বিজ্ঞাপন

ভ্রমণের সময় যে ১০ দোয়া পড়বেন

ভ্রমণের সময় যে ১০ দোয়া পড়বেন

ভ্রমণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে এবং সৃষ্টিজগতের সৌন্দর্য উপলব্ধির সুযোগ করে দেয়। ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক নিয়তে ভ্রমণ করাও ইবাদতের অংশ হতে পারে। সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো কিছু দোয়া ও আমল করা যেতে পারে।

রাসুল (সা.)-এর বর্ণিত হাদিসের আলোকে সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে পড়ার মতো ১০টি দোয়া ও আমল তুলে ধরা হলো এখানে— 

সফরে বের হওয়ার আগে নামাজ

বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে সফরের নিয়তে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া মুস্তাহাব। বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তুমি যখন ঘর থেকে বের হবে, তখন দুই রাকাত নামাজ পড়বে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবেন। যখন ঘরে প্রবেশ করবে, তখনও দুই রাকাত নামাজ পড়বে। এর মাধ্যমেও অকল্যাণ থেকে রক্ষা পাবে। (মুসনাদে বাজ্জার)

বাড়ি থেকে বের হওয়ার দোয়া

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলে, বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। অর্থাৎ আল্লাহর নামে বের হচ্ছি, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। আল্লাহর শক্তি ছাড়া কোনো অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাকে বলা হয়, তোমার জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে এবং তোমাকে রক্ষা করা হয়েছে। আর শয়তান তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। (সুনানে তিরমিজি)

যানবাহনে উঠার দোয়া

সফরে বের হওয়ার সময় যানবাহনে উঠার আগে প্রিয় নবীর (সা.) শেখানো দোয়া পড়া মুস্তাহাব। দোয়াটি হলো,

سُبْحَانَ الذي سَخَّرَ لَنَا هذا، وَما كُنَّا له مُقْرِنِينَ، وإنَّا إلى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ

উচ্চারণ : সুবহানাল্লাজি সাখখারা লানা হাজা, ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনিন। ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনকালিবুন।

অর্থ: আল্লাহর নামে এবং সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তিনি কতই না পবিত্র, যিনি এই বাহনকে আমাদের অনুগত করে দিয়েছেন। অথচ আমরা নিজেরা কখনোই এটিকে বশে আনতে সক্ষম হতাম না। আর নিশ্চয়ই আমাদের রবের কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। (সহিহ মুসলিম)

সফরের দোয়া

বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে দুই রাকাত নফল নামাজের পর অথবা গন্তব্যের পথে সফরের যেকোনো সময় নিচের দোয়াটি পড়া যায়।

اللَّهُمَّ إنَّا نَسْأَلُكَ في سَفَرِنَا هذا البِرَّ وَالتَّقْوَى، وَمِنَ العَمَلِ ما تَرْضَى، اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هذا، وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ، اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ في السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ في الأهْلِ، اللَّهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بكَ مِن وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ المَنْظَرِ، وَسُوءِ المُنْقَلَبِ في المَالِ وَالأهْلِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফারিনা হাজাল বিররা ওয়াত তাকওয়া, ওয়া মিনাল আমালি মা তারদা। আল্লাহুম্মা হাওয়িন আলাইনা সাফারানা হাজা, ওয়াতউই আন্না বুদআহু। আল্লাহুম্মা আনতাস সাহিবু ফিস সাফারি ওয়াল খলিফাতু ফিল আহলি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিন ওয়াসআসিস সফর, ওয়া কাবাতিল মানজার, ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল মালি ওয়াল আহলি।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমরা আমাদের এই সফরে আপনার কাছে পুণ্য, তাকওয়া এবং এমন আমল চাই, যা আপনি পছন্দ করেন। হে আল্লাহ, আমাদের জন্য এই সফর সহজ করে দিন এবং এর দূরত্ব আমাদের জন্য সংক্ষিপ্ত করে দিন। হে আল্লাহ, সফরে আপনিই আমাদের সঙ্গী এবং আমাদের অনুপস্থিতিতে পরিবারের অভিভাবক। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সফরের কষ্ট, দুঃখজনক দৃশ্য এবং সম্পদ ও পরিবারের ক্ষেত্রে অকল্যাণকর পরিণতি থেকে আশ্রয় চাই। (সহিহ মুসলিম)

গন্তব্যে পৌঁছানোর পর দোয়া

সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো শহর বা জনপদে প্রবেশের সময় শহর বা জনপদ দেখে নিচের দোয়াটি পড়তেন।

