বিজ্ঞাপন

সুরা কাহাফের যেসব আয়াতে আসহাবে কাহাফের যুবকদের আলোচনা এসেছে

সুরা কাহাফের যেসব আয়াতে আসহাবে কাহাফের যুবকদের আলোচনা এসেছে

আল্লাহর ওপর ভরসা, ঈমান এবং প্রতিকূল পরিবেশে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত আসহাবে কাহাফের ঘটনা। কয়েকজন ঈমানদার যুবক নিজেদের ঈমান রক্ষার জন্য নিজ সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি গুহায় আশ্রয় নেন। আল্লাহ তাদের দীর্ঘ সময় ঘুম পাড়িয়ে রাখেন। পরে তাদের জাগিয়ে তোলেন এবং তাদের ঘটনা মানুষের জন্য নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেন।

সুরা কাহাফের ৯ থেকে ২৬ নম্বর আয়াতে ধারাবাহিকভাবে এ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এসব আয়াতে যুবকদের গুহায় আশ্রয়, আল্লাহর কাছে দোয়া, দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে থাকা, জাগ্রত হওয়ার পর নিজেদের মধ্যে কথোপকথন, খাবারের জন্য একজনকে শহরে পাঠানো, তাদের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা, তাদের সংখ্যা নিয়ে মানুষের মতভেদ এবং গুহায় অবস্থানের সময়কাল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ কাজের ক্ষেত্রে আল্লাহর ইচ্ছার কথা স্মরণ করার শিক্ষাও দেওয়া হয়েছে। 

সুরা কাহাফের যেসব আয়াতে আসহাবে কাহাফের ঘটনা বর্ণনা হয়েছে নিচে তা আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ দেওয়া হলো : 

