বিজ্ঞাপন

ওয়াদি আল-মুগাম্মাস

আবরাহার হস্তী বাহিনী ধ্বংস হয়েছিল যেখানে

আবরাহার হস্তী বাহিনী ধ্বংস হয়েছিল যেখানে

মক্কা থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে অবস্থিত একটি উপত্যকা ওয়াদি আল-মুগাম্মাস। কাবা শরীফে হামলার আগে আবরাহার বাহিনী এই উপত্যকায় শিবির স্থাপন করেছিল। এখানেই কাবা অভিমুখে এগিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল আবরাহার বাহিনীর হাতি মাহমুদ।

এই উপত্যকা থেকেই আবরাহার বাহিনী রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাদা ও তৎকালীন কুরাইশ নেতা আবদুল মুত্তালিবের ২০০ উট ছিনিয়ে নিয়েছিল।

আবরাহা ছিলেন ইয়েমেনের আকসুম রাজ্যের খ্রিস্টান শাসক। কাবা শরীফ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে হাতি মাহমুদসহ একটি বিশাল বাহিনী নিয়ে মক্কার দিকে যাত্রা করেন। তায়েফের লোকেরা আবু রুগাল নামে এক ব্যক্তিকে আবরাহার বাহিনীকে মক্কার পথ দেখিয়ে দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিল।

আবরাহার বাহিনী আল-মুগাম্মাসে পৌঁছানোর পর আবু রুগাল মারা যান। সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে এ পথ দিয়ে যাতায়াতকারী লোকেরা তার কবরে পাথর ছুঁড়ে মারাতো।

আল-মুগাম্মাস ছিল কুরাইশদের উট চরানোর জায়গা। আবরাহা একটি লুটতরাজকারী দল পাঠিয়ে কুরাইশদের সম্পদ ছিনিয়ে নেয়। এর মধ্যেকুরাইশদের নেতাও নবীজির (সা.) দাদা আবদুল মুত্তালিবের ২০০ উট ছিল। 

আবরাহা মক্কায় একজন দূত পাঠিয়ে জানিয়ে দেন, তিনি মক্কার মানুষের সঙ্গে যুদ্ধ করতে আসেননি। তার উদ্দেশ্য শুধু পবিত্র কাবা শরীফ ধ্বংস করা। মক্কার মানুষ প্রতিরোধ না করলে কোনো রক্তপাত হবে না বলে বার্তা দেন তিনি।

কুরাইশদের নেতা হিসেবে আবদুল মুত্তালিব আল-মুগাম্মাসে আবরাহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। তবে তিনি শুধু নিজের উটগুলো ফেরত চান। কাবা শরীফের সুরক্ষার দায়িত্ব তিনি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেন।

পরদিন সকালে বিশাল বাহিনী নিয়ে আবরাহা কাবা ধ্বংসের জন্য রওয়ানা হন। কিন্তু এ সময় হাতি মাহমুদ হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে এবং আর সামনে এগোতে অস্বীকৃতি জানায়। তাকে উঠানোর জন্য লোহার দণ্ড ও হুক দিয়ে আঘাত করা হয়। কিন্তু হাতিটিকে আর সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কাবার পরিবর্তে হাতি মাহমুদকে ইয়েমেন বা অন্য কোনো দিকে ঘোরানো হলে সে স্বাভাবিকভাবেই হাঁটতে থাকে। কিন্তু মক্কার দিকে মুখ ফেরালেই সে এগিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে সূরা ফিলে বর্ণিত, আবাবিল পাখিরা আবরাহার বাহিনীর ওপর পাথর নিক্ষেপ শুধু করে। এতে আবরাহার মক্কা অভিযান পরাজয়ে পর্যবসিত হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই বছরটি হাতির বছর নামে পরিচিতি পায়।

এনটি