বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ, যা বললেন বিসিবি পরিচালকরা

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এসেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের মাটিতে গিয়ে খেলতে না চাওয়ার বিষয়টি আইসিসিকে কয়েক দফায় জানিয়েছিল বিসিবি। প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে আলাপের পর গতকাল আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টটিতে নেওয়া হয়েছে।
আইসিসির ঘোষণা আসার দিনই (২৪ জানুয়ারি) বোর্ড সভায় বসেছিলেন বিসিবি পরিচালকরা। যা নিয়ে পরবর্তীতে বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন বলেছেন, ‘বিশ্বকাপেরটা পুরো নিরাপত্তার বিষয়। এমনটা আগে হয়তো হয়নি, এবার হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ভারতে আমাদের খেলা নিরাপদ না। একাধিকবার তাদের (আইসিসি) সঙ্গে মিটিং হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিও ছিলেন। তারা বলেছেন সূচি বদল সম্ভব না। সরকার থেকে সিদ্ধান্ত আসে, সূচি বদল না হলে ভারতে গিয়ে (বাংলাদেশের) খেলা সম্ভব হবে না। আইসিসিকে আমরা বিনয়ের সঙ্গে জানিয়েছিলাম– এই সূচি অনুযায়ী আমাদের খেলা সম্ভব না। আমরা আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। ভারতে গিয়ে খেলতে পারছি না আমরা, আর কোনো আলাদা ব্যাপারেও (আইনি পথে) আমরা যাচ্ছি না।’
দেশের চারটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে জানান বিসিবির আরেক পরিচালক আসিফ আকবর, ‘বাংলাদেশ বিশ্বকাপে যাচ্ছে না নিরাপত্তা ঝুঁকির জন্য। বিসিবি, বিসিসিআই, আইসিসি একেকটা প্রতিষ্ঠান। আমরা সরকারকে বলার পর তথ্য, পররাষ্ট্র, যুব ও ক্রীড়া এবং আইন চারটা মন্ত্রণালয় মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
আসিফ আরও জানান, ‘এখানে আপনারা অনেকে আছেন, সমর্থকরা আছে। তাদের সবার কথা ভাবতে হয়েছে। সরকার সবার কথা ভেবে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। বিসিসিআই কোনো রাষ্ট্র না। রাষ্ট্র টু রাষ্ট্র যখন কথা হয়েছে, আমরা সেরকম কিছু (নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চয়তা) পাইনি। আমরা কখনও বলিনি আমরা খেলতে চাইনি। সরকার থেকে বলা হয়েছে– আমরা নিরাপদ না। গতকালও আসিফ নজরুল (যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা) স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। ইনটেলিজেন্স রিপোর্ট থাকে একটা, গোয়েন্দা রিপোর্ট (এর ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত)।’
বিশ্বকাপসহ যেকোনো দেশেই সফরের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় অনুমোদন লাগে জানিয়ে পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো সফরেই আমাদের ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। সরকার আমাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছে, এটা আমাদের ফলো করতে হবে। আমি ব্যর্থ বলব না।’
এসএইচ/এএইচএস