বিজ্ঞাপন

জমজমের পানি দিয়ে অজু, গোসল করা যাবে?

জমজমের পানি দিয়ে অজু, গোসল করা যাবে?

মক্কার মসজিদুল হারাম প্রাঙ্গণে অবস্থিত কল্যাণ ও বরকতময় পানির নাম জমজম। হজ ও ওমরাহ আদায়কারীর জন্য এবং পৃথিবীর সব মুসলমানের জন্য জমজমের পানি পান করা মুস্তাহাব। নবীজি (সা.) নিজে জমজমের পানি পান করেছেন। হজরত আবু জর (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘জমজমের পানি বরকতময়, স্বাদ অন্বেষণকারীর খাদ্য।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৪৭৩)

আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের সঙ্গে পাত্রে ও মশকে করে জমজমের পানি বহন করতেন। তা অসুস্থদের ওপর ছিটিয়ে দিতেন এবং তাদের পান করাতেন। (সুনানে তিরমিজি) 

জমজমের পানি পান করার সুন্নত নিয়ম হলো, কিবলামুখী হওয়া, বিসমিল্লাহ বলা, তিন শ্বাসে পান করা, পরিতৃপ্ত হওয়া, শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা।  জমজমের পানি পান করার সময় একটি বড় কাজ হলো দোয়া করা। 

জমজমের পানি দিয়ে অজু ও গোসল করা যাবে?

আগে থেকেই অজু আছে এবং পবিত্র অবস্থায় আছেন এমন ব্যক্তির জন্য শুধু বরকতের নিয়তে জমজমে পানি দিয়ে নতুন করে অজু বা গোসল করা জায়েজ। পবিত্র কোনো কাপড় জমজমের পানিতে ভেজাতে চাইলে তাও জায়েজ। কিন্তু অজু নেই এমন ব্যক্তির জন্য অন্য পানি থাকা অবস্থায় জমজমের পানি দিয়ে অজু করা অথবা ফরজ গোসল করা মাকরুহ।

তবে যদি অন্য কোনো পানি না থাকে, সেক্ষেত্রে জমজমের পানি দিয়ে অজু করা যাবে। কিন্তু এমন পরিস্থিতেও জমজমের পানি দিয়ে অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করা মাকরুহ। 

তবে মনে রাখতে হবে, জমজমে পানি অত্যন্ত বরকতময় পানি, এর আদব রক্ষা করা জরুরি। জমজমের পানি পান করা ও রবকত লাভের জন্য মুখ, মাথা ও শরীরে জমজমের পানি ঢালা যেতে পারে ; কিন্তু শরীর থেকে অপবিত্র কিছু দূর করার জন্য জমজমের পানি ব্যবহার করা উচিত নয়। 

সূত্র : ফতোয়ায়ে শামী

এনটি

বিজ্ঞাপন