হলো, যেখানে দীর্ঘ করার কথা নয় সেখানে মাদ্দ যুক্ত করলে শব্দের অর্থই বদলে যেতে পারে।

মুক্তির উপায়: মাদ্দের প্রধান ধরণ ও সেগুলোর মাত্রার নিয়মগুলো শিখে নেওয়া জরুরি। এরপর নিয়মটি অভ্যাসে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত তিলাওয়াতের সময় আঙুল দিয়ে বা মনে মনে মাত্রা গণনা করার চর্চা করা যেতে পারে।

৪. ক্বালক্বলাহ ভুলে যাওয়া

ক্বাফ, ত্বা, বা, জীম ও দাল—এই পাঁচটি বর্ণে সাকিন থাকলে সেখানে একটি মৃদু প্রতিধ্বনি বা 'বাউন্স' তৈরি করতে হয়। তবে অনেক পাঠকই এই ধ্বনিটিকে স্পষ্টভাবে উচ্চারণ না করে গিলে ফেলেন।

মুক্তির উপায়: ক্বালক্বলাহের পাঁচটি অক্ষর মুখস্থ রাখা এবং এটি স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত অনুশীলনের সময় কিছুটা স্পষ্ট করে প্রতিধ্বনি তৈরি করা।

৫. ভারী ও হালকা বর্ণের নিয়মে অবহেলা করা 

‘খা’, ‘সোয়াদ’ ও ‘ত্বা’-এর মতো ভারী বর্ণগুলোকে খুব হালকাভাবে কিংবা সাধারণ হালকা বর্ণগুলোকে অতিরিক্ত ভারী করে উচ্চারণ করা একটি সূক্ষ্ম ভুল। এই ভুল দেখলেই বোঝা যায় যে পাঠক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পাননি।

মুক্তির উপায়: অক্ষরের সিফাত বা বৈশিষ্ট্যগুলো ভালোভাবে অনুধাবন করা এবং প্রতিদিন অন্তত পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে ভারী ও হালকা বর্ণের পৃথক অনুশীলন করা।

৬. ভুল স্থানে থামা ও পুনরায় শুরু করা

কোনো আয়াতের মাঝে অসামঞ্জস্যপূর্ণ স্থানে থেমে যাওয়া কিংবা অদ্ভুত কোনো স্থান থেকে পুনরায় পড়া শুরু করলে বাক্যের অর্থের গতি ও মূল বার্তা বিকৃত হয়ে যেতে পারে। ঠিক এই সমস্যা এড়াতেই ওয়াকফ ও ইবতিদার নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুক্তির উপায়: পবিত্র কোরআনে মুদ্রিত বিভিন্ন বিরামচিহ্নগুলোর কাজ জেনে নেওয়া। এসব চিহ্নই নির্দেশ করে দেয় যে কোথায় থামা আবশ্যক, কোথায় থামার অনুমতি আছে আর কোথায় থামা অনুচিত।

৭. দিকনির্দেশনা ছাড়া একা একা চর্চা করা

কোরআন শিক্ষার একটি তিতা সত্য হলো, নিজের ভুল কেউ নিজে ধরতে পারে না। তাজবিদ বরাবরই একটি মৌখিক বিদ্যা, যা শিক্ষকের কাছ থেকে শিষ্যের কাছে হস্তান্তরিত হয়ে আসছে। কারণ একজন দক্ষ শিক্ষকের কান যে ভুলটি ধরে ফেলতে পারে, তা নিজের পক্ষে বোঝা অসম্ভব।

মুক্তির উপায়: নিজের তিলাওয়াত রেকর্ড করে কোনো প্রখ্যাত কারীর তেলাওয়াতের সাথে মিলিয়ে দেখা যেতে পারে। তবে সবচেয়ে উত্তম হলো নিয়মিত একজন সার্টিফায়েড শিক্ষকের কাছে পড়া, যিনি তাৎক্ষণিক ভুল ধরিয়ে দিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন।

এনটি

বিজ্ঞাপন