বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ সরানো নিয়ে জটিলতায় আইসিসি, যা হতে পারে

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে নির্ধারিত বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য ভেন্যুতে সরিয়ে নিতে বিসিবির অনুরোধ বিবেচনায় নিতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে বিষয়টি সহজ নয়। একাধিক জটিলতা ও বাস্তবতার কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
জানা যাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বৈঠকে বসেনি আইসিসি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সূচি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের লজিস্টিক জটিলতা রয়েছে। সব দিক বিবেচনা করেই আইসিসি সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে দ্রুত কোনো ঘোষণা আসার সম্ভাবনা কম।
বিসিসিআইয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
আসন্ন টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক হিসেবে এই বিষয়ে বড় ভূমিকা থাকবে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড তথা বিসিসিআইয়ের। বিশ্বকাপ শুরু হতে এখন আর মাত্র ৩০ দিনের একটু বেশি সময় বাকি। এমন অবস্থায় শুধু বাংলাদেশের ম্যাচ নয়, একাধিক দলের সূচি বদলাতে হতে পারে; যা বাস্তবায়ন কিছুটা কঠিন। এই বাস্তবতাই বিসিবিকে জানাতে পারে আইসিসি।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী গ্রুপ ‘সি’-তে রয়েছে বাংলাদেশ। এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাশাপাশি নেপাল ও ইতালি। সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের চারটি লিগ ম্যাচই ভারতের মাটিতে—এর মধ্যে তিনটি কলকাতার ইডেন গার্ডেনে এবং একটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে।

সূচি পরিবর্তন হলে শুধু গ্রুপ পর্বেই নয়, সুপার এইট বা পরবর্তী ধাপেও ব্যাপক রদবদল প্রয়োজন হতে পারে। গত আসরের মতো বাংলাদেশ যদি সুপার এইটে ওঠে কিংবা আরও এগোয়, তাহলে পুরো টুর্নামেন্টের কাঠামোই নতুন করে সাজাতে হতে পারে। এতে দর্শকদের ভ্রমণ ও টিকিট–সংক্রান্ত পরিকল্পনাও ব্যাহত হবে।
ক্রিকবাজ জানিয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে আইসিসির অভ্যন্তরীণ বৈঠক হতে পারে। আইসিসির একাংশের মতে, এটি মূলত বিসিসিআই ও বিসিবির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ইস্যু। এত দেরিতে আইসিসিকে টেনে আনা ঠিক নয় বলেও মনে করছেন তারা। তবে আইসিসি তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না; বরং বিসিবিকে বাস্তব সীমাবদ্ধতাগুলো ব্যাখ্যা করবে।
সরকারের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা
এই ইস্যুতে দুই দেশের সরকারের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিসিসিআই সাধারণত বড় সিদ্ধান্তে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পরামর্শ নিয়ে থাকে। ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধে ভারত সরকার কী অবস্থান নেয়, তা এখনো অনিশ্চিত। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বাংলাদেশ সফর করেছেন। তবে সেটি এই ইস্যুতে কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না—এ বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মুস্তাফিজুর ইস্যুর প্রতিক্রিয়া
এমন পরিস্থিতির পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিসিসিআইয়ের নির্দেশ। ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’র কথা উল্লেখ করে বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নেয়, যদিও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার ‘কথিত’ অভিযোগই এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ।
বিসিবির বিবৃতি
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর নিশ্চিত করেছে বিসিবি। আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু ভারতের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে বিসিবি।
বিসিবি জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের একটি জরুরি সভা আজ (৪ জানুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।'

'পর্ষদ গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে এবং ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের জাতীয় দলের অংশগ্রহণ ঘিরে সৃষ্ট সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। বর্তমান পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন, ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ এবং বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বর্তমান অবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয় দল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ভারতে ভ্রমণ করবে না। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, টুর্নামেন্টের কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) অনুরোধ জানিয়েছে, বাংলাদেশের সব ম্যাচ যেন ভারতের বাইরে কোনো ভেন্যুতে স্থানান্তর করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।'
'পর্ষদের বিশ্বাস, এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের খেলোয়াড়, দলীয় কর্মকর্তা, বোর্ড সদস্য এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং দলকে একটি নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আশা করছে, আইসিসি পরিস্থিতিটি যথাযথভাবে অনুধাবন করবে এবং এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাবে।’
বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের ম্যাচ
৭ ফেব্রুয়ারি: ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম বাংলাদেশ (ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা)
৯ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশ বনাম ইতালি (ইডেন গার্ডেন্স)
১৪ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ড (ইডেন গার্ডেন্স)
১৭ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশ বনাম নেপাল (ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম, মুম্বাই)
এফআই