২০০৭ থেকে ২০২৪: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যত সেরা খেলোয়াড়

২০০৭ সালে আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিযোগিতায় এমন কিছু ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের মুহূর্ত দেখা গেছে, যা প্রায় সময় দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। ট্রফি জেতা চূড়ান্ত লক্ষ্য হলেও ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ পুরস্কারটি দেওয়া হয় তাদের, যারা ধারাবাহিকতা, ম্যাচ জেতানোর প্রভাব এবং চাপের মুখে পারফরম্যান্স করে একটি পুরো আসরে আধিপত্য বিস্তার করেন।
২০২৬ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর ঘনিয়ে আসছে। বিশ্বমঞ্চে অনন্য হয়ে উঠতে কেমন যোগ্যতা দরকার হয়, সেটা অতীতের বিজয়ীদের দিকে ফিরে তাকালে একটা ধারণা পাওয়া যায়।
২০২৬ সালের টুর্নামেন্টে ২০টি দলের ৫৫টি ম্যাচ হবে এবং ভেন্যুগুলো ভারতের পাঁচটি এবং শ্রীলঙ্কার তিনটি স্টেডিয়ামে। গ্রুপ পর্বে চারটি গ্রুপ থাকবে, যেখান থেকে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল ‘সুপার ৮’ এ যাবে এবং এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। বলাবাহুল্য, একাধিক ম্যাচ জুড়ে ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব আবারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বিভিন্ন দলের জন্য। বছরের পর বছর ধরে, ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ সম্মানটি বিশ্ব ক্রিকেটের কিছু বড় বড় তারকা নিজেদের করে নিয়েছেন:
আফ্রিদি তার বিস্ফোরক অলরাউন্ড নৈপুণ্য দিয়ে উদ্বোধনী আসরে নজর কেড়েছিলেন। অন্যদিকে ২০০৯ সালে ওপেনার হিসেবে দিলশানের আধিপত্য পাওয়ার প্লেতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংকে নতুনভাবে তুলে ধরেছিল। পিটারসেন ও ওয়াটসন দেখিয়েছিলেন কীভাবে বহুমুখীতা ও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বিভিন্ন কন্ডিশনে সফল হতে সাহায্য করে। আর ২০১৪ ও ২০১৬ সালে বিরাট কোহলির টানা দুটি পুরস্কার চাপের পরিস্থিতিতে তার অতুলনীয় ধারাবাহিকতার দৃষ্টান্ত।
সাম্প্রতিক আসরগুলোতে এই ধারায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ২০২১ সালে ওয়ার্নারের বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শিরোপা নিশ্চিত করেছিল। ২০২২ সালে স্যাম কারানের সুইং ও ডেথ বোলিং ছিল ট্রফি নির্ধারক এবং ২০২৪ সালে জসপ্রিত বুমরাহর মনোমুগ্ধকর নিখুঁত বোলিং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিজাত ফাস্ট বোলারের প্রভাবকে সামনে এনেছে।
২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আবারও উপমহাদেশে ফিরছে— যেখানে ইডেন গার্ডেনস, ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম ও নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে বড় ম্যাচগুলো হবে। পরবর্তী ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ হওয়ার লড়াই বরাবরের মতোই তীব্র হবে। ইতিহাস বলছে,
মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, আত্মসংযম ও টেকসই শ্রেষ্ঠত্ব আবারও সাধারণের থেকে সেরাদের আলাদা করবে।
২০০৭- শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান)
২০০৯- তিলকারত্নে দিলশান (শ্রীলঙ্কা)
২০১০- কেভিন পিটারসেন (ইংল্যান্ড)
২০১২- শেন ওয়াটসন (অস্ট্রেলিয়া)
২০১৪- বিরাট কোহলি (ভারত)
২০১৬- বিরাট কোহলি (ভারত)
২০২১- ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া)
২০২২- স্যাম কারান (ইংল্যান্ড)
২০২৪- জসপ্রিত বুমরাহ (ভারত)
এফএইচএম/