প্রথম বিশ্বকাপ মিস করায় খারাপ লাগছে বিপিএলের সেরা ব্যাটারের

২০২২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল পারভেজ হোসেন ইমনের। প্রথমবারের মতো তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণেরও দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। কিন্তু নাটকীয়ভাবে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সদ্য সমাপ্ত আসরের সর্বোচ্চ এই রানসংগ্রাহকের মেগা ইভেন্টে নামার আশা এখনই পূরণ হচ্ছে না।
নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে চায়নি বাংলাদেশ। তারা শ্রীলঙ্কায় নিজেদের ভেন্যু সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানালেও মানেনি আইসিসি। ফলে স্বভাবতই নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ ইমন। এবারের বিপিএলে তিনি সিলেট টাইটান্সের হয়ে দারুণ আসর কাটিয়েছেন। ইমন ১২ ম্যাচে ১৩৭.৯০ স্ট্রাইকরেট এবং ৩৯.৫০ গড়ে ৩৯৫ রান করেছেন। সেরা ব্যাটারের পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে।
২৩ বছর বয়সী বাঁ–হাতি এই ব্যাটার সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া প্রতিবেদক সাকিব শাওনকে। যেখানে বিপিএলে ভিন্ন ভিন্ন পজিশনেও ব্যাটিংয়ে আলো ছড়ানো, প্রথম বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হাতছাড়া করা এবং অবসর সময়ের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন পারভেজ হোসেন ইমন।
বিপিএলে ব্যাট হাতে এবার দারুণ একটা মৌসুম কাটিয়েছেন…
ইমন : চেষ্টা করেছি নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য। বিপিএলের শুরুর দিকে তো ৪ নম্বরে ব্যাট করেছি, পরবর্তীতে ওপেনার হিসেবে খেলি। দলের হয়ে যখন যেখানে সুযোগ পেয়েছি চেষ্টা করেছি ভালো করার।
আসর শুরুর আগে কি সেরা রানসংগ্রাহক হওয়ার মতো কোনো লক্ষ্য ছিল?
ইমন : না, এমনটা ভাবিনি। সেরা রানসংগ্রাহক হব এটা আসলে ভাবিনি। আমার চিন্তা ছিল প্রতিটা ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলার। আমি আমার খেলাটা খেলেছি। পরে যখন সর্বোচ্চ রান করতে পেরেছি, তখন ভালো লাগছিল। বিপিএলের মতো বড় একটা টুর্নামেন্টে ভালো করতে পারা অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়, যদিও ফাইনাল খেলা বাইরে থেকে দেখেছি।
ওপেনার হলেও প্রথম দিকে ৪ নম্বরে ব্যাট করেও রান পেয়েছেন, সেই সময় কোন কৌশল মনস্থির করেছিলেন?
ইমন : আমাকে আগেই বলা হয়েছিল যে নম্বর ফোরের জন্য রেডি হতে। যে কারণে আমি ওভাবে মাইন্ড সেটআপ করেছি, নরমাল প্ল্যানও করেছিলাম। কোন অবস্থায় কীভাবে ব্যাট করতে হয় সেগুলো ভেবেছি। প্রথম দুই ম্যাচের পর বাকি ম্যাচগুলোয় ব্যাট করতে সুবিধা হয়েছে। আমার খুব একটা স্ট্রাগল করতে হয়নি, আমি আমার স্বাভাবিক ক্রিকেটটাই খেলেছি।
সাধারণত ওপেনাররা নিচের দিকে ব্যাট করতে চান না আপনি কীভাবে রাজি হয়েছেন?
ইমন : এখানে রাজি হওয়া বা না হওয়ার বিষয় ছিল না। তখন দলের যেখানে আমাকে প্রয়োজন ছিল আমি সেটাই বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি। আলাদা করে কোনো চিন্তা থেকে নিজেকে রাজি করানোর কিছু ছিল না।
৪ নম্বর পজিশনে রান পাচ্ছিলেন, পরে আবার ওপেনিংয়ে খেলানোর কারণ কী?
ইমন : এটা বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য (আবার ওপেনার হিসেবে ফেরা)। যেহেতু সামনে বিশ্বকাপ ছিল, সেখানে আমার ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে হতো। আবার বিশ্বকাপেও চার নম্বরে ব্যাট করা লাগতে পারত। সেই হিসেবে এই পজিশনের জন্য বিপিএলে অনুশীলন করা। পুরো বিশ্বকাপের জন্যই বিপিএলটা আমার প্রস্তুতির মঞ্চ ছিল, ব্যাটিং অর্ডারও তাই।

