টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কি প্রথমবার তিনশ হবে?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম তিনশ রান কি এই আসরেই হবে? প্রশ্নটা আর বিস্ময় জাগাবে না। গত কয়েক বছর ধরে সুপারসনিক গতিতে ব্যাটাররা রান করছেন। ছেলেদের টি-টোয়েন্টিতে মোট পাঁচবার তিনশর বেশি রান হয়েছে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তিনবার। নিকটতম অতীতে এমন রান পাহাড় গড়ে উঠেছিল গত বছর— ম্যানচেস্টারে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রেকর্ড ভেঙেছিলেন ফিল সল্ট ও জস বাটলার। গত বছর একাধিকবার তিনশ রানের সম্ভাবনা জাগায় ভারত— হায়দরাবাদে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনটি রান কম করেছিল তারা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের বয়স প্রায় ২০ বছর পুরানো। ২০০৭ সালে প্রথম আসরে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ৬ উইকেটে ২৬০ রান এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ। কিন্তু এবারের আসর ভারত-শ্রীলঙ্কায়, যেখানে আউটফিল্ডে বেশ গতি আছে, পড়তে পারে শিশির, তাতে দলগুলোর জন্য তিনশ খুব কঠিন কিছু হবে না।
ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক, যিনি বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পাওয়ার হিটার, তার মতে এই বিশ্বকাপে তিনশ সম্ভব। তিনি বলেন, ‘ভারতে অনেক মাঠ আছে, যেখানে তিনশর বেশি রান হতে পারে।’ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ব্রুক ক্যাপ্টেনস মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন এই কথা।
একই সঙ্গে পরামর্শও দিলেন ব্রুক, ‘এই মুহূর্তে উইকেটগুলো দেখে খুব ভালো মনে হচ্ছে: গতিময় আউটফিল্ড এবং বেশ শর্ট বাউন্ডারি। অবশ্যই, আপনাকে মাঠে নেমে ভয়ডরহীন খেলতে হবে, আউট হওয়ার ভয় করা যাবে না, কেবল চেষ্টা করতে হবে যতবেশি সম্ভব বল মারা।’
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বড় রান এখন হরহামেশাই হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্ল্যাট পিচ, উন্নত ব্যাট প্রযুক্তি এবং অনেক বেশি আগ্রাসী ব্যাটিং মানসিকতার কারণে রানের ফুলঝুরি ছুটছে। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করাম একই মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ছিলেন। তার ব্যাখ্যা— এখন ব্যাটাররা ভিন্নভাবে চিন্তা করছে। ওভারের দিকে নয়, তাদের চোখ থাকছে কিছু নির্দিষ্ট ডেলিভারিতে ঝড় তোলায়।
মার্করাম বলেন, ‘আজকাল এই খেলা দ্রুত সামনে এগোচ্ছে। আমরা সম্ভবত এমন একটা পর্যায়ে যেখানে ওভারের দিকে নয়, কিছু নির্দিষ্ট বলে মারার চিন্তা থাকে। কিছু ভালো বল মেরে খেলতে পারলে বড় পার্থক্য তৈরি হচ্ছে, এখন বোলারদের জন্য দুঃখ লাগে।’
এফএইচএম/