সুরা কাহাফের ৯ থেকে ২৬ নম্বর আয়াতে আরবি ও বাংলা উচ্চারণ 

৯. আম হাছিবতা আন্না আসহা-বাল কাহফি ওয়ার রাকীমি কা-নূমিন আ-য়া-তিনা‘আজাবা
أَمْ حَسِبْتَ أَنَّ أَصْحَـٰبَ ٱلْكَهْفِ وَٱلرَّقِيمِ كَانُوا۟ مِنْ ءَايَـٰتِنَا عَجَبًا
১০. ইয আওয়াল ফিতইয়াতুইলাল কাহফি ফাকা-লূরাব্বানাআ-তিনা-মিল্লাদুনকা রাহমাতাওঁ ওয়া হাইয়ি’ লানা-মিন আমরিনা-রাশাদা
اِذۡ اَوَی الۡفِتۡیَۃُ اِلَی الۡکَہۡفِ فَقَالُوۡا رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنۡ لَّدُنۡکَ رَحۡمَۃً وَّہَیِّیٴۡ لَنَا مِنۡ اَمۡرِنَا رَشَدًا
১১. ফাদারাবনা-‘আলাআ-যা-নিহিম ফিল কাহফি ছিনীনা ‘আদাদা
فَضَرَبۡنَا عَلٰۤی اٰذَانِہِمۡ فِی الۡکَہۡفِ سِنِیۡنَ عَدَدًا 
১২. ছু ম্মা বা‘আছনা-হুম লিনা‘লামা আইয়ুল হিঝবাইনি আহসা-লিমা-লাবিছূদ্মআমাদা
ثُمَّ بَعَثۡنٰہُمۡ لِنَعۡلَمَ اَیُّ الۡحِزۡبَیۡنِ اَحۡصٰی لِمَا لَبِثُوۡۤا اَمَدًا
১৩. নাহনু নাকুসসু আলাইকা নাবাআহুম বিলহাক্কি ইন্নাহুম ফিতইয়াতুন আ-মানূ বিরাব্বিহিম ওয়াঝিদনা-হুম হুদা
نَحۡنُ نَقُصُّ عَلَیۡکَ نَبَاَہُمۡ بِالۡحَقِّ ؕ  اِنَّہُمۡ فِتۡیَۃٌ اٰمَنُوۡا بِرَبِّہِمۡ وَزِدۡنٰہُمۡ ہُدًی
১৪. ওয়া রাবাতনা ‘আলা-কুলূবিহিম ইয কা-মূফাকা-লূ রাব্বুনা-রাব্বুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিলান নাদ‘উওয়া মিন দূনিহীইলা-হাল লাকাদ কুলনাইযান শাতাতা
وَّرَبَطۡنَا عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ اِذۡ قَامُوۡا فَقَالُوۡا رَبُّنَا رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ لَنۡ نَّدۡعُوَا۠ مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اِلٰـہًا لَّقَدۡ قُلۡنَاۤ اِذًا شَطَطًا
১৫.হাউলাই কাওমুনাত্তাখাযূ মিন দূ নিহীআ-লিহাতাল লাওলা-ইয়া’তূনা ‘আলাইহিম বিছুলতা-নিম বাইয়িনিন ফামান আজলামুমিম্মানিফতারা-‘আলাল্লা-হি কাযিবা
ہٰۤؤُلَآءِ قَوۡمُنَا اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اٰلِہَۃً ؕ  لَوۡلَا یَاۡتُوۡنَ عَلَیۡہِمۡ بِسُلۡطٰنٍۭ بَیِّنٍ ؕ  فَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا
১৬.ওয়া ইযি‘তাঝালতুমূহুম ওয়ামা-ইয়া‘বুদূনা ইল্লাল্লা-হা ফা’ঊইলাল কাহফি ইয়ানশুরুলাকুম রাব্বুকুম মির রাহমাতিহী ওয়া ইউহাইয়ি’ লাকুম মিন আমরিকুম মিরফাকা
وَاِذِ اعۡتَزَلۡتُمُوۡہُمۡ وَمَا یَعۡبُدُوۡنَ اِلَّا اللّٰہَ فَاۡوٗۤا اِلَی الۡکَہۡفِ یَنۡشُرۡ لَکُمۡ رَبُّکُمۡ مِّنۡ رَّحۡمَتِہٖ وَیُہَیِّیٴۡ لَکُمۡ مِّنۡ اَمۡرِکُمۡ مِّرۡفَقًا
১৭. ওয়া তারাশ শামছা ইযা-তালা‘আততা ঝা-ওয়ারু ‘আন কাহফিহিম যা-তাল ইয়ামীনি ওয়া ইযা-গারাবাত তাকরিদুহুম যা-তাশশিমা-লি ওয়া হুম ফী ফাজওয়াতিম মিনহু যালিকা মিন আ-য়া-তিল্লা-হি মাইঁ ইয়াহদিল্লা-হু ফাহুওয়াল মুহতাদি ওয়া মাই ইউদলিল ফালান তাজিদা লাহূত্তয়ালিইইয়াম মুরশিদা
وَتَرَی الشَّمۡسَ اِذَا طَلَعَتۡ تَّزٰوَرُ عَنۡ کَہۡفِہِمۡ ذَاتَ الۡیَمِیۡنِ وَاِذَا غَرَبَتۡ تَّقۡرِضُہُمۡ ذَاتَ الشِّمَالِ وَہُمۡ فِیۡ فَجۡوَۃٍ مِّنۡہُ ؕ  ذٰلِکَ مِنۡ اٰیٰتِ اللّٰہِ ؕ  مَنۡ یَّہۡدِ اللّٰہُ فَہُوَ الۡمُہۡتَدِ ۚ  وَمَنۡ یُّضۡلِلۡ فَلَنۡ تَجِدَ لَہٗ وَلِیًّا مُّرۡشِدًا
১৮.  ওয়া তাহছাবুহুম আইকা-জাওঁ ওয়া হুম রুকূদুওঁ ওয়া নুকালিলবুহুম যা-তাল ইয়ামীনি ওয়া যা-তাশশিমা-লি ওয়াকালবুহুম বা-ছিতু ন যিরা-‘আইহি বিল ওয়াসীদি লাবিততালা‘তা ‘আলাইহিম লাওয়াল্লাইতা মিনহুম ফিরা-রাওঁ ওয়ালামুলি’তা মিনহুম রু‘বা
وَتَحۡسَبُہُمۡ اَیۡقَاظًا وَّہُمۡ رُقُوۡدٌ ٭ۖ وَّنُقَلِّبُہُمۡ ذَاتَ الۡیَمِیۡنِ وَذَاتَ الشِّمَالِ ٭ۖ وَکَلۡبُہُمۡ بَاسِطٌ ذِرَاعَیۡہِ بِالۡوَصِیۡدِ ؕ لَوِ اطَّلَعۡتَ عَلَیۡہِمۡ لَوَلَّیۡتَ مِنۡہُمۡ فِرَارًا وَّلَمُلِئۡتَ مِنۡہُمۡ رُعۡبًا
১৯.ওয়া কাযা-লিকা বা‘আছনা-হুম লিইয়াতাছাআলূ বাইনাহুম কা-লা কাইলুম মিনহুম কাম লাবিছতুম কা-লূলাবিছনা-ইয়াওমান আও বা‘দা ইয়াওমিন কালূরাব্বুকুম আ‘লামুবিমা-লাবিছতুম ফাব‘আছূআহাদাকুম বিওয়ারিকিকুম হাযিহীইলাল মাদীনাতি ফালইয়ানজু র আইয়ুহাআঝকা-তা‘আ-মান ফালইয়া’তিকুম বিরিঝকিম মিনহু ওয়াল ইয়াতালাততাফ ওয়ালা-ইউশ‘ইরান্না বিকুম আহাদা