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আপনার রানআউটের পর সিলেট কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায়, তখন আপনার মাথায় কী চলছিল?
ইমন : ম্যাচ শেষ হওয়ার পর কিছুটা খারাপ লাগছিল। ওই রানআউটটা না হলে রেজাল্ট ভিন্ন কিছু হতে পারত। এ ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা আসছিল না মাথায়। রানআউটের পর তখন রাগ হচ্ছিল না, তবে খারাপ লাগছিল। এত দূর পর্যন্ত দলকে নিয়ে আসা হলো টুর্নামেন্টে। এই হারের ফলেই তো টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যাই।
আপনি থাকলে কি জয় সম্ভব হতো?
ইমন : আমার মনে হয় আমার উইকেটটা শেষ পর্যন্ত থাকলে আমরা জিতেই যেতাম। কারণ আমাদের খুব ভালো পজিশন ছিল, আমি যখন আউট হওয়ার পর আরও দুইটা উইকেট দ্রুত পড়ে যায়। এখানেই আসলে আমরা ম্যাচটা হাত থেকে ফসকে ফেলি।
এবারের বিপিএলে সবমিলিয়ে আমেজ কি কিছুটা কম ছিল? উল্লেখযোগ্য বড় বিদেশি ছিল না, বড় রানের ম্যাচ হয়নি এবং ভেন্যুও কমে দুইটাতে নেমে আসে…
ইমন : কম ছিল সেটা বলব না। আমরা সিলেট টাইটান্স নিজেদের হোম ভেন্যুতে খেলেছি অনেক ম্যাচ। খুব ভালো লেগেছে যে দর্শক অনেক ছিল, সবাই মাঠে এসে আমাদের অনেক সাপোর্ট করেছে। এরপর ঢাকায় অনেকদিন পরে খেলা হয়েছে, দর্শকও ছিল। দর্শকরা কিন্তু মাঠে আসে খেলা দেখতে। ম্যাচে খারাপ করলে তারা সমালোচনা করবে এটা স্বাভাবিক। যত যাই হোক তারা কিন্তু ঠিকই মাঠে এসে সাপোর্ট করে।
আপনার দলে বিশ্বকাপজয়ী মঈন আলি ও ক্রিস ওকস ছিল। তাদের থেকে ব্যাটিং নিয়ে কোনো পরামর্শ পেয়েছেন কি না?
ইমন : মঈন আলীর সঙ্গে আমার স্বাভাবিক ব্যাটিং নিয়ে একটু কথাবার্তা হয়েছে। তবে কীভাবে ব্যাটিংয়ে উন্নতি করা যায় বা আরও অনেক বিষয় ছিল আরকি। আর ওকসের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি আসলে, কারণ অল্প সময়ের জন্য ছিল সে।

উইকেটের পেছনেও দারুণ পারফর্ম করেছেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড় নির্বাচনেও নিশ্চয়ই সেটা কাজে দেবে। টিম ম্যানেজমেন্ট চাইলে জাতীয় দলেও উইকেটকিপিং করবেন কি না?
ইমন : আমি বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করি না। কারণ আমাদের দলে এখন অনেক উইকেটরক্ষক আছে। আমার মনে হয় না যে আমি এই মুহূর্তে সুযোগ পাব (উইকেটরক্ষক হিসেবে)। আমি ব্যাটিংটা নিয়ে ফোকাস রাখতে চাই। আর উইকেটরক্ষক হিসেবেও অনুশীলন করব। মূলত এবারের বিপিএলে সুযোগ এসেছিল উইকেটরক্ষক থাকার, আমি সেটা কাজে লাগিয়েছি। বিপিএলের মতো একটা টুর্নামেন্টে সুযোগটা কাজে লাগাতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ। আমি এটি কেবল সুযোগ হিসেবে নিয়েছি।
বিশ্বকাপ ঘিরে নিশ্চয়ই বড় পরিকল্পনা করেছিলেন…
ইমন : বড় পরিকল্পনা বলতে ওরকম কিছু না। এখনও খেলাটা হয়নি, যদিও নিজের ভেতর অনেক কিছু নিয়েই চিন্তা করছিলাম।
বাংলাদেশ দলের মতো আপনিও এবার বিশ্বকাপ খেলতে পারছেন না, কেমন অনুভূতি আপনার?
ইমন : অবশ্যই খারাপ লাগার কথা, আমার জন্য প্রথম বিশ্বকাপ ছিল, যদিও খেলতে পারছি না। এজন্য অবশ্যই খারাপ লাগতেছে। যেহেতু এখন বাসায় আছি, সেসব নিয়ে আর চিন্তা করি না। এগুলো নিয়ে যত চিন্তা করবেন তত খারাপ লাগবে।
খেলা যেহেতু নেই, এই সময়ে কী করবেন?
ইমন : খুব একটা ঘোরাঘুরি করা হয় না। বাসায় থাকতে চাই, পরিবারের সঙ্গে সময়টা উপভোগ করতেছি। আর ওয়ার্কআউট বলেন বা অনুশীলন সেগুলো তো করতেই হবে। আমাদের ছুটি মানেই তো আর পুরোপুরি ছুটি না। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে, সেটাই করব।
এসএইচ/এএইচএস
