২০২৬ বিশ্বকাপের আসর বসবে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার। ওই আসরটিই নিজের শেষ বিশ্বকাপ বলে কিছুদিন আগে জানিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। যদিও চোটকে পাশ কাটিয়ে তার জন্য টুর্নামেন্টটিতে অংশ নেওয়াই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, নেইমার না থাকলে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিততে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কিংবদন্তি রোমারিও ডি সুজা।
ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসরে ব্রাজিল সর্বশেষ শিরোপা জিতেছে ২০০২ সালে। এরপর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আর চূড়ান্ত সাফল্য পায়নি। আসন্ন ২০২৬ আসরেও নেইমারকেই সেলেসাওদের আশার একমাত্র ‘বাতিঘর’ বলে মনে করছেন রোমারিও। দুবার বিশ্বকাপ জেতা এই কিংবদন্তি এক পডকাস্ট অনুষ্ঠানে বলেন, ‘যদি নেইমার ফিট থাকে তাহলেই কেবল পরবর্তী বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ আছে ব্রাজিলের। ১৯৬২ সালে ব্রাজিল গারিঞ্চার জন্য, ৭০ সালে পেলে, ৯৪ সালে রোমারিও এবং ২০০২ সালে রোনালদোর জন্য খেলেছে। ২০২৬ সালে যদি তারা নেইমারের জন্য না খেলে, তাহলে (বিশ্বকাপ) জিততে পারবে না।’
বর্তমানে নেইমারের বয়স ৩২, বিশ্বকাপ চলাকালে যা ৩৪ বছরে দাঁড়াবে। ফলে ২০২৬ আসরই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। সিএনএন স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কয়েকদিন আগে নেইমার নিজেও সেটাকেই ক্যারিয়ারের শেষসীমা বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘আমি চেষ্টা করব সেখানে (২০২৬ বিশ্বকাপ) থাকার। আমি জানি, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ, শেষ শট। আমার শেষ সুযোগ। সেখানে খেলা এবং জাতীয় দলে থাকার জন্য আমি সব রকম চেষ্টাই করব।’
— Ginga Bonito (@GingaBonitoHub) January 14, 2025
তার আগে অবশ্য ব্রাজিলকে বিশ্বকাপে সরাসরি ওঠার সমীকরণটা মেলাতে হবে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে দারুণ উত্থান-পতন দেখেছে সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্থায়ী কোচ দরিভাল জুনিয়রের অধীনেও তারা ম্যাচ জয়কে অভ্যাসে পরিণত করতে পারেনি। ৮ জানুয়ারি তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ব্রাজিল এখন পর্যন্ত ১৪ ম্যাচ খেলেছে, এর মধ্যে ৬টি জয়, ২ হার এবং ৭ ড্র। কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ও ছন্দ ধরে রাখতে না পারায় লাতিন অঞ্চলের ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের টেবিলেও শীর্ষ তিনে নেই ব্রাজিল। তাদের অবস্থান পাঁচ নম্বরে।
লাতিন অঞ্চল থেকে শীর্ষ ছয়টি দল বিশ্বকাপের টিকিট কাটবে। সপ্তম দলটিকে খেলতে হবে (কনকাকাফ) প্লে-অফ। ব্রাজিল হয়তো শীর্ষ ছয়ে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে পারবে, তবে সেটি সর্বোচ্চ বারের চ্যাম্পিয়নদের ক্ষেত্রে ঠিক মানানসই হবে কি না সেটা আলোচনাসাপেক্ষ। তবে নেইমার জাতীয় দলের বর্তমান অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন, ‘দলের প্রতি আমার অনেক বিশ্বাস আছে, এখানে বেশ তরুণ এবং প্রতিভাবান ফুটবলাররা আছে। দল হিসেবেও ব্রাজিল এখন তরুণ। এখন হয়তো আমরা কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে নেই, তবে আমরা আবারও বড় কিছু অর্জন করতে পারব। আমাদের হাতে দেড়বছর সময় আছে, সুযোগ আছে বিশ্বকাপে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সব করার।’
আরও পড়ুন
আগামী মার্চে ব্রাজিল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ দিয়ে মাঠে নতুন বছরের প্রথমবার মাঠে নামবে। ২০২৫ সালে ব্রাজিলের সামনে এখন পর্যন্ত ৬টি ম্যাচের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। প্রতিটি ম্যাচই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের অধীন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে সেলেসাওরা খেলবে আগামী ২৬ মার্চ। তার আগে নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের বছর শুরু হবে ২১ মার্চ কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।
এএইচএস