 

وَکَذٰلِکَ بَعَثۡنٰہُمۡ لِیَتَسَآءَلُوۡا بَیۡنَہُمۡ ؕ قَالَ قَآئِلٌ مِّنۡہُمۡ کَمۡ لَبِثۡتُمۡ ؕ قَالُوۡا لَبِثۡنَا یَوۡمًا اَوۡ بَعۡضَ یَوۡمٍ ؕ قَالُوۡا رَبُّکُمۡ اَعۡلَمُ بِمَا لَبِثۡتُمۡ ؕ فَابۡعَثُوۡۤا اَحَدَکُمۡ بِوَرِقِکُمۡ ہٰذِہٖۤ اِلَی الۡمَدِیۡنَۃِ فَلۡیَنۡظُرۡ اَیُّہَاۤ اَزۡکٰی طَعَامًا فَلۡیَاۡتِکُمۡ بِرِزۡقٍ مِّنۡہُ وَلۡـیَؔ‍‍‍تَلَطَّفۡ وَلَا یُشۡعِرَنَّ بِکُمۡ اَحَدً

২০. ইন্নাহুম ইয়ঁ ইয়াজহারূ‘আলাইকুম ইয়ারজুমূকুম আও ইউ‘ঈদূকুম ফী মিল্লাতিহিম ওয়ালান তুফলিহূইযান আবাদা
اِنَّہُمۡ اِنۡ یَّظۡہَرُوۡا عَلَیۡکُمۡ یَرۡجُمُوۡکُمۡ اَوۡ یُعِیۡدُوۡکُمۡ فِیۡ مِلَّتِہِمۡ وَلَنۡ تُفۡلِحُوۡۤا اِذًا اَبَدًا 
২১. ওয়া কাযা-লিকা আ‘ছারনা-‘আলাইহিম লিইয়া‘লামূআন্না-ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুওঁ ওয়া আন্নাছছা-‘আতা লা-রাইবা ফীহা- ইয ইয়াতানা -ঝা‘ঊনা বাইনাহুম আমরাহুম ফাকালুবনূ‘আলাইহিম বুনইয়া-নার রাব্বুহুম আ‘লামুবিহিম কা-লাল্লাযীনা গালাবূ ‘আলাআমরিহিম লানাত্তাখিযান্না ‘আলাইহিম মাছজিদা
وَکَذٰلِکَ اَعۡثَرۡنَا عَلَیۡہِمۡ لِیَعۡلَمُوۡۤا اَنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ وَّاَنَّ السَّاعَۃَ لَا رَیۡبَ فِیۡہَا ۚ٭ اِذۡ یَتَنَازَعُوۡنَ بَیۡنَہُمۡ اَمۡرَہُمۡ فَقَالُوا ابۡنُوۡا عَلَیۡہِمۡ بُنۡیَانًا ؕ رَبُّہُمۡ اَعۡلَمُ بِہِمۡ ؕ قَالَ الَّذِیۡنَ غَلَبُوۡا عَلٰۤی اَمۡرِہِمۡ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَیۡہِمۡ مَّسۡجِدًا
২২.ছা-ইয়াকূলূনা ছালা-ছাতুর রা-বি‘উহুম কালবুহুম ওয়া ইয়াকূলূনা খামছাতুন ছা-দিছুহুম কালবুহুম রাজমাম বিলগাইবি ওয়া ইয়াকূলূনা ছাব‘আতুওঁ ওয়া ছা-মিনুহুম কালবুহুম কুর রাববীআ‘লামুবি‘ইদ্দাতিহিম মা-ইয়া‘লামুহুম ইল্লা-কালীলুন ফালা-তুমারি ফীহিম ইল্লা-মিরাআন জা-হিরাওঁ ওয়ালা-তাছতাফতি ফীহিম মিনহুম আহাদা
سَيَقُولُونَ ثَلَاثَةٌۭ رَّابِعُهُمْ كَلْبُهُمْ وَيَقُولُونَ خَمْسَةٌۭ سَادِسُهُمْ كَلْبُهُمْ رَجْمًۢا بِٱلْغَيْبِ ۖ وَيَقُولُونَ سَبْعَةٌۭ وَثَامِنُهُمْ كَلْبُهُمْ ۚ قُل رَّبِّىٓ أَعْلَمُ بِعِدَّتِهِم مَّا يَعْلَمُهُمْ إِلَّا قَلِيلٌۭ ۗ فَلَا تُمَارِ فِيهِمْ إِلَّا مِرَآءًۭ ظَـٰهِرًا وَلَا تَسْتَفْتِ فِيهِم مِّنْهُمْ أَحَدًا
২৩. ওয়ালা-তাকূলান্না লিশাইয়িন ইন্নী ফা-‘ইলুন যা-লিকা গাদা
وَلَا تَقُوۡلَنَّ لِشَایۡءٍ اِنِّیۡ فَاعِلٌ ذٰلِکَ غَدًا
২৪.ইল্লাআইঁ ইয়াশাআল্লা-হু ওয়াযকুর রাব্বাকা ইযা-নাছীতা ওয়াকুল ‘আছাআইঁ ইয়াহদিয়ানি রাববী লিআকরাবা মিন হা-যা-রাশাদা

