বিজ্ঞাপন

টাকার অভাবে ছেঁড়া জুতা পরে খেলা অনিকেতই আইপিএল মাতাচ্ছেন

টাকার অভাবে ছেঁড়া জুতা পরে খেলা অনিকেতই আইপিএল মাতাচ্ছেন

হার্দিক পান্ডিয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি যদি ক্রিকেটার না হতে পারতেন তাহলে হয়তো এখন মুম্বাইয়ের কোনো গ্যারেজে কাজ করতেন। তবে ভাগ্য তার সহায় ছিল। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে বাইশ গজে তারকা বনে গেছেন। বদলে গেছে তার অর্থনৈতিক অবস্থাও।

হার্দিকের এই গল্প অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণার। এই যেমন এবারের আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলা অনিকেত বর্মার গল্পটাও অনেকটা এমনই। চাচা অমিত বর্মার কাছে ছেলেবেলা কেটেছে অনিকেতের। তার সেই চাচা এবার অনিকেতের ক্রিকেটার হয়ে উঠার পেছনের গল্প শুনিয়েছেন।

তিন বছর বয়সে মাকে হারানোর পর থেকে চাচা অমিতই অনিকেতকে লালন পালন করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে অমিত বলেছেন, 'অনিকেতের বয়স তখন ১৪ বছর। তখন ওকে একটা ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করে দিয়েছিলাম। পরিশ্রম করে ক্লান্ত হয়ে পড়ত।'

হার্দিক ছিল অনিকেতের অনুপ্রেরণা। তার চাচা বলেন, 'সে সময় সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে দিনের পর দিন হার্দিকের ম্যাগি (নুডলস) খেয়ে থাকার বিষয়টা জানতে পেরেছিলাম। তখন অনিকেতকে গল্পটা বলেছিলাম। ও খুব অনুপ্রাণিত হয়েছিল। তার পর থেকে ওর মধ্যে একটা বাড়তি অনুপ্রেরণা দেখতাম। বড় খেলোয়াড় হওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয় অনিকেতের মধ্যে।'

Aniket Verma hits through the off side, Delhi Capitals vs Sunrisers Hyderabad, Visakhapatnam, IPL 2025, March 30, 2025

'ক্রিকেটের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেছে। এক দিন মাঠে পৌঁছে আমার পা ছুঁয়ে বলে, ‘আমি অনেক কিছু নিয়ে অভিযোগ করি না?’ আমি হেসে ফেলেছিলাম। কিন্তু অনিকেতের মুখে একটা জেদ দেখেছিলাম।'

একটা সময় ছেঁড়া জুতা পরে খেলেছেন অনিকেত। অমিত বলেছেন, 'আমার প্রথম চাকরি ছিল একটা গাড়ির দোকানে। তিন হাজার টাকা বেতন পেতাম। তখন অনিকেত একটা ছেঁড়া জুতা পরে খেলত। আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তবু ওকে দোকানে নিয়ে গিয়ে ১২০০ টাকার দিয়ে একটা জুতা কিনে দিয়েছিলাম। তার পর থেকে রোজ নতুন জুতা জোড়া নিয়ে ঘুমাতো অনিকেত।'

ছেঁড়া জুতা পরে খেলা অনিকেত এখন আইপিএলের অন্যতম সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়। হায়দরাবাদের সবশেষ ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৪১ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। নিলামে তাকে ৩০ লাখ রুপিতে কিনেছিল হায়দরাবাদ।

এইচজেএস