১০ জনের সোসিয়েদাদের কাছে থামল বার্সার জয়যাত্রা

রিয়াল অ্যারেনায় টানটান উত্তেজনার ম্যাচে লা লিগার শীর্ষ দল বার্সেলোনাকে হারাল ১০ জনের রিয়াল সোসিয়েদাদ। টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর ২-১ ব্যবধানে হারল কাতালান জায়ান্টরা।
পুরো ম্যাচে বার্সেলোনা দুর্দান্ত খেলেছে। মাইকেল ওয়ারজাবালা সোসিয়েদাদকে এগিয়ে দেওয়ার আগে বার্সার তিনটি গোল বাতিল হয় এবং একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বদলে যায় অফসাইডের কারণে। মার্কাস র্যাশফোর্ড বেঞ্চ থেকে উঠে আসার আট মিনিট পর গোল করে সমতা ফেরান। এর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সোসিয়েদাদ আবার লিড নেয় গনসালো গুয়েদেসের গোলে। এমনকি শেষ দিকে কার্লোস সোলার সরাসরি লাল কার্ড দেখলেও ১০ জনের সোসিয়েদাদ জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।
হ্যান্সি ফ্লিকের দল ১২ ম্যাচে প্রথম হার দেখল। তাতে লিগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান কমে দাঁড়াল মাত্র ১-এ। লিগের চলতি মৌসুমে তৃতীয় হারের ম্যাচে লম্বা সময় আধিপত্য ছিল বার্সার। কিন্তু ভাগ্য তাদের সহায় ছিল না। বিরতির পর তিনবার গোলফ্রেম তাদের হতাশ করে। সোসিয়েদাদ গোলকিপার আলেহান্দ্রো রেমিরো দারুণ কয়েকটি সেভে হতাশ করেন দানি ওলমো ও রবার্ট লেভানডোভস্কিকে।
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই সোসিয়েদাদ বল জালে জড়িয়েছিল, কিন্তু সহকারী রেফারি অফসাইডের সংকেত দেওয়ায় ওয়ারজাবালের সেই গোলটি বাতিল হয়। শুরুর সেই ধাক্কা সামলে বার্সেলোনা দ্রুতই খেলায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। ইয়ামালের পাস থেকে পেদ্রি বল পেলেও সেটি সরাসরি গোলরক্ষক রেমিরোর হাতে মারেন। কিছুক্ষণ পর ফের্মিন লোপেস নিচু শটে বল জালে পাঠালে বার্সেলোনা উদযাপনে মেতেছিল, কিন্তু ভিএআর চেক করে দেখা যায় গোলটির আগে তাকেফুসা কুবোকে ফাউল করা হয়েছিল, ফলে গোলটি বাতিল হয়।
পেদ্রির একটি ক্রস থেকে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং বল স্পর্শ করে জালে পাঠালেও তিনি অফসাইডে ছিলেন। এমনকি ইয়ামাল একটি কঠিন কোণ থেকে বল জালে জড়ালেও খুব সামান্য ব্যবধানে সেটিও অফসাইড ঘোষণা করা হয়।
এতকিছুর মাঝেই ম্যাচের ৩২ মিনিটে ডেডলক ভাঙে সোসিয়েদাদ। গুয়েদেসের ক্রস থেকে ব্যাক পোস্টে থাকা ওয়ারজাবাল ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে ভলিতে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ওলমো ও ইয়ামালের শট ঠেকিয়ে দেন রেমিরো। বিরতির ঠিক আগে ইয়ামালকে বক্সে ইগর জুবেলদিয়া ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন, কিন্তু পরে ভিএআর-এ দেখা যায় ইয়ামাল অফসাইডে ছিলেন, ফলে পেনাল্টি বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধেও বার্সেলোনার আক্রমণের জোয়ার অব্যাহত ছিল। ওলমোর দুটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে, যার মধ্যে দ্বিতীয়টি রেমিরো আঙুলের ডগা দিয়ে ছুঁয়ে পোস্টের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। বদলি হিসেবে নামা লেভানডোভস্কি ইয়ামালের ক্রস থেকে জোরালো হেডার নিলেও রেমিরো আবারও অবিশ্বাস্য দক্ষতায় সেটি গোলপোস্টের বারে লাগিয়ে দেন।
অবশেষে ৭০ মিনিটে বার্সেলোনা সমতায় ফেরে। ইয়ামালের ক্রস থেকে র্যাশফোর্ড দারুণ দক্ষতায় হেডে গোল করেন। কিন্তু সমতায় ফেরার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি; কিক-অফের কয়েক সেকেন্ড পরেই আবারও পিছিয়ে পড়ে বার্সেলোনা। কার্লোস সোলারের হেডার গোলরক্ষক গার্সিয়া ঠেকিয়ে দিলেও বার্সা ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন। ফিরতি বলে গুয়েদেস জোরালো শটে গোল করে সোসিয়েদাদকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
এই গোলের পর বার্সেলোনার ছন্দে কিছুটা পতন ঘটে। সোসিয়েদাদ ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু ওয়ারজাবালের ফ্রি-হেডার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং জুবেলদিয়ার একটি লব গোললাইন থেকে পাউ কুবারসি হেডের মাধ্যমে ক্লিয়ার করেন।
শেষ দিকে জুলস কুন্দের হেডার ক্রসবারের নিচে লেগে ফিরে আসে। ৮৮ মিনিটে পেদ্রিকে বাজেভাবে ফাউল করার জন্য সোলারকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। ১০ জনের দল নিয়ে সোসিয়েদাদ অতিরিক্ত ৯ মিনিট রক্ষণ সামলে এক স্মরণীয় জয় তুলে নেয়। তাতে পয়েন্ট টেবিলের অষ্টম স্থানে উঠেছে তারা।
এফএইচএম/