অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে পাকিস্তানি স্পিনারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক

ক্রিকেটে অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশনের নজির অনেক রয়েছে। যা কখনও কখনও প্রতিপক্ষে ব্যাটারদের বিভ্রান্তি কিংবা বিপত্তিতে ফেলে দেয়। এমনই ঘটনা ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে। এর আগেও পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। আবারও সৃষ্টি হলো তেমন কিছুরই। তারিকের বলে যেভাবে খেলতে চেয়েছিলেন সেভাবে হয়নি, পরে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন গ্রিন।
গতকাল (শনিবার) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান। আগে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিকরা অধিনায়ক সালমান আলি আগার ঝোড়ো ৭৬ এবং উসমান খানের ফিফটিতে ১৯৮ রান সংগ্রহ করে। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে আবরার আহমেদ ও শাদাব খানদের ঘূর্নিতে মাত্র ১০৮ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ৯০ রানের জয়ে ৭ বছর পর তাদের বিপক্ষে সিরিজ নিশ্চিত করল পাকিস্তান।
ম্যাচটিতে ২.৪ ওভারে ১৬ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট পেয়েছেন উসমান তারিক। তার করা ১১তম ওভারের পঞ্চম বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছেন গ্রিন। বোঝাই যাচ্ছিল তিনি উসমানের অ্যাকশনে বিভ্রান্ত হয়েছেন। ২০ বলে ৩৫ রান করে মাঠ ছাড়ার সময় সেই বোলিং অ্যাকশন অনুকরণ করে দেখাতে থাকেন গ্রিন। এরপর ডাগআউটে গিয়েও অজি কোচদের সামনে উসমানের নকল করেই তিনি কিছুটা থেমে গিয়ে বেসবল ছোড়ার মতো করে দেখান। সেখানে ঠিক কী কথা হচ্ছিল না জানা গেলেও, চাকিংয়ের অভিযোগ তোলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
— Pakistan Cricket (@TheRealPCB) January 31, 2026
এর আগেও সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের জন্য দু’বার অভিযুক্ত হয়েছিলেন উসমান তারিক। প্রতিবারই তিনি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। আম্পায়ারদের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষাও দিতে হয়। লাহোর ক্রিকেট একাডেমিতে হওয়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুনরায় বোলিংয়ে ফেরেন ২৮ বছর বয়সী এই অফস্পিনার। উসমানের দাবি– ‘আমার হাতে দুটি কনুই, ফলে আমার হাতও প্রাকৃতিকভাবে বেঁকে যায়। আমি (বোলিং অ্যাকশনের) পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণও হয়েছি। সবাই মনে করে আমি হাত বাঁকিয়ে ফেলি, কিন্তু দৃশ্যমান ওই বাঁক সম্পূর্ণ জৈবিক ব্যাপার।’
গত মাসে আরব আমিরাতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইএল টি-টোয়েন্টিতেও উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন অবৈধ বলে অভিযোগ দেন ইংল্যান্ডের ব্যাটার টম ব্যান্টন। ওই সময় পাকিস্তানি এই স্পিনার ‘অশিক্ষিত’ ক্রিকেটভক্তরাই এমন অভিযোগ তোলে বলে জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘এখানে (কনুইয়ে) উদ্বেগের বিষয় দুটি, যা আমাকে তা সোজা করতে দেয় না। বিষয়টি দর্শকদের বিভ্রান্তিতে ফেলে। পাকিস্তানে দু’বার পরীক্ষা দিয়েই আমি পাস করেছি। যখন কোনো বোলারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠে, তাকে অ্যাকশনে পরিবর্তন বা সংশোধন করতে বলা হয়, কিন্তু আমাকে কখনোই এমন কিছু বলা হয়নি। নিজের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী, কারণ আমি অন্তত জানি যে “বল ছুড়ে মারি না।”
‘আমার বার্তা হচ্ছে অভিযোগ তোলার আগে প্রত্যেক ব্যক্তিরই ক্রিকেট সম্পর্কে অধ্যায়ন করা দরকার, তারপর অভিযোগের দিকে যেতে পারেন। ক্রিকেটীয় জ্ঞান না থাকা মানে আপনি কেবলই নিজস্ব চিন্তার প্রতিফলন করছেন। এমন মূর্খতা জ্ঞানকে ধ্বংস করে। কারও সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে জ্ঞান অর্জন করাটা গুরুত্বপূর্ণ’, আরও যোগ করেন উসমান তারিক। এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের জার্সিতে ৩টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। যেখানে তার শিকার ৮ উইকেট। সবমিলিয়ে ৪১ টি-টোয়েন্টিতে ৬.৭৯ ইকোনমিতে ৬৭ উইকেট নিয়েছেন।
বোলিং অ্যাকশন সংক্রান্ত আইসিসির নিয়ম অনুসারে– কোনো ব্যক্তি বল ডেলিভারির সময় ১৫ ডিগ্রির বেশি কনুই বেঁকে গেলে সেটি অবৈধ বলে গণ্য হবে। যে পয়েন্ট থেকে একজন বোলার বোলিং শুরু করেন, তার হাত লম্বালম্বিভাবে বল ছেড়ে দেওয়ার সময় এটি লক্ষ্য করতে হবে। তবে প্রাকৃতিকভাবে কারও কনুইয়ের বাঁক যদি বেশি হয়ে তাকে, সেটি এই নিয়মে পড়বে না।
এএইচএস