ইতিহাস গড়ার ম্যাচে পিএসজির হতাশার হার

ইতিহাস গড়ার রাতটা স্মরণীয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লিসবনের আলোয় লেখা হলো পিএসজির আরেকটি ইউরোপীয় হতাশার গল্প। বল দখল, আক্রমণ আর সুযোগের ছড়াছড়ি থাকলেও শেষ পর্যন্ত হাসিমুখে মাঠ ছাড়া হলো না ফরাসি ক্লাবটির ফুটবলারদের। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং সিপির কাছে ২-১ গোল ব্যবধানে হেরেছে পিএসজি।
ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় প্রথম ফরাসি ক্লাব হিসেবে ৩০০তম ম্যাচ খেলতে নামে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন। রেকর্ড গড়ার ম্যাচে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষই পায় চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এস্তাদিও হোসে আলভালাদিওতে সহজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলতে নামেন লুইস এনরিখের শিষ্যরা।
ম্যাচের বেশিরভাগ সময় জুড়েই আধিপত্য ছিল পিএসজির। প্রথমার্ধে ৭৮ শতাংশ বল দখলের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোলবারের দিকে নেয় ১৫টি শট। এর মধ্যে চারটি অন টার্গেটে। কিন্তু গোলের দেখা মেলেনি। সুযোগ নষ্টের মাশুল দিতে হয় শেষ পর্যন্ত।
দ্বিতীয়ার্ধে নাটক জমে ওঠে। ৭৪তম মিনিটে স্পোর্টিং সিপিকে এগিয়ে দেন লুইস সুয়ারেজ। পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় পিএসজি। ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা খভিচা কভারাতস্কেলিয়া দুর্দান্ত এক শটে গোল করে পিএসজিকে সমতায় ফেরান। এসময় মনে হচ্ছিল ১-১ ব্যবধানেই শেষ হবে ম্যাচ।
কিন্তু ম্যাচের নাটকীয়তা তখনও বাকিই ছিল। ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে আরও একবার পিএসজির জালে বল পাঠান লুইস সুয়ারেজ। ফরাসি ক্লাবটির রক্ষণভাগের ঢিলেমি ও গোলরক্ষক লুকাস শেভালিয়েরের ভুল সিদ্ধান্ত কাজে লাগান তিনি। সব মিলিয়ে ম্যাচ হাতছাড়া হয় পিএসজির। ২-১ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয় স্বাগতিক স্পোর্টিং সিপি।
অবশ্য এই হারের পরও পয়েন্ট টেবিলের পিএসজির নিজেদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ৭ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরেই রয়েছে ফরাসি ক্লাবটি। অন্যদিকে পিএসজির বিপক্ষে ৩ পয়েন্ট অর্জন করে বড় লাফ দিয়েছে স্পোর্টিং সিপি। ছয় ধাপ এগিয়ে ছয় নম্বরে অবস্থান করছে তারা। ৭ ম্যাচে তাদেরও সংগ্রহে আছে ১৩ পয়েন্ট।
এমএমএম/