اِلَّاۤ اَنۡ یَّشَآءَ اللّٰہُ ۫ وَاذۡکُرۡ رَّبَّکَ اِذَا نَسِیۡتَ وَقُلۡ عَسٰۤی اَنۡ یَّہۡدِیَنِ رَبِّیۡ لِاَقۡرَبَ مِنۡ ہٰذَا رَشَدًا

২৫. ওয়া লাবিছূফী কাহফিহিম ছালা-ছা মিআতিন ছিনীনা ওয়াঝদা-দূতিছ‘আ
وَلَبِثُوۡا فِیۡ کَہۡفِہِمۡ ثَلٰثَ مِائَۃٍ سِنِیۡنَ وَازۡدَادُوۡا تِسۡعًا
২৬.কুল্লিলা-হু আ‘লামুবিমা-লাবিছূ লাহূগাইবুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি আবসির বিহী ওয়া আছমি‘ মা-লাহুম মিন দূ নিহী মিওঁ ওয়ালিইয়িওঁ ওয়ালা-ইউশরিকুফী হুকমিহীআহাদা
قُلِ اللّٰہُ اَعۡلَمُ بِمَا لَبِثُوۡا ۚ لَہٗ غَیۡبُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ اَبۡصِرۡ بِہٖ وَاَسۡمِعۡ ؕ مَا لَہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖ مِنۡ وَّلِیٍّ ۫ وَّلَا یُشۡرِکُ فِیۡ حُکۡمِہٖۤ اَحَدًا

সুরা কাহাফের ৯ থেকে ২৬ নম্বর আয়াতের বাংলা অর্থ : 

৯.  তুমি কি মনে করেছ, গুহা ও রাকীমের অধিবাসীরা আমার নিদর্শনগুলোর মধ্যে বিস্ময়কর ছিল? ১০.  যখন সেই যুবকেরা গুহায় আশ্রয় নিল, তখন তারা বলল, হে আমাদের রব, আপনি নিজ পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন এবং আমাদের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করে দিন। ১১. অতঃপর আমি গুহার মধ্যে কয়েক বছর তাদের কানে নিদ্রার পর্দা ফেলে দিয়েছিলাম। ১২. তারপর আমি তাদের জাগিয়ে তুললাম, যাতে প্রকাশ পায়—দুই দলের মধ্যে কে তাদের অবস্থানের সময়কাল সঠিকভাবে হিসাব করতে পারে।

১৩. আমি তোমার কাছে তাদের ঘটনা সত্যভাবে বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই তারা ছিল কয়েকজন যুবক, যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের হেদায়েত আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। ১৪. আমি তাদের অন্তর দৃঢ় করে দিয়েছিলাম। যখন তারা দাঁড়িয়ে বলল, আমাদের রব আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রব। আমরা কখনো তাকে ছাড়া অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকব না। যদি তা করি, তবে আমরা অবশ্যই সীমালঙ্ঘনমূলক কথা বলব। ১৫. এরা আমাদের সম্প্রদায়, যারা তাকে ছাড়া অন্য উপাস্য গ্রহণ করেছে। তারা কেন তাদের পক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ হাজির করে না? যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে, তার চেয়ে বড় জালিম আর কে?

