ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১১৪ রান, ১১৮ রান করেও হার দক্ষিণ আফ্রিকার

এই মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় কোনো ওয়ানডে নেই। তাই স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় সচেতনতা বাড়াতে ও ফান্ড তুলতে বেছে নেওয়া হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিকে। আর গোলাপি জার্সিতে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৬ রানের হার দেখল প্রোটিয়ারা।
বজ্রপাতের কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে দাঁড়ায় ১০ ওভারে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের ৭৫ মিনিট পর শুরু হয় খেলা। ইনিংস কমে দাঁড়ায় ১৬ ওভারের। ৬ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ উইকেটে ৬৬ রান করার পর আবার বজ্রপাত শুরু হলে প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে খেলা। পরবর্তীতে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে হয় ১০ ওভারের।
দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়তে অষ্টম ওভারে ২০ রান তুলে নেন শিমরন হেটমায়ার ও শাই হোপ। ইনিংসের শেষ বলে হেটমায়ারের ষষ্ঠ ছক্কাই হয়তো ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে, কারণ ৬ রানেই জিতেছে সফরকারীরা। ২২ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত ছিলেন উইন্ডিজ ব্যাটার। অধিনায়ক হোপ সমান রান করেন ২৫ বল খেলে। ১০ ওভারে ৬ উইকেটে ১১৪ রান তোলে উইন্ডিজ।
ডিএলএস মেথডে দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য ছিল ১২৫ রানের। প্রথম ওভারেই ১৯ রান তুলে শুরুটা দারুণ করেন কুইন্টন ডি কক। ফাফ ডু প্লেসিকে ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ড গড়ার দিনে এইডেন মার্করাম (২) হতাশ করেন। রোস্টন চেজ ও গুডাকেশ মোটির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রোটিয়ারা চার ওভারে ২ উইকেটে ৩৫ রান তোলে।
তখন স্বাগতিকদের রিকুয়ার্ড রান রেট ১৫। ষষ্ঠ ওভারে মোটির তিন বলের মধ্যে ফিরে যাওয়ার আগে রায়ান রিকেলটন ও ডেভাল্ড ব্রেভিস দুটি করে ছক্কা মেরে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ান।
জর্জে লিন্ডে ও জেসন স্মিথও হাত খুলে খেলতে থাকেন। পরের দুই ওভারে ৩৫ রান তোলেন তারা। নবম ওভারে লিন্ডে আউট হলে পথ হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। পরের দশ বলে ২৫ রান দরকার ছিল। ট্রিস্টান স্টাবস ছক্কা মেরে আশা জাগান। শেষ ওভারে প্রয়োজন কমে দাঁড়ায় ১৬-তে। শামার জোসেফ তৃতীয় বলে স্মিথের কাছে চার হজম করলেও শেষ তিনটি বল দারুণ করেন। এর মধ্যে একটিতে স্মিথের উইকেট নেন তিনি। শেষ দুই বলে ৯ রান লাগতো। পঞ্চম বলে লম্বা শট খেলতে গিয়ে ব্যাট ভাঙেন করবিন বশ। লং অন থেকে দৌড়ে এসে ক্যাচ মিস করেন পাওয়েল। দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে বশ ভাঙা ব্যাট মাটিতে না ছোঁয়ানোয় একটি রান কাটা পড়ে। শেষ বলে ৮ রান দরকার ছিল। এক রান করেন বশ। ১০ ওভার শেষে তাদের স্কোর ১১৮ রান। উইন্ডিজের চেয়ে চার রান বেশি করলেও ডিএলএস মেথডে লক্ষ্য থেকে সাত রান দূরে ছিল প্রোটিয়ারা।
১৭ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মাটি। ১৪৩ রান করে সিরিজের সেরা ডি কক। হারলেও ২-১ এ এগিয়ে থেকে সিরিজের ট্রফি নিয়ে উদযাপন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
এফএইচএম/