১ বছর আগে ফুটবল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আর ৬ মাসও বাকি নেই। তবে সময়টা আরও আগের, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চোট পেয়ে ফুটবলকে বিদায় বলে দিতে চেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলার সময় তার তিনি বাঁ হাঁটুর অ্যান্টেরিওর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ইনজুরিতে পড়েন। সেই চোট থেকে পুনর্বাসনকালকে তিনি বর্ণনা করেছেন ‘ভয়ঙ্কর ও নির্মম’ হিসেবে।
মার্টিনেজ বলেন, ‘চোট কাটানোর চেষ্টা চলছিল তখন, কিন্তু প্রথম দুই-তিন সপ্তাহ আমি আর ফুটবলে ফিরতেই চাইনি। আমি পুরোপুরি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি, কারণ ব্যথা ছিল অসহনীয়। আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল– “আমি বাড়ি যাব, আর্জেন্টিনায় গিয়ে পরিবারের কাছে থাকব। আর কষ্ট নিতে চাই না, শুধু ভালো থাকতে চাই।” এমন অবস্থায় মানুষ নিজেকেই খুঁজে পায় না, তাই যেকোনো কথা বলে ফেলে।’
২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের (এএফএ) স্টুডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। স্বভাবতই ২০২৬ বিশ্বকাপেও আলবিসেলেস্তেদের জার্সি গায়ে জড়ানোর স্বপ্ন বুনছেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। কিন্তু এক বছর আগেও তার মানসিক অবস্থা ঠিক এই পর্যায়ে ছিল না। ২৭ বছর বয়সী এই ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার বলেন, ‘ওই সময়ে আসলে আমি নিজের মধ্যে ছিলাম না। শারীরিক, মানসিক ও ব্যক্তিগত সবদিক থেকেই নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে হয়। তখন মনে হয়, আমি আর ফুটবলারই নই।’

পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সেই তিন সপ্তাহকে শোকের সময় হিসেবে মেনে নেন মার্টিনেজ। মানসিকভাবে আবারও ঠিক জায়গায় ফিরতে সাহায্য করেছে তার সদ্যজাত সন্তান। চোটে পড়ার ঠিক পরের মাসেই প্রথম সন্তানের বাবা হন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। সে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন আমার মেয়ের জন্ম হয়, তখনই বলি– ‘না, না…আমি কোনোভাবেই হাল ছাড়ব না।’ সে ছিল আমার প্রতিদিনের প্রেরণা। প্রতিটি অনুশীলনে আমি নিজের সেরাটা দিয়েছি শুধুই আমার মেয়ের জন্য।’
পরিবার ও বন্ধুরা সেই কঠিন সময় পেরোতে ভূমিকা রেখেছে মার্টিনেজের, ‘এক সময় নিজেকে আর ফুটবলারই মনে হয়নি। পরবর্তীতে আমি আমার কাছের মানুষ পরিবার ও বন্ধুদের ওপর ভরসা রাখি। তারা আমাকে হাল ছাড়তে দেয়নি, সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। এ ধরনের মানুষই আপনাকে হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো সহজ পথ বেছে নিতে দেবে না।’ যে চোটকে একসময় বিভীষিকা মনে হতো, সেটাই পরবর্তীতে তার চিন্তাভাবনা বদলে দেয়। নিউক্যাসলের বিপক্ষে ২৬ ডিসেম্বর ইউনাইটেডের জয়ের ম্যাচে ১০ মাস পর মাঠে ফেরেন মার্টিনেজ।
আর্জেন্টাইন এই তারকা বলেন, ‘হয়তো এই চোটের জন্য ধন্যবাদ জানানো কঠিন শোনায়, কারণ কেউই চোট পেতে চায় না। কিন্তু আমি বলতে পারি, চোটের কারণেই আজ মানুষ হিসেবে আমি অনেক বদলেছি। জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। আমি এখন জীবন, আবহাওয়া, ঘাসের গন্ধ, বল এবং মাঠে নামা সবকিছুকেই নতুনভাবে মূল্য দিই।’
মার্টিনেজের কাছে মাঠে ফেরার অনুভূতিটা এমন, ‘আমি এখন খুব ভালো অনুভব করছি। ক্লাব আমার জন্য দারুণ কাজ করেছে, যা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে আমি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো আছি।’ আগামী জুন-জুলাইতে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ৪৮ দলের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপের মেগা আসর বসবে। যেখানে কাকতালীয় ও দুর্ভাগ্যের কিছু না ঘটলে লিওনেল মেসির দলে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে খেলতে দেখার সম্ভাবনা প্রবল!
এএইচএস