১৬. আর যখন তোমরা তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহ ছাড়া যাদের উপাসনা করে তাদের থেকে পৃথক হয়ে গেলে, তখন গুহায় আশ্রয় নাও। তোমাদের রব তোমাদের জন্য তার রহমত বিস্তৃত করে দেবেন এবং তোমাদের কাজ সহজ করে দেবেন। ১৭. তুমি সূর্যকে দেখতে, যখন তা উদিত হয়, তখন তাদের গুহার ডান দিকে সরে যায় এবং যখন অস্ত যায়, তখন তাদের বাম পাশ দিয়ে চলে যায়; আর তারা ছিল গুহার প্রশস্ত স্থানে। এটি আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্যতম। আল্লাহ যাকে হেদায়েত করেন, সে-ই সঠিক পথপ্রাপ্ত। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তুমি তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবে না।

১৮. (তাদের দেখলে) তোমার মনে হত তারা জাগ্রত, অথচ তারা ছিল নিদ্রিত। আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাচ্ছিলাম ডানে ও বামে। আর তাদের কুকুর গুহামুখে সামনের পা দু’টি ছড়িয়ে (বসা) ছিল। তুমি যদি তাদেরকে উঁকি মেরে দেখতে, তবে তুমি তাদের থেকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালাতে এবং তাদের ভয়ে পরিপূর্ণরূপে ভীত হয়ে পড়তে। ১৯. এভাবেই আমি তাদের জাগিয়ে দিলাম, যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের একজন বলল, তোমরা কতক্ষণ অবস্থান করেছ? তারা বলল, আমরা এক দিন অথবা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। তারা বলল, তোমাদের রবই ভালো জানেন তোমরা কতক্ষণ অবস্থান করেছ। তাই তোমাদের একজনকে এই রৌপ্যমুদ্রা দিয়ে শহরে পাঠাও। সে যেন দেখে কোন খাবার বেশি পবিত্র, তারপর সেখান থেকে তোমাদের জন্য কিছু খাবার নিয়ে আসে। তাকে সতর্কতার সঙ্গে চলতে হবে এবং তোমাদের ব্যাপারে কাউকে যেন কিছু জানতে না দেয়।

২০. তারা যদি তোমাদের সম্পর্কে জানতে পারে, তবে তোমাদের পাথর মেরে হত্যা করবে অথবা তোমাদের তাদের ধর্মে ফিরিয়ে নেবে। আর তখন তোমরা কখনোই সফল হতে পারবে না। ২১. এভাবেই আমি তাদের ব্যাপারে মানুষকে অবহিত করলাম, যাতে তারা জানতে পারে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামত সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই। যখন তারা তাদের বিষয় নিয়ে পরস্পর বিতর্ক করছিল, তখন কেউ বলল, তাদের ওপর একটি ভবন নির্মাণ করো। তাদের রব তাদের সম্পর্কে ভালো জানেন। আর যারা তাদের বিষয়ে প্রভাবশালী ছিল, তারা বলল, আমরা অবশ্যই তাদের ওপর একটি মসজিদ নির্মাণ করব

২২. কেউ কেউ বলবে, তারা ছিল তিনজন, তাদের চতুর্থ ছিল তাদের কুকুর। আবার কেউ বলবে, তারা ছিল পাঁচজন, তাদের ষষ্ঠ ছিল তাদের কুকুর—এগুলো অদৃশ্য বিষয়ে অনুমানমাত্র। আবার কেউ বলবে, তারা ছিল সাতজন এবং তাদের অষ্টম ছিল তাদের কুকুর। বলো, আমার রবই তাদের সংখ্যা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। অল্প কয়েকজনই তাদের প্রকৃত সংখ্যা জানে। অতএব তাদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়ো না এবং তাদের বিষয়ে কারও কাছে কিছু জিজ্ঞেস করো না।

 ২৩, কোনো কাজ সম্পর্কে কখনো বলো না যে, আমি আগামীকাল তা করব। ২৪. তবে আল্লাহর ইচ্ছার কথা স্মরণ করে বলবে, ইনশাআল্লাহ। আর যখন ভুলে যাও, তখন তোমার রবকে স্মরণ করো এবং বলো, আশা করি আমার রব আমাকে এর চেয়েও নিকটবর্তী সঠিক পথের সন্ধান দেবেন।

২৫.তারা তাদের গুহায় তিনশ বছর অবস্থান করেছিল এবং আরও নয় বছর বাড়িয়েছিল। ২৬. বলো, তারা কতকাল অবস্থান করেছিল তা আল্লাহই ভালো জানেন। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয় তারই জানা। তিনি কত সুন্দরভাবে দেখেন ও শোনেন! তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং তিনি তার বিধানে কাউকে শরিক করেন না।

এনটি