ঘরে মেহমান এলে শুধু তার খাবার-দাবার, ক্ষুধা নিবারণের কথা ভাবলে চলে না, ভাবতে হয় তার সম্মান ও স্বস্তির কথাও। সাহাবিদের জীবনে এমন মেহমানদারির অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। তাদের জীবনের ছোট ছোট ঘটনাতেও ফুটে উঠেছে আতিথেয়তা, সৌজন্য ও উত্তম চরিত্রের সৌন্দর্য।
সেই যুগে মসজিদে নববীর পাশে সুফফা নামে একটি বিশেষ স্থান ছিল। নবীজি (সা.)-এর কক্ষগুলোর কাছাকাছি এই স্থানে আশ্রয় নিতেন এমন সাহাবিরা, যাদের পরিবার-পরিজন, বাড়ি-ঘর ছিল না। তারা ‘আহলে সুফ্ফা’ নামে পরিচিত ছিলেন।
আহলে সুফ্ফার সদস্যদের খাবার-দাবার ও সহযোগিতার ব্যাপারে সামর্থ্যবান সাহাবিদের উৎসাহিত করতেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি বলতেন, ‘দুজনের খাবার তিনজনের জন্য যথেষ্ট, তিনজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট।’ অর্থাৎ কারও কাছে দুজনের খাবার থাকলে তিনি চাইলে তার সঙ্গে আরও একজনকে নিয়ে সেই খাবার ভাগ করে খেতে পারেন। এতে একজন ক্ষুধার্ত মানুষের ক্ষুধা মিটতে পারে।
একদিন আহলে সুফফার তিনজন সাহাবিকে মেহমান হিসেবে নিজের বাড়িতে নিয়ে এলেন হজরত আবু বকর (রা.)। বাড়িতে পৌঁছে ছেলে আব্দুর রহমানকে মেহমানদারির দায়িত্ব সঁপে তিনি কিছু সময়ের জন্য নবীজির কাছে গেলেন। মেহমানদের সামনে খাবার পরিবেশন করা হলো। কিন্তু মেহমানরা খাবারে হাত দিলেন না। পথ চেয়ে রইলেন হযরত আবু বকরের (রা.) ফিরে আসার।
একটু পরে ঘরে ফিরলেন আবু বকর (রা.)। এসে দেখলেন, মেহমানরা তখনও না খেয়ে বসে আছেন। তিনি ধরে নিলেন, ছেলে আবদুর রহমান এখনো তাদের খাবার দেয়নি। তিনি ছেলের ওপর বেশ রাগ করলেন। মেহমানরা বিনয়ের সঙ্গে বললেন, ‘হে আবু বকর! আপনি উপস্থিত না থাকায় খাবার গ্রহণ করতে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করিনি।’
অবশেষে খাবার সামনে এলো। মেহমানরা সবাই খেতে শুরু করলেন। কিন্তু সবার চোখে ধরা পড়লো এক বিস্ময়কর ব্যাপার। তারা যতবারই এক লোকমা খাবার তুলে নেন, ঠিক সে জায়গায় যেন আরেক লোকমা এসে যায়। খেতে বসে তারা খাবারের মধ্যে বরকত অনুভব করলেন এবং সবাই তৃপ্তি নিয়ে খাবার খেলেন।
মেহমানদারি পৃথিবীতে আগেও ছিল, আরও অনেক বেশি জৌলুস নিয়ে আগামীতেও থাকবে। কিন্তু এমন স্বতঃস্ফূর্ত আন্তরিকতা ও সম্মানবোধের দেখা কোথায় মিলবে?
