কোরআন শুধু একটি গ্রন্থ নয়, মানুষের জীবন পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ পায়, অন্তরে প্রশান্তি অনুভব করে এবং পরকালে কোরআনের সুপারিশ লাভের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে। তাই প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও কোরআন তিলাওয়াতের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতের তিনটি বিশেষ উপকার তুলে ধরা হলো।
আল্লাহর পরিজন
কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা মুমিনের জন্য বিশেষ মর্যাদার বিষয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে কিছু আল্লাহর পরিজন রয়েছে। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা? তিনি বললেন, তারা কোরআনের পরিজন, তারাই আল্লাহর বিশেষজন।
কোরআন তিলাওয়াত, শেখা, বোঝা ও সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করতে পারে। তাই কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু রমজান বা বিশেষ কোনো সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর অব্যাহত রাখা উচিত। প্রতিদিন অল্প হলেও নিয়মিত তিলাওয়াত করা এবং আয়াতের অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টা করা কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার অন্যতম উপায়।
পরকালে কোরআনের সুপারিশ
কোরআনের সঙ্গে সম্পর্কের অন্যতম বড় পুরস্কার হলো কিয়ামতের দিন এর সুপারিশ লাভ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা কোরআন তিলাওয়াত করো। কারণ কিয়ামতের দিন এটি তার সঙ্গীদের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে।
দুনিয়ায় মানুষ নানা ধরনের সুপারিশের আশায় থাকে। কিন্তু পরকালের কঠিন সময়ে কোরআনের সুপারিশ মুমিনের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। যারা দুনিয়ায় কোরআন তিলাওয়াত করেছে, তার শিক্ষা গ্রহণ করেছে এবং জীবনে তা অনুসরণ করার চেষ্টা করেছে, তাদের জন্য কোরআনের সঙ্গে এই সম্পর্ক বিশেষ মর্যাদার কারণ হতে পারে।
তাই কোরআনকে শুধু তাকের ওপর সাজিয়ে রাখা কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানে তিলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিদিনের জীবনের অংশ করে নেওয়া উচিত। নিয়মিত তিলাওয়াতের মাধ্যমে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক যত দৃঢ় হবে, এর শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়নের সুযোগও তত বাড়বে।
অন্তরের প্রশান্তি
মানুষের জীবনে দুশ্চিন্তা, হতাশা ও নানা ধরনের মানসিক অস্থিরতা আসতেই পারে। অর্থ, পরিবার, কর্মজীবন কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে অনেক সময় মানুষের অন্তর অশান্ত হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে কোরআন মুমিনের জন্য প্রশান্তির অন্যতম উৎস হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।
কোরআন তিলাওয়াত আল্লাহর স্মরণের অন্যতম মাধ্যম। মনোযোগ দিয়ে কোরআন পড়া এবং এর আয়াতের অর্থ নিয়ে চিন্তা করা অন্তরকে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত করে। এতে দুশ্চিন্তার মধ্যেও একজন মুমিন আল্লাহর ওপর ভরসা ও তাঁর সাহায্যের আশা করতে পারে।
তাই ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াতের জন্য কিছু সময় নির্ধারণ করা উচিত। অল্প কয়েকটি আয়াত হলেও নিয়মিত তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুললে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক যেমন দৃঢ় হবে, তেমনি তা মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনুভূতি তৈরি করবে।
এনটি
