বিশ্বকাপের সুপার সিক্সেই বাংলাদেশের বিদায়, কোথায়–কার ব্যর্থতা

বড় স্বপ্ন বড় লক্ষ্য নিয়ে যুব বিশ্বকাপ খেলতে গেল মাসে দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে ভক্ত-সমর্থকদেরও নজর ছিল শিরোপায়। তবে সেসব তো দূরে থাক, কাছাকাছিই যেতে পারল না আজিজুল হাকিম তামিমের দল। বিদায় নিয়েছে সুপার সিক্স থেকে।
গতকাল (শনিবার) শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতলেও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমির দৌড় থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে সুপার সিক্সে তাদের শেষ ম্যাচটি হয়ে ওঠে কেবলই নিয়মরক্ষার। এমন ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৭৪ রানে হারিয়ে স্বপ্নভঙ্গ যুব টাইগাররা আসর শেষ করেছে। হারারেতে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রান করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। জবাবে ৪৮.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রান করে জিম্বাবুয়ের যুবারা।
বিশ্বকাপ আসরজুড়েই ব্যর্থ ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। বড় মঞ্চে আবারও হতাশ করেছেন জাওয়াদ আবরার। এই ওপেনারের কাছ থেকে অনেক বড় প্রত্যাশা ছিল দলের। তবে আবরারের বিশ্বকাপ মিশনের রান দেখলেই কেবল হতাশা মিলবে। ভারতের বিপক্ষে ৫ (৩), যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪৭ (৪২), ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ (৩), জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৫ (৪৮)।
বিশ্বকাপে ৪ ইনিংসে ২০.৭৫ গড়ে ৮৩ রান, স্ট্রাইকরেট ৮৬। আরেক ওপেনার রিফাত বেগও করেছেন হতাশ। ক্রিজে থিতু হলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। মন্দের ভালো তামিম, তিন ফিফটিতে করেছেন ১৯৪ রান। মিডল অর্ডার ব্যাটিংয়েও ব্যর্থতার চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশের। কালাম সিদ্দিকি অলিন আসরজুড়ে কোনো ম্যাচেই অর্ধ-শতকের দেখা পাননি। একই চিত্র রিজান হোসেনের ব্যাটেও। এ ছাড়া মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, বশির রাতুল, ফরিদ হোসেনরাও ভুগেছেন রানখরায়।
বাংলাদেশের বোলিং বিভাগে দুই পেসার ছিলেন অদম্য। ইকবাল হোসেন ইমন ও আল ফাহাদ নিজেদের সেরাটা দেওয়ারই চেষ্টা করেছেন। ফাহাদ ১২ উইকেট (যৌথভাবে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ) এবং ইমন নিয়েছেন ১১ উইকেট (তৃতীয় সর্বোচ্চ)। তবে কার্যকর ছিলেন না রিজান হোসেন ও ইকবাল হোসেন জীবন, তারা বড় ভূমিকা রাখতে পারেননি টুর্নামেন্টজুড়ে। যে কারণে টুর্নামেন্ট থেকে আগেই ছিটকে পড়তে হলো যুবা টাইগারদের।
এসএইচ/এএইচএস