اللّـهُمَّ رَبَّ السَّـمَوَاتِ السّـبْعِ وَمَا أَظْلَلْنَ، وَرَبَّ الأَرَاضِيـنَ السّـبْعِ وَما أقْلَلْنَ، وَرَبَّ الشَّيَـاطِينِ وَمَا أَضْلَلْنَ، وَرَبَّ الرِّياحِ وَمَا ذَرَيْـنَ، أَسْـأَلُـكَ خَيْـرَ هذهِ الْقَـرْيَةِ وَخَيْرَ أَهْلِـهَا، وَخَيْـرَ مَا فِيْهَا، وَأَعُـوذُ بِكَ مِنْ شَـرِّها وَشَـرِّ أَهْلِـها، وَشَـرِّ مَا فِيْهَا

আল্লাহুম্মা রব্বাস সামাওয়াতিস সাবই ওয়া মা আজলালনা, ওয়া রব্বাল আরাদিনাস সাবই ওয়া মা আকালনা, ওয়া রব্বাশ শায়াতিনি ওয়া মা আযলালনা, ওয়া রব্বর রিয়াহি ওয়া মা জারাইনা। আসআলুকা খাইরা হাজিহিল কারিয়াতি ওয়া খাইরা আহলিহা, ওয়া খাইরা মা ফিহা। ওয়া আউজুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি আহলিহা, ওয়া শাররি মা ফিহা।

অর্থ: হে আল্লাহ, সাত আকাশ ও তাতে যা কিছু রয়েছে তার রব, সাত পৃথিবী ও তাতে যা কিছু রয়েছে তার রব, শয়তান ও যাদের সে পথভ্রষ্ট করেছে তাদের রব এবং বাতাস ও যা কিছু সে উড়িয়ে নিয়ে যায় তার রব। আমি আপনার কাছে এই জনপদের কল্যাণ, এর অধিবাসীদের কল্যাণ এবং এতে বিদ্যমান সব কল্যাণ চাই। আর এই জনপদের অকল্যাণ, এর অধিবাসীদের অকল্যাণ এবং এতে বিদ্যমান সব অকল্যাণ থেকে আপনার আশ্রয় চাই। (সুনানে নাসায়ি)

যেখানে অবস্থান করবেন সেখানে প্রবেশের দোয়া

হোটেল বা অন্য কোনো স্থানে থাকার সময় এর আগে সেখানে কে অবস্থান করেছে কিংবা সেখানে কী ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা জানি না। তাই এর ক্ষতিকর দিক থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য হাদিসে বর্ণিত নিচের দোয়াটি পড়া যেতে পারে।

খাওলা বিনতে হাকিম আস-সুলাইমিয়্যাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো স্থানে অবস্থান করে এরপর বলে, 

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।

অর্থ: আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে আমি তার সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই—সে ওই স্থান ত্যাগ করা পর্যন্ত কোনো কিছু তাকে ক্ষতি করতে পারবে না। (সহিহ মুসলিম)

কোনো বিপদগ্রস্ত বা অসুস্থকে দেখলে দোয়া পড়া

ভ্রমণের সময় আমরা বিভিন্ন ধরনের মানুষের মুখোমুখি হতে পারি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থতা বা কোনো প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত থাকতে পারেন। তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো, সহযোগিতা করা এবং তাদের জন্য দোয়া করা প্রশংসনীয়। পাশাপাশি নিজেদের এমন পরীক্ষা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিচের দোয়াটি পড়ার কথাও বলা হয়েছে।

الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهِ، وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلًا, لم يُصِبْهُ ذلك البلاءُ

আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আফানি মিম্মাবতালাকা বিহি, ওয়া ফাদ্দালানি আলা কাছিরিম মিম্মান খালাকা তাফদিলা।

অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তোমাকে যে পরীক্ষায় আক্রান্ত করেছেন, তা থেকে আমাকে নিরাপদ রেখেছেন এবং তার সৃষ্টির অনেকের ওপর আমাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ)

সফরে কোনো সমস্যায় পড়লে দোয়া পড়া

ভ্রমণের সময় অনেক সময় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। এ সময় সর্বোত্তম জিকিরগুলোর একটি হলো আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহ ও ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাওয়া বা ইস্তিগফার করা।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করবে বা আসতাগফিরুল্লাহ পড়বে, আল্লাহ তার প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করবেন, প্রতিটি সংকট থেকে বের হওয়ার পথ করে দেবেন এবং এমন জায়গা থেকে তাকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। (মুসনাদে আহমদ)

বাড়ি ফেরার সময়ের দোয়া

বাড়ি ফেরার সময় আগে নিচে উল্লেখিত সফরের দোয়াটি পড়া মুস্তাহাব

آيبونَ تائبونَ عابدونَ لربِّنا حامِدون

আয়িবুনা, তায়িবুনা, আবিদুনা, লিরব্বিনা হামিদুন।

অর্থ: আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, আমাদের রবের ইবাদতকারী এবং তার প্রশংসাকারী। (সহিহ মুসলিম)

বাড়ি ফেরার পর নামাজ

সফরে বের হওয়ার সময় বাড়ি থেকে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া যেমন মুস্তাহাব, তেমনি সফর শেষে বাড়ি ফিরে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়াও মুস্তাহাব। 

এনটি