আল্লাহর স্মরণ অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়। (সুরা রাদ, আয়াত: ২৮)। তাই জীবনের ব্যস্ত সময়েও যেন অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে না সরে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। এমন চারটি আমল তুলে ধরা হলো, যেগুলোর মাধ্যমে একজন মানুষ সরাসরি আল্লাহ তায়ালার স্মরণে ডুবে থাকেন।
নামাজ
আল্লাহকে স্মরণ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি হলো নামাজ। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে একজন মুমিন নিয়মিত আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ পান। নামাজ বান্দার সঙ্গে তার রবের সম্পর্ক দৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। অতএব আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণের জন্য নামাজ কায়েম করো। (সুরা ত্বহা, আয়াত: ১৪)
ব্যস্ততা যতই থাকুক, সময়মতো নামাজ আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া উচিত। নামাজের মাধ্যমে শত ব্যস্ততার মধ্যে আল্লাহর জন্য আলাদা কিছু সময় বের করা সম্ভব একজন মানুষের জন্য।
কোরআন তিলাওয়াত
আল্লাহর কালাম কোরআন তিলাওয়াতও আল্লাহকে স্মরণ করার গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। কোরআন তিলাওয়াত শুধু সওয়াবের আমল নয়, তিলাওয়াত মানুষের অন্তরকে নরম করে এবং আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীর করে।
প্রতিদিন অল্প সময় হলেও কোরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস করা যেতে পারে। কর্মব্যস্ততার কারণে দীর্ঘ সময় বের করা সম্ভব না হলে কয়েকটি আয়াত পড়েও নিয়মিত এ আমল চালু রাখা যায়। তবে শুধু তিলাওয়াত নয়, কোরআনের অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টা করাও জরুরি। এতে মানুষের চিন্তা, আচরণ ও জীবনযাপনে কোরআনের প্রভাব পড়ে।
জিকির
আল্লাহকে স্মরণের সহজ ও মর্যাদাপূর্ণ আমল হলো জিকির। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহসহ বিভিন্ন জিকিরের মাধ্যমে মানুষ তার জিহ্বাকে আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত রাখতে পারে।
জিকিরের জন্য আলাদা জায়গা বা দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয় না। কাজের ফাঁকে, যাতায়াতের সময় কিংবা অবসর মুহূর্তে আল্লাহর জিকির করা যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫২)
দোয়া
দোয়া হলো বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সরাসরি সম্পর্কের অন্যতম প্রকাশ। মানুষ তার প্রয়োজন, দুশ্চিন্তা, ভয়, আশা ও আকাঙ্ক্ষার কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরে। শুধু বিপদে পড়লেই নয়, স্বাভাবিক সময়েও আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।
খাবার খাওয়া, ঘর থেকে বের হওয়া, ঘুমানো কিংবা কোনো ভালো কাজ শুরু করার সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন দোয়া শিখিয়েছেন। এসব দোয়া পড়ার মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহকে স্মরণ করা সম্ভব। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। (সুরা গাফির, আয়াত: ৬০)
এনটি
