ক্রিকেটে একগাদা নতুন আইন, বাতিল হচ্ছে যেসব নিয়ম

বেশকিছু নতুন আইন চালু করতে যাচ্ছে ক্রিকেটের আইনপ্রণয়নকারী সংস্থা মেরিলবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। মূলত ক্রিকেট আইনের ৪২টি আইনে ৭৩টি সংশোধন এবং সংযোজন-বিয়োজন আনা হয়েছে, যার প্রয়োগ হবে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে। যেখানে স্টাম্পিং, ডেড বল ঘোষণা, হিট উইকেট, উইকেটকিপারের অবস্থান, ব্যাটের সাইজ সংক্রান্ত পুরোনো নিয়মের মতো বিষয়গুলো বদলে যাবে।
এতে অবশ্য খেলার মৌলিক কাঠামোয় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি– বলের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইনে, এতদিন পর্যন্ত প্রচলিত নিয়মে রানআউট ও স্টাম্পিংয়ের সিদ্ধান্তে প্রায়ই বিতর্কের জন্ম দেয়। সংশোধিত আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কেবল বলের সঙ্গে হাতের স্পর্শ থাকলেই কোনো ব্যাটারকে আউট করা যাবে না। উইকেট বৈধভাবে ভাঙার মুহূর্তে বলটি উইকেটরক্ষক বা ফিল্ডারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। শুধু হাতে বা গ্লাভসে বল ছুঁয়ে থাকাবস্থায় বেল ফেলে দিলে তা আর আউট হিসেবে গণ্য হবে না। এতে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও স্বচ্ছ হবে।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হচ্ছে টেস্ট ম্যাচে দিনের শেষ ওভার সংক্রান্ত আইনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী– দিনের শেষ ওভারে কোনো উইকেট পড়লেও ওভারটি সম্পূর্ণ করা হবে। অর্থাৎ পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে নতুন ব্যাটারকে ওভারের বাকি বলগুলো মোকাবিলা করতে হবে; উইকেট পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর খেলা শেষ হবে না। এতদিন খেলা শেষ হওয়ার কাছাকাছি সময়ে কোনো উইকেট পড়লে, সেখানেই দিন শেষ (স্টাম্পস) ঘোষণা করা হত।
উইকেটরক্ষকের অবস্থান নিয়েও আইন সংশোধন করা হয়েছে। এখন থেকে বল ছাড়ার পরেই উইকেটরক্ষককে স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটারের স্টাম্পের সম্পূর্ণ পেছনে থাকতে হবে; বোলার যখন রান-আপে (দৌড়রত) থাকবেন তখন এই শর্তটি আর প্রযোজ্য হবে না। তবে বল ছাড়ার সময় গ্লাভস স্টাম্পের পেছনে রাখতে হবে। এ ছাড়া ‘বল চূড়ান্তভাবে স্থির’ বা ডেড হওয়ার সংজ্ঞায়ও ব্যাখ্যা যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, বল মাটিতে স্থির অবস্থায় থাকলে বা কোনো নন-উইকেটকিপার ফিল্ডারের হাতে থাকলেও আম্পায়ার চাইলে ডেড বল ঘোষণা করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো হলো।
হিট উইকেট আইন আগের চেয়ে আরও কড়া করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুসারে– ব্যাটসম্যান শট খেলার পর ভারসাম্য হারিয়ে স্টাম্পে পড়ে গেলে সেটা হিট উইকেট ধরা হবে। একইসঙ্গে কোনো ফিল্ডারের সরাসরি সংস্পর্শে উইকেট ভাঙলে সেই পরিস্থিতিতে ব্যাটারকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যাটারের হিট আউট সংক্রান্ত ঘটনায় প্রতিপক্ষ ফিল্ডারের সম্পৃক্ততা থাকলে সেটি ‘নট-আউট’। ওভারথ্রো সংক্রান্ত নিয়মের সংজ্ঞায়ও নতুনত্ব যোগ করা হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট পার্থক্য করা হয়েছে ওভারথ্রো ও মিসফিল্ডের মধ্যে। ওভারথ্রো শব্দটি কেবল স্টাম্প লক্ষ্য করে রানআউট করার চেষ্টা বা অতিরিক্ত রান ঠেকাতে করা থ্রো’র ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। থ্রো–এর পর মিসফিল্ড হলে সেটি আর ওভারথ্রো নয়।
এ ছাড়া আইসিসি ইতোমধ্যে যে সব প্রথা চালু করেছে, সেগুলোকেও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাউন্ডারি ক্যাচ সংক্রান্ত ব্যাখ্যা, যেখানে তথাকথিত ‘বানিহপ’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন আকাশে বল ধরার পর মাঠে নামার সময় পরবর্তী সব স্পর্শ মাঠের ভেতরেই হতে হবে। ইচ্ছাকৃত শর্ট রানিংয়ের ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, যেমন– ইচ্ছাকৃত শর্ট রান নিলে সেটি বাতিল এবং পাঁচ রান জরিমানা, পাশাপাশি ফিল্ডিংরত অধিনায়ক স্ট্রাইকে কোন ব্যাটার থাকবেন তা ঠিক করে দিতে পারবেন।
নতুন আইনে পুরুষ, নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটে ব্যবহৃত বলের জন্য অভিন্ন আকার ও ওজনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডগুলোকে শর্তসাপেক্ষে ওপেন-এজ ক্রিকেটে ল্যামিনেটেড ব্যাট (টাইপ ডি) ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। যা আগে নিষিদ্ধ ছিল। এমসিসি জানিয়েছে, এসব সংশোধনের মূল লক্ষ্য হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা বাড়ানো, বিশেষ করে হাইভোল্টেজ ম্যাচের যেখানে সামান্য সিদ্ধান্তও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এএইচএস