বিজ্ঞাপন

সংবাদমাধ্যম ডনের দাবি

পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত বদলাতে দরজার আড়ালে চেষ্টা চালাচ্ছে আইসিসি!

অ+
অ-
পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত বদলাতে দরজার আড়ালে চেষ্টা চালাচ্ছে আইসিসি!

নাটকীয়ভাবে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। তবে দেশটির সরকার জানিয়েছে– ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের নির্ধারিত ম্যাচটি তারা বয়কট করবে। অল্প সময়ের মাঝেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের অপেক্ষার কথা জানায় আইসিসি। পিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি দেয়নি। তবে এরই মাঝে নাকি দরজার আড়ালে তাদের সিদ্ধান্ত বদলানোর চেষ্টা চালাচ্ছে আইসিসি!

বিজ্ঞাপন

এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডন’। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়ার কথা। যে ম্যাচ থেকে মেগা টুর্নামেন্টটির বড় একটি অর্থ পকেটে পুরে আইসিসি। একইসঙ্গে এই দ্বৈরথ চলাকালে প্রতিটি সেকেন্ডই মূল্যবান বিজ্ঞাপনী ও টিভি সত্ত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানের জন্য। ফলে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করার জন্য পিসিবিকে অনুরোধ জানায়।

সূত্রের বরাতে ডন জানিয়েছে, বিশ্বকাপ সূচিতে থাকা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ১৫ দিন আগেই এলো বয়কটের ঘোষণা। এর মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য বিকল্প ভাবতে আইসিসির হাতে যথেষ্ট সময় আছে বলে মনে করে পাকিস্তান। একাধিক ক্রিকেট বোর্ডও আইসিসিকে সহায়তা করছে, যাতে পিসিবির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো যায়। বৃহৎ আর্থিক লোকসান এড়ানোর লক্ষ্যে আইসিসি দরজার আড়ালে পিসিবির সঙ্গে কথা চালাচালি করছে।

বিজ্ঞাপন

ঠিক কী কারণে পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে আইসিসির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে করা বৈষম্যের সিদ্ধান্তই এর নেপথ্য কারণ বলে উল্লেখ করেছিল দেশটির গণমাধ্যম জিও নিউজ। ভারতের মাটিতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে বাদ দেয় আইসিসি। তাদের প্রতি সংহতির কথা জানিয়ে আগেই প্রতিবাদ জানিয়েছিল পিসিবি। এমনকি তারা বিশ্বকাপ বয়কটেরও ইঙ্গিত দিয়েছিল।

এর আগে ১৯৯৬ বিশ্বকাপে নিরাপত্তা ইস্যুতে শ্রীলঙ্কার মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একইভাবে রাজনৈতিক ইস্যুতে ২০০৩ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়ায় ম্যাচ বয়কট করেছিল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। তবে সেসব ঘটনার সঙ্গে বর্তমানে মিল নেই দাবি করে পাকিস্তানের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মনে করছে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ। তবে পিসিবির এক সূত্র ডনকে জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে ভারতের বিরুদ্ধে আইসিসির ডিসপিউট রিসলিউশন কমিটির (ডিআরসি) কাছে দেওয়া অভিযোগের কার্যবিধি অনুসারে বর্তমানের এই অবস্থান। 

First-time captains Suryakumar Yadav and Salman Agha at the toss, India vs Pakistan, Men's T20 Asia Cup, Dubai, September 14, 2025

ওই অভিযোগের উত্থান ঘটেছিল পিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যকার ২০১৪ সালে স্বাক্ষরিত একটি এমওইউ চুক্তি ভারত লঙ্ঘন করার দাবিতে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারত-পাকিস্তান ৬টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে। বিনিময়ে পিসিবি আইসিসির ‘বিগ থ্রি’ রাজস্ব-ভাগাভাগি মডেলে সমর্থন দেয়। যার অধীনে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড বড় অঙ্কের রাজস্ব পায় বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার কাছ থেকে। ডিআরসিতে অভিযোগের শুনানির সময়ের কথা জানিয়ে সূত্রমতে ডন বলছে, ‘শুনানিতে বিসিসিআইয়ের কাছে পাকিস্তানে সফর না করার ব্যাখ্যা চায় পিসিবি। জবাবে বিসিসিআই কারণ জানাতে বাধ্য নয় বলে উল্লেখ করে, পরবর্তীতে ব্যাখ্যা দেয়– এটি সরকারি সিদ্ধান্ত।’

বিজ্ঞাপন

এএইচএস