বিজ্ঞাপন

রেকর্ডগড়া বোলিং সত্ত্বেও

বুমরাহ থাকলে কেন সাফল্যের হার কম ভারতের

বুমরাহ থাকলে কেন সাফল্যের হার কম ভারতের

ব্যতিক্রমী বোলিং অ্যাকশন ও নিয়ন্ত্রিত স্পেলে ধারাবাহিকভাবে ব্যাটারদের মাঝে আতঙ্ক ছড়ানোয় জুড়ি নেই ভারতীয় পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ’র। স্বাভাবিকভাবে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানও তার পক্ষেই কথা বলে। এখনও তাকে কেন্দ্র করেই টেস্টে ভারতীয় বোলিং বিভাগ আবর্তিত হয়। কিন্তু দলীয় সাফল্য আর বুমরাহ’র মাঝে এক অপ্রকাশ্য দেয়াল অবস্থান করছে। ফলে তার অনুপস্থিতিতেই সাদা পোশাকে বেশি সাফল্য পায় ভারত।

২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদেরই ভেন্যু কেপটাউনে আন্তর্জাতিক টেস্ট অভিষেক হয় জাসপ্রিত বুমরাহ’র। এরপর থেকে ডানহাতি এই পেসার এখন পর্যন্ত সাদা পোশাকে ৪৬ ম্যাচে ২১০ উইকেট নিয়েছেন। যা বুমরাহকে স্থান দিয়েছে ইতিহাসের চূড়ায়। তিনিই একমাত্র বোলার, যিনি টেস্টে ন্যূনতম ২০০ উইকেট শিকার করলেন ২০ রানের (১৯.৬০) কম গড়ে। এর মধ্যে ভারতের জয় পাওয়া ম্যাচে তার শিকার ১১০ উইকেট, সেসব ম্যাচে বুমরাহ’র ইকোনমি মাত্র ১৪.৫০। এদিক থেকে তার পরই অবস্থান রবিচন্দ্রন অশ্বিনের, ১৫৫ উইকেট ও ইকোনমি ১৮.০৭।

ওই সময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৩৯টি টেস্ট জিতেছে ভারত। তবে রোহিত-কোহলিরা বেশি জয় পেয়েছেন বুমরাহ’র অনুপস্থিতিতে। তিনি ছিলেন না এমন ২৭ টেস্টের মধ্যে ভারতের জয় ১৯টি। সাফল্যের হার ৭০ শতাংশ। কিন্তু বুমরাহ খেলেছেন এমন টেস্টে ভারতের সাফল্য ৪৩ শতাংশ। যদিও বুমরাহ’র না থাকাই যে ভারতের সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে এমন ভাবনা হবে তার জন্য অন্যায্য। সাফল্যের পরিসংখ্যান দলে ডানহাতি এই পেসারের ভূমিকা পুরোপুরি ফুটিয়ে তোলে না!

Jasprit Bumrah and his India team-mates reacts on the field, Australia vs India, 5th Test, Sydney, Day 2, January 4, 2025

বুমরাহ–সহ এবং বুমরাহ–হীন ভারতের টেস্ট
বুমরাহ খেলেছেন এমন ম্যাচ ২৭টি : জয় ১৯— হার ৫— ড্র ৩— সাফল্য ৭০.৩৭ শতাংশ
বুমরাহ খেলেননি এমন ম্যাচ ৪৬টি : জয় ২০— হার ২২— ড্র ৪— সাফল্য ৪৩.৪৮ শতাংশ

ভেন্যুভিত্তিক বুমরাহ–কে নিয়ে ভারতের টেস্ট রেকর্ড
হোম : ১২ ম্যাচ— ৮ জয়— ৪ হার— ০ ড্র— সাফল্য ৬৬.৬৬ শতাংশ
অ্যাওয়ে/নিরপেক্ষ : ৩৪ ম্যাচ— ১২ জয়— ১৮ হার— ৪ ড্র— সাফল্য ৩৫.২৯ শতাংশ

বুমরাহ ছাড়া ভারতের টেস্ট রেকর্ড
হোম : ১৮ ম্যাচ— জয় ১৪— ২ হার— ২ ড্র— ৭৭.৭৮ শতাংশ জয়
অ্যাওয়ে/নিরপেক্ষ : ৯ ম্যাচ— ৫ জয়— ৩ হার— ১ ড্র— ৫৫.৫৬ শতাংশ জয়

বলে রাখা ভালো, বুমরাহ’র ব্যতিক্রমী বোলিং অ্যাকশনের কারণে তার বেশ ইনজুরি ঝুঁকি রয়েছে। ফলে তাকে খুব সতর্কতার সঙ্গে ম্যাচ খেলিয়ে আসছে ভারত। বিশেষত এই অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায় বড় দলের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজে। তিনি চার-তৃতীয়াংশ (৭৩.৯ শতাংশ) টেস্ট ম্যাচই খেলেছেন ঘরের বাইরে। বুমরাহ’র অভিষেকের পর থেকে ভারত দেশের বাইরে ১৭টি টেস্টে জয় পেয়েছে, ওই সময়ে তাদের জয় বেশি কেবল ইংল্যান্ডের (১৮)। যেখানে বুমরাহ ১২টি জয়ে সরাসরি অবদান রাখেন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে তার অনুপস্থিতিতে অ্যাওয়ে টেস্টে সাফল্যের হার বেশি ভারতের।

কেন বুমরাহ–হীন ভারত বেশি সফল?

পুরো পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে কারণটা স্পষ্ট। বুমরাহকে বেশিরভাগ সময়ই বড় দলের বিপক্ষে খেলানো হয়। সেসব সিরিজের দৈর্ঘ্যও বেশি। তুলনামূলক দুর্বল দল বাংলাদেশের (২০২২) বিপক্ষে ২ এবং ওয়েস্ট বিপক্ষে একটি টেস্ট (২০২৩) ভারত জিতেছিল, যেখানে ব্যাক ইনজুরিতে খেলা হয়নি বুমরাহ’র। এর বাইরে ভারত কেবল দুটি অ্যাওয়ে টেস্ট জিতেছে সেনা দেশে (দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া)। নন-সেনা দেশের বিপক্ষে বুমরাহ খুব একটা খেলেননি, আর সেখানেই ভারতের টেস্ট জয়ের সংখ্যাটা বেশি।

Jasprit Bumrah poses with his ICC Awards, Pakistan vs India, ICC Men's Champions Trophy, Dubai, February 23, 2025
গত বছর আইসিসির টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি উভয় বর্ষসেরা একাদশেই ছিলেন জাসপ্রিত বুমরাহ

সেই বিবেচনায় সেনা দেশে বুমরাহ’র অভিষেকের পর অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে ভারত। নিজেদের ৮৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে সেনা দেশে ভারতের জয় ১৮টি। এর মধ্যে ১২টি জয়ই এসেছে গত ৭ বছরে, এর মধ্যে ১০ ম্যাচে সরাসরি অবদান রয়েছে বুমরাহ’র। এ ছাড়া সেনা দেশগুলোর মাঠে সফরকারী বোলারদের মধ্যে চতুর্থ সর্বকালের সেরা উইকেটসংগ্রাহক (১৫০) এখন বুমরাহ। তালিকার বাকি সবাই অবসরপ্রাপ্ত। যেখানে স্ট্রাইকরেটে (৪৬.১) তার ওপরে আছেন কেবল একজন। তিনি হচ্ছেন ইংল্যান্ডের সিডনি বার্নস (৪৪.৫)।

এএইচএস