পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম অজু। অজু ছাড়া নামাজ হয় না। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো ও দুই পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো’। (সূরা মায়িদাহ, আয়াত : ৬)
শুধু নামাজ বা কোরআন তিলাওয়াত ছাড়াও সব সময় অজু অবস্থায় থাকার ফজিলত ও মর্যাদা অনেক বেশি। অজু ও পবিত্র অবস্থায় থাকলে মন সতেজ থাকে। এর বিশেষ ফজিলতও রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের ভালোবাসেন। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তওবাকারী এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সূরা বাকারা, আয়াত: ২২২)
গালি দিলে কি অজু ভেঙে যায়?
অজুর করার পর কাউকে গালি দিলে অজু ভাঙবে না। কারণ, অজু ভঙের ৭টি কারণ আছে। কারণগুলো হলো,১. পায়খানা ও পেশাবের রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া। ২. রক্ত, পূঁজ, বা পানি বের হয়ে গড়িয়ে পড়া। ৩. মুখ ভরে বমি করা। ৪. থুথুর সঙ্গে রক্তের ভাগ সমান বা বেশি হওয়া।৫. চিৎ বা কাত হয়ে হেলান দিয়ে ঘুম যাওয়া। ৬. পাগল, মাতাল বা অচেতন হলে। ৭. নামাজে উচ্চস্বরে হাসি দিলে।
উপরে উল্লেখিত অজু ভঙের কারণগুলো মধ্যে কাউকে গালি দেওয়া নেই। তাই অজুর করার পর কাউকে গালি দিলে অজু ভাঙবে না। তবে গালি দেওয়ার মাধ্যমে অজুর মাহাত্ম্য কমে যায়। তাই আবারো নতুন করে অজু করে নেওয়া উত্তম।
গালি দেওয়ার গুনাহ
মনে রাখতে হবে কাউকে গালি দেওয়া গুনাহের কাজ। বৈধ কিংবা অবৈধ— যেকোনো কারণেই হোক, ইসলামের দৃষ্টিতে কাউকে গালি দেওয়ার অনুমতি নেই। এমনকি হাসি-কৌতুক ও ঠাট্টাচ্ছলেও অন্যকে গালি দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে অশোভনীয় ও নিন্দনীয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৮)
এনটি
