ক্রীড়ামন্ত্রী রোশান রানাসিংহের এক সিদ্ধান্তেই যেন উল্টেপাল্টে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার জের ধরে পুরো ক্রিকেট বোর্ডকেই বরখাস্ত করেছিলেন তিনি। তাতেই ক্ষান্ত হননি তিনি। বরং বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গাকে প্রধান করে একটি অন্তবর্তীকালীন কমিটিও করেছিলেন রোশান।
তারপরেই মূলত ঘটে বিপত্তি। আইসিসির পক্ষ থেকে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডকে দেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। সরিয়ে নেওয়া হয় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজনও। নানা জলঘোলার পর এবার সেই ক্রীড়ামন্ত্রীর বিপক্ষেই সরব হয়েছে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। সাবেক হয়ে পড়া রোশান রানাসিংহের বিপক্ষে দূর্নীতির অভিযোগ এনেছে তারা।
— Sri Lanka Cricket (@OfficialSLC) December 4, 2023
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে খবর, শ্রীলঙ্কার অন্যান্য খেলাধুলার উন্নতির জন্য জাতীয় স্পোর্টস ফান্ডকে একটি তহবিল দিয়েছিল দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। এই তহবিলই অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী রোশান রানাসিংহের বিরুদ্ধে। দুর্নীতির সেই অভিযোগ তদন্তে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)।
আরও পড়ুন
এই নিয়ে টুইটারে সরাসরি পোস্ট করেও বাকি রাখেনি লঙ্কান ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এসএলসি যে তহবিল বরাদ্দ করেছিল, জনাব রোশান রানাসিংহে তা কীভাবে ব্যবহার করেছেন, সেসব যথাযথভাবে না জানানোয় এই অভিযোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
তাদের সেই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘খরচ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে রানাসিংহের দেওয়া তথ্য এবং তথ্য অধিকার আইনে (আরটিআই) এসএলসির আবেদনের ভিত্তিতে যা জানা গেছে—এই দুইয়ের মধ্যে তারতম্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হলো।’

রোশান রানাসিংহে অবশ্য লঙ্কান ক্রিকেটে তুলকালাম ঘটানোর পরেই সাবেক হয়ে পড়েছেন। আইসিসির পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আসার পরেই তাকে বিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। একই ঘটনার জেরে মন্ত্রীসভায় নিজের পদটাই হারিয়ে ফেলেন তিনি। ক্রিকেট বোর্ডে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালানোর কারণে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন এমন অভিযোগও তুলেছিলেন রানাসিংহে। স্বাভাবিকভাবেই আর পদ টেকেনি তার। এবার সেসবের সঙ্গে যুক্ত হলো নতুন আরেক অভিযোগ।
এর আগে ১০ নভেম্বর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটকে সাময়িক সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয় আইসিসি। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে তাদের সদস্য পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর আইসিসির সর্বশেষ বৈঠকেও বহাল রাখা হয়েছে সেই নিষেধাজ্ঞা। সহসাই লঙ্কানরা সদস্য ফিরে পাচ্ছে না বলেই সেখান থেকে আসন্ন অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে নিজেদের মাটিতে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে তারা।
জেএ
