বিজ্ঞাপন

বিপদ-আপদে ধৈর্য ধরবেন যেভাবে

বিপদ-আপদে ধৈর্য ধরবেন যেভাবে

পৃথিবীর এই জীবন কখনোই সরল রেখায় চলে না। জীবন কখনো সম্পূর্ণ ঝামেলামুক্ত বা মসৃণ নয়। দুঃখ-কষ্ট, কঠিন সময়, বিপদ-আপদ ও পরীক্ষা— যেন এক অনাহূত মেহমান। মানুষের সাথে মহান আল্লাহর নির্ধারিত এই বিধানে কোনো পরিবর্তন ঘটে না। পবিত্র কোরআনে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা এই সত্য নিশ্চিত করে সূরা আল-বালাদের ৪ নম্বর আয়াতে বলেছেন, আমি মানুষকে কষ্ট ও সংগ্রামের ভেতরেই সৃষ্টি করেছি। এই দুনিয়ায় মানুষকে নানা কষ্ট ও বিপদের মুখোমুখি হতে হয়, আর এটাই স্বাভাবিক। 

আল্লাহ তায়ালা আমাদের জীবনকে মানুষের আত্মা পরিশোধনের এবং মুনাফিকদের থেকে সত্যবাদীদের পৃথক করার এক মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। 

প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতি মানুষের ঈমানের কষ্টিপাথর। বিপদে ধৈর্যশীলদের ধৈর্য ও সততার পরীক্ষা নেওয়া হয়, যাতে সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী এবং ধৈর্যশীল ও শুকরিয়া আদায়কারীদের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, আলিফ-লাম-মীম। মানুষ কি মনে করে যে ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছি। ফলে আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং কারা মিথ্যাবাদী। তার অপরিসীম প্রজ্ঞায় আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের পরীক্ষা করেন, যেন ধৈর্যশীলদের নিজের কাছে টেনে নেন এবং নিজ অনুগ্রহে পুরস্কৃত করেন, আর অসন্তুষ্টদের তার মহান অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত করেন। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কষ্ট যত বেশি, পুরষ্কারও তত বড়। আল্লাহ যখন কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসেন, তখন তাদের পরীক্ষায় ফেলেন। সুতরাং যে দুঃখ-কষ্টে আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার রয়েছে; আর যে অসন্তুষ্ট হয়, তার জন্য রয়েছে অসন্তোষ। তাই নিজেকে বোঝানো উচিত, দুনিয়া এক পরীক্ষার ঘর, এখানে পরীক্ষা দিতেই হবে। 

বিপদের মুহূর্তে নিজের মনকে শান্ত রাখতে হবে। আল্লাহ অবশ্যই ধৈর্যের প্রতিদান দেবেন। মনে রাখতে হবে আল্লাহর অনুগ্রহের ভাণ্ডার কখনো শেষ হয় না। তিনি যা কেড়ে নেন, তার চেয়ে অনেক উত্তম কিছু ফিরিয়ে দেন। 

হজরত মুসা ও হজরত খিজির (আ.)-এর ঘটনা আমাদের জন্য প্রজ্ঞা ও শিক্ষার উৎস। বাহ্যিক দৃষ্টিতে মুসা (আ.)-এর কাছে মনে হয়েছিল ভয়াবহ বিপদ, বাস্তবে তা ছিল আল্লাহর রহমত ও মুক্তি।

হজরত মুসা ও হজরত খিজির (আ.)-এর ঘটনায় যদি নৌকাটিতে ছিদ্র করা না হতো তবে তা ছিনতাই হয়ে যেত, যদি সেই বালকটিকে হত্যা না করা হতো তবে সে তার মা-বাবাকে কষ্টে ফেলত, আর যদি সেই দেয়ালটি মেরামত করা না হতো তবে দুই এতিম শিশুর প্রাপ্য অধিকার নষ্ট হত। তাই তাড়াহুড়ো না করে নিজের বিষয়গুলো আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। 

আল্লাহ যখন প্রিয় কোনো জিনিস থেকে বঞ্চিত করেন, তখন দুঃখ না পেয়ে সান্ত্বনা খুঁজতে হবে কোরআনের সেই বাণীতে যেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, হতে পারে তোমরা যা অপছন্দ করছ তা-ই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, আর হতে পারে তোমরা যা ভালোবাসো তা-ই তোমাদের জন্য ক্ষতিকর। আল্লাহ জানেন, কিন্তু তোমরা জানো না। 

এনটি