বিজ্ঞাপন

কিছু মানুষ বেশিরভাগ সময় বিপদ-আপদে ডুবে থাকে কেন?

কিছু মানুষ বেশিরভাগ সময় বিপদ-আপদে ডুবে থাকে কেন?

সুখ-দুঃখ, বিপদ-আপদ মানুষের জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা। ইসলামের দৃষ্টিতে বিপদ-আপদ মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। এসবে আল্লাহর পক্ষ থেকে হিকমত ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে। মানুষের দায়িত্ব হলো আল্লাহর ফয়সালার ওপর বিশ্বাস রাখা এবং কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করা।

কিছু মানুষের জীবনে অন্যদের তুলনায় বিপদ-আপদ বেশি থাকে কেন?

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। ঈমানের অন্যতম মৌলিক বিষয় হলো আল্লাহর নির্ধারিত তাকদিরে বিশ্বাস করা—তা ভালো হোক বা মন্দ। অনেক সময় আমরা কোনো বিষয়কে খারাপ মনে করি, অথচ বাস্তবে তাতে অনেক কল্যাণ লুকিয়ে থাকে। আবার কখনো কোনো বিষয়কে ভালো মনে করি, অথচ তার মধ্যে অনেক ক্ষতি থাকতে পারে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমাদের জন্য যুদ্ধের বিধান দেওয়া হয়েছে, যদিও তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। হতে পারে, তোমরা এমন কোনো বিষয় অপছন্দ করছ, অথচ তাতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আবার হতে পারে, তোমরা এমন কোনো বিষয় পছন্দ করছ, অথচ তাতে তোমাদের জন্য অকল্যাণ রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না। (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২১৬)

আল্লাহ যেভাবে সামগ্রিক বিষয়টি দেখেন, আমরা কখনোই সেভাবে দেখতে পারব না। মানবজাতি, পৃথিবী এবং পুরো মহাবিশ্বের জন্য তারপরিকল্পনা রয়েছে এবং তার ইচ্ছাই বাস্তবায়িত হবে। নিরপরাধ মানুষের জীবনে যা কিছু ঘটতে দেখি, তা নিয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা বা তার প্রজ্ঞাকে প্রশ্ন করার অবস্থানে আমরা নেই। আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য।

আল্লাহ বলেন, তোমরা কি মনে করেছ, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ তোমাদের আগে যারা চলে গেছে তাদের মতো বিপদ-আপদ তোমাদের ওপর আসেনি? তাদের ওপর দুর্দশা ও কষ্ট এসেছিল এবং তারা এতটাই বিচলিত হয়েছিল যে নবী ও তার সঙ্গে থাকা মুমিনরা বলে উঠেছিলেন, আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে? জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২১৪)

আল্লাহ আরও বলেন, মানুষ কি মনে করে, তারা শুধু এই কথা বললেই ছেড়ে দেওয়া হবে যে আমরা ঈমান এনেছি, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? তাদের আগের লোকদেরও আমি পরীক্ষা করেছি। আল্লাহ অবশ্যই প্রকাশ করে দেবেন কারা সত্যবাদী এবং কারা মিথ্যাবাদী। (সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ২-৩)

মুসলিম হিসেবে আমরা মৃত্যুকেকোনো বিপর্যয় হিসেবে দেখি না। আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং অবশ্যই একদিন আমাদের মৃত্যু হবে। আমরা তারই এবং তার কাছেই ফিরে যাব। এ বিষয়ে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। বরং আমাদের হাতে যে সময়টুকু রয়েছে, তা দিয়ে আমরা কী করছি, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা কেউই জানি না, প্রকৃতপক্ষে আমাদের হাতে কতটা সময় আছে। তাই নিজেদের জন্য কিংবা অন্যদের জন্য—তারা মুমিন হোক বা অমুসলিম—ভালো কোনো কাজ না করে যেন একটি দিনও পার না হয়।

আল্লাহ কারও প্রতি জুলুম করেন না। তিনি বলেন, আল্লাহ কোনো প্রাণীকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যে ভালো কাজ করে, তার সুফল সে পাবে এবং যে মন্দ কাজ করে, তার শাস্তিও সে ভোগ করবে। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যদি ভুলে যাই কিংবা অনিচ্ছাকৃত ভুল করি, তাহলে আমাদের পাকড়াও করো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর যেমন বোঝা চাপিয়েছিলে, আমাদের ওপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়ো না। হে আমাদের প্রতিপালক! এমন কোনো দায়িত্ব আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ো না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের পাপগুলো ক্ষমা করো, আমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হও এবং আমাদের ওপর রহমত বর্ষণ করো। তুমিই আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক। অতএব সত্য অস্বীকারকারী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করো। (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৮৬)

আমরা আল্লাহর এই প্রতিশ্রুতির ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি যে, ভালো কাজের প্রতিদান এমনভাবে দেওয়া হবে, যা আমাদের কল্পনা বা প্রাপ্যতার সীমারও বাইরে। একইভাবে মন্দ কাজের শাস্তিও হবে আমাদের কল্পনার বাইরে, তবে তা হবে যথাযথ ও ন্যায্য।

আমাদের চোখে যেসব মানুষকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে দেখা যায়, তাদের জীবন যে সমস্যামুক্ত বলে মনে হচ্ছে, তার অর্থ এই নয় যে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। পার্থিব সাফল্য ও ভোগ-বিলাসকে সবসময় আল্লাহর ভালোবাসা বা পুরস্কারের নিদর্শন মনে করা উচিত নয়। বরং এর বিপরীতও হতে পারে। আল্লাহ তাদের ইচ্ছামতো সবকিছু দুনিয়াতেই দিয়ে দিচ্ছেন, অথচ শেষ পর্যন্ত কিয়ামতের দিন তারা আল্লাহর রহমত থেকে কিছুই অর্জন করতে পারেনি—এমনও হতে পারে।

এর অর্থ অবশ্য এই নয় যে তাদের মধ্যে কোনো ভালো দিক নেই। পৃথিবীতে অনেক ধনী, দয়ালু ও ঈমানদার মানুষ রয়েছেন। তবে তাদের সম্পদ তাদের অন্য কারও চেয়ে শ্রেষ্ঠ করে তোলে না, যতক্ষণ না সেই সম্পদের সঙ্গে সৎকর্মও থাকে।

এনটি