বিজ্ঞাপন

মদ-কাণ্ডে অভিযুক্ত ইংলিশ ক্রিকেটারদের জন্য কারফিউ জারি!

মদ-কাণ্ডে অভিযুক্ত ইংলিশ ক্রিকেটারদের জন্য কারফিউ জারি!

২০২৫ সালের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল ইংল্যান্ড। তৃতীয় ম্যাচের আগে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক মাতাল হয়ে সেখানকার একটি নাইটক্লাব বাউন্সারের (নিরাপত্তাকর্মী) সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। যার জন্য ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানা এবং মাঠের বাইরের আচরণের জন্য চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয় ব্রুককে। এরপরও ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্বে বহাল থাকাটা ‘সৌভাগ্যের’ বলে মনে করেন তিনি।

বর্তমানে বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে সীমিত সংস্করণের দুই ফরম্যাটের সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছে ইংল্যান্ড। সেখানেই নিউজিল্যান্ডে ঘটানো অনাকাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্তের কথা গণমাধ্যমের সরলভাবে স্বীকার করেন ব্রুক, ‘আমি স্পষ্টভাবে একটি বড় ভুল করেছি। কেবল একজন খেলোয়াড় হিসেবে নয়, একজন অধিনায়ক হিসেবেও (ভুল)। এটা অত্যন্ত অপেশাদার আচরণ। যদিও আমার সামনে থেকে (ইতিবাচকভাবে) নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।’

ভুল স্বীকার করে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড, সতীর্থ এবং সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান তিনি, ‘আমি নিজের ভুল থেকে শিখেছি। অনেক ভেবেছি কী ঘটেছে, এবং বুঝেছি এটা ঠিক করিনি। আমি আমার সতীর্থদের কাছে, সমর্থকদের কাছে– যারা দূর-দূরান্ত থেকে অকেন টাকা খরচ করে আমাদের খেলা দেখতে আসে এবং ইসিবির কাছেও ক্ষমা চেয়েছি। আমি তাদের কঠিন অবস্থায় ফেলেছি। এটা আর কখনও হবে না। আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

Ben Stokes, Joe Root and Harry Brook look bewildered as they leave the field in Perth, Australia vs England, 1st Test, The Ashes, Perth Stadium, November 22, 2025

অক্টোবরে যখন এমন ঘটনা ঘটে, তখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডের অপেক্ষায় ছিল ইংল্যান্ড। তার আগের রাতে ব্রুকসহ কয়েকজন সফরকারী খেলোয়াড় মদ্যপান করতে বাইরে বেরিয়েছিলেন। সেই ম্যাচটি ছিল অ্যাশেজ শুরুর তিন সপ্তাহ আগে ইংল্যান্ডের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সেই সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা জানিয়ে ব্রুক বলেন, ‘আমি একাই একটি নাইটক্লাবে গিয়েছি, যেখানে ঢোকার চেষ্টা করলে এক বাউন্সার আমাকে ঘুষি মারে। এর আগে আমরা আগে দু-একটি পানীয় নিয়েছিলাম, তারপর আমি নিজেই আরও একটু বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। তখন একাই ছিলাম। ক্লাবে ঢোকার চেষ্টা করতেই বাউন্সার আমাকে ঘুষি মারে। শুরু থেকেই আমার এমন মনোভাব নিয়ে থাকা উচিত হয়নি। আমি পুরোপুরি মাতাল ছিলাম না, তবে এক গ্লাস বেশি খেয়ে ফেলেছিলাম।’

ধারণা করা হচ্ছিল– ওই সময় ব্রুক অধিনায়কত্ব হারাবেন। তেমন কিছু না হওয়া নিজের জন্য সৌভাগ্যের বলে মনে করেন এই তারকা ব্যাটার, ‘আমি কখনও নিজে থেকে পদত্যাগ করার কথা ভাবিনি। তবে বিষয়টা (বরখাস্ত হওয়ার শঙ্কা) তখন মাথায় ছিল। সিদ্ধান্তটা কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দিই। তারা যদি আমাকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দিত, তা আমি মেনে নিতাম– যতক্ষণ আমি ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে পারতাম। আমি ভাগ্যবান যে চাকরিটা টিকে গেছে। গতকালই আমি দলের সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছি। একজন খেলোয়াড় এবং অধিনায়ক হিসেবে এটি অগ্রহণযোগ্য। আমি নিজেই তা স্বীকার করছি।’

২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকসও একটি নাইটক্লাব কাণ্ডে জড়িয়েছিলেন। তার সহায়তা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে ব্রুক বলেন, ‘তিনি (স্টোকস) আমার কাজে খুশি ছিলেন না, তবে আমাকে বুঝতে সাহায্য করেছেন। তিনি জানেন এই পরিস্থিতি কেমন লাগে। আমরা কয়েকবার কথা বলেছি, তারপর বিষয়টা নিয়ে সামনে এগিয়ে গেছি। (অস্ট্রেলিয়ায়) কোনো মদ্যপানের সংস্কৃতি নেই। সবাই নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারে। আমরা শুধু মদ খেয়েই সময় কাটাইনি। গলফ খেলেছি, ক্যাফেতে গিয়েছি, কফি খেয়েছি। মাঝে মাঝে দু-একটা পানীয় নেওয়াটা খারাপ কিছু নয়। এটা মানুষের স্বাভাবিক আচরণ।’

Charith Asalanka and Harry Brook with the series trophy, Sri Lanka vs England, 1st ODI, Colombo, January 21, 2026

আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কা সফরে ইংলিশ ক্রিকেটারদের মধ্যরাতের পর বাইরে না থাকার ওপর কারফিউ দেওয়া হয়েছে। ব্রুক অবশ্য এতে সমস্যা দেখেন না, ‘এটা দলগত সিদ্ধান্ত। আমরা মনে করি, এতে আমাদের পারফরম্যান্স ও ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে।’

এএইচএস