বিজ্ঞাপন

বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপ, সংস্কারের পর আবার আজান হলো মসজিদে

বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপ, সংস্কারের পর আবার আজান হলো মসজিদে

দীর্ঘদিন পর আবারও আজানের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে দামেস্কের দক্ষিণে অবস্থিত ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির ইয়ারমুকের আল-কুদস মসজিদ। সিরিয়ার আসাদ সরকার ও তার রুশ মিত্রদের ভারী বোমাবর্ষণে মসজিদটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। তবে তুরস্কের একটি মানবিক সহায়তা সংস্থার উদ্যোগে সংস্কারের পর নতুন করে চালু করা হয়েছে মসজিদটি। দীর্ঘ দিন পর মসজিদটি আজান চালুর বিষয়টিকে এই শিবিরের ফিলিস্তিনিদের ঘুরে দাঁড়ানো ও দৃঢ় উপস্থিতির অনন্য প্রতীক।

আসাদ সরকার ও তার মিত্র রাশিয়ার ভয়াবহ বোমাবর্ষণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণে অবস্থিত এই শরণার্থী শিবিরের আল-কুদস মসজিদ। তুর্কি মানবিক সহায়তা সংস্থা ‘মাভি মারমারা ফ্রিডম অ্যান্ড সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন’ এবং ‘ইনেগোল হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যাসোসিয়েশন’-এর যৌথ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় নতুন রূপ পেয়েছে মসজিদটি। কয়েক দশকের বাস্তুচ্যুতি ও যুদ্ধের ভয়াবহতা সহ্য করা একটি সম্প্রদায়ের জন্য এই মসজিদের পুনঃউদ্বোধন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মুহূর্ত।

ফিলিস্তিনিদের জন্য ইয়ারমুক একসময় অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতো, যেখানে হাজার হাজার শরণার্থী ও প্রখ্যাত প্রতিরোধ যোদ্ধারা বসবাস করতেন। ফাতহি শিকাকি, খলিল আল-ওয়াজির (আবু জিহাদ), খালেদ মেশাল এবং আহমেদ জিবরিলের মতো প্রভাবশালী নেতারা তাদের জীবনের বিভিন্ন সময়ে এই শিবিরে অবস্থান করেছেন। আল-কুদস মসজিদটি শুধু ইবাদতের স্থান ছিল না। মসজিদটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও কৌশলগত বৈঠকের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে শিবিরের মানুষের স্মৃতিতে গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধে এই অঞ্চলের যে ক্ষতি হয়েছে, তা শুধু ইট-পাথরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না—ইচ্ছাকৃত বোমাবর্ষণের মাধ্যমে এই এলাকার পুরো ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধ্বংস করা হয়েছিল।

মসজিদটির পুনর্নির্মাণে প্রায় এক বছর সময় লেগেছে। এ সময় তুর্কি স্থপতি ও প্রকৌশলীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে মসজিদের ভেতর ও বাইরের সংস্কার কাজ চালিয়ে যান। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা ও সাউন্ড সিস্টেম সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন করা হয়েছে এবং অজুখানা ও শৌচাগারগুলো নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারবেন এমন ক্ষমতাসম্পন্ন এই মসজিদটি স্থানীয় ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তুর্কি ও সিরীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ একে পার্টির ইস্তাম্বুলের এমপি হাসান তুরান, দামেস্কে তুর্কি দূতাবাসের কর্মকর্তা, দামেস্কের উপ-গভর্নর মুয়াজ আল যায়য়াত এবং বিভিন্ন মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাসান তুরান জোর দিয়ে বলেন, এই আয়োজন শুধু কোনো স্থাপনার পুনর্নির্মাণ নয়। তিনি বলেন, আজ আমরা শুধু একটি মসজিদ উদ্বোধন করছি না; আমরা আমাদের ভ্রাতৃত্বকে পুনর্গঠন করছি এবং নতুন করে আশা জাগিয়ে তুলছি। 

মাভি মারমারার সভাপতি বেহেস্তি ইসমাইল সোঙ্গুর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উঠে আসা এই মুহূর্তের আবেগঘন স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, প্রায় এক বছর ধরে তুর্কি স্থপতি ও প্রকৌশলীরা এই অঞ্চলে দিনরাত কাজ করেছেন। আজ আমরা এর ঐতিহাসিক স্মৃতিকে অক্ষুণ্ণ রেখে একে পুনর্নির্মাণ করতে পেরেছি। এই মসজিদ এলাকার সামাজিক জীবনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখবে। 

অন্যদিকে ৬০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি মুসল্লি মুহাম্মদ জুমা আতিয়্যাহ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই ইবাদতখানা সংস্কারে যাদের অবদান রয়েছে, আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুন। আমি বিশ্বাস করি, একদিন আমরা মুক্ত ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সালাত আদায় করব।

সূত্র : ইয়েনি শাফাক

এনটি