টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৯ আসর, ৯টি অবিস্মরণীয় ইনিংস

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। নতুন আসরের আগে ফিরে তাকালে চোখে পড়ে এমন কিছু একক পারফরম্যান্স, যেসব ইনিংস ম্যাচ জেতানোর পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসেই স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।
২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসর। সেই বিশ্বকাপে যুবরাজ সিং দেখিয়েছিলেন আগ্রাসনের নতুন রূপ। ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকিয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম এই কীর্তির পাশাপাশি মাত্র ১২ বলে ফিফটি করে ভারতকে বড় স্কোর এনে দেন যুবরাজ। সেবার পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত।
পরের আসরে আবারও ফাইনাল খেলে পাকিস্তান। সেবার পাকিস্তানকে ফাইনালে উঠার নায়ক ছিলেন শহীদ আফ্রিদি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৩৪ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৫১ রানের ইনিংসের সঙ্গে বল হাতে ফিরিয়ে দেন হার্শেল গিবস ও এবি ডি ভিলিয়ার্সকে। তার ২-১৬ স্পেল পাকিস্তানকে টানা দ্বিতীয় ফাইনালে তোলে, পরে শিরোপাও জেতে দলটি।
২০১০ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন মাইকেল হাসি। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে সাত নম্বরে নেমে ২৪ বলে অপরাজিত ৬০ রান করেন তিনি। শেষ ওভারের দাপুটে ব্যাটিংয়ে এক বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
২০১২ সালের ফাইনালে সুনিল নারিনের রহস্যময় বোলিংয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। একই আসরে আরেকটি ঐতিহাসিক স্পেল আসে রঙ্গনা হেরাথের কাছ থেকে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৩ রানের খরচায় নেন ৫ উইকেট।
২০১৬ ফাইনালে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি উপহার দেন কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৯ রান। বেন স্টোকসের টানা চার বলে চার ছক্কায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শিরোপা এনে দেন তিনি।
২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক মিচেল মার্শ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে অপরাজিত ৭৭ রান করে ম্যাচসেরা হন তিনি। ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে তার জুটি অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন পূরণ করে।
২০২২ ফাইনালে ইংল্যান্ডকে শিরোপার স্বাদ এনে দেন বেন স্টোকস। পাকিস্তানের দেওয়া ১৩৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি।
সবশেষ ২০২৪ ফাইনালে ভারতের হয়ে দায়িত্বশীলতার প্রতীক হয়ে ওঠেন বিরাট কোহলি। দলীয় ৩৪ রানে তিন উইকেট হারানোর পর কোহলির ৭৬ রানের ইনিংসে ভারতকে এনে দেন ১৭৬ রানের পুঁজি। আর জাসপ্রিত বুমরাহর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৭ রানে জিতে শিরোপা ঘরে তোলে ভারত।
এমএমএম/