পবিত্র কোরআনের ৫৫তম সুরা সুরা আর-রহমান। মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরায় আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামত, তার অসীম ক্ষমতা, সৃষ্টিজগতের ভারসাম্য এবং মানুষের প্রতি তার দয়া ও সতর্কবার্তা তুলে ধরা হয়েছে। সুরাটির সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দিক হলো, বারবার মানুষ ও জিনকে প্রশ্ন করা হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?’ এই প্রশ্নের মাধ্যমে মানুষকে নিজের জীবন ও চারপাশের জগত নিয়ে ভাবতে শেখানো হয়েছে।
আল্লাহর নেয়ামতের স্বীকৃতি
সুরা আর-রহমানের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো আল্লাহর নেয়ামতকে উপলব্ধি করা। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তাকে কথা বলা ও নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষমতা দিয়েছেন, কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। সূর্য, চন্দ্র, আকাশ, পৃথিবী, ফল-ফসল, নদী, সমুদ্র সবই মানুষের জীবনধারণের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ। তাই একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো এসব নেয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং অকৃতজ্ঞ না হওয়া।
কোরআনের গুরুত্ব
সুরার শুরুতেই আল্লাহ ‘রহমান’ হওয়ার কথা উল্লেখ করে কোরআন শিক্ষার কথা বলেছেন। এতে বোঝা যায়, আল্লাহ মানুষের জন্য দয়াশীল এবং মানুষের জন্য আল্লাহর সবচেয়ে বড় অনুগ্রহগুলোর একটি হলো হেদায়াতের কিতাব। কোরআন শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয়; এর শিক্ষা বুঝে জীবনে বাস্তবায়ন করাই মুমিনের কর্তব্য।
সৃষ্টিজগতের ভারসাম্য রক্ষা
আল্লাহ পৃথিবীকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করেছেন এবং সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য স্থাপন করেছেন। তাই মানুষকে সেই ভারসাম্য নষ্ট না করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। অন্যায়, জুলুম, সীমালঙ্ঘন ও পরিবেশের ক্ষতি করা ইসলামের এই ভারসাম্যের শিক্ষার পরিপন্থী।
আল্লাহর কাছে জবাবদিহি
সুরা আর-রহমানে কিয়ামত ও পরকালের কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ ও জিন কেউই আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতার বাইরে নয়। দুনিয়ার জীবন শেষ হওয়ার পর প্রত্যেককে নিজের কাজের হিসাব দিতে হবে। ফলে মুমিনকে দায়িত্বশীল জীবনযাপন করতে এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে বলা হয়েছে।
জান্নাতের পুরস্কার
সুরাটিতে আল্লাহভীরুদের জন্য জান্নাতের মনোমুগ্ধকর নিয়ামতের বর্ণনা এসেছে। এর মাধ্যমে সৎকর্মে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। যারা আল্লাহকে ভয় করে তার আনুগত্য করবে, তাদের জন্য রয়েছে এমন পুরস্কার যা দুনিয়ার কোনো সুখের সঙ্গে তুলনীয় নয়।
সুরা আর-রহমান মানুষকে এই গভীর উপলব্ধির দিকে নিয়ে যায় যে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর দয়া ও নেয়ামত ছড়িয়ে আছে। তাই এই সুরার শিক্ষা হলো, আল্লাহর নেয়ামত চিনে তার শুকরিয়া আদায় করা, কোরআনের নির্দেশ মেনে চলা, জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করা, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং পরকালের জবাবদিহির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
এনটি
