ফাইনালে ‘কুপোকাত’ হয়ে বাটলারের মুখে ‘কুলুপ’

সাফ অ-১৯ নারী টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ফাইনালে পরাজিত হয়েছে। ভারত ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশকে। ফাইনাল ম্যাচের পর ঘণ্টা দুই পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলারের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
খেলা-ধূলায় হার-জিত থাকবেই। হারের পর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের বৃটিশ কোচ পিটার বাটলারের প্রতিক্রিয়া না দেয়া যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে গেছে। বিগত সময়েও দেখা গেছে ম্যাচ হারের পর কোচ বাটলার বাফুফে মিডিয়া বিভাগকে বক্তব্য দেন না। আজ সাফ ফাইনালে বড় ব্যবধানে হারের পরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
পিটার বাটলার প্রায়ই খেলোয়াড়-ফেডারেশনকে পেশাদারিত্বের বুলি আওড়ান। অথচ তিনি অনেক সময় পেশাদারিত্বের চর্চা করেন না। বাটলার যেমন এড়িয়ে যান, তেমনি বাফুফেও প্রশ্রয় দেয়। ম্যাচের হারের পর গণমাধ্যম ও ফুটবলপ্রেমীদের ব্যাখ্যা জানার অধিকার রয়েছে। সেটা নিশ্চিত করা বাফুফের মিডিয়া বিভাগের দায়িত্ব। নারী দলের সঙ্গে থাকা বাফুফের মিডিয়া এক্সিকিউটিভ হারের পর বাটলারের প্রতিক্রিয়া নিতে অনেক সময় ব্যর্থতার পরিচয় দেন। আজ ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার প্রদানের ছবি সাংবাদিকরা পেয়েছেন বিগত তিন ম্যাচের চেয়ে অনেক পরে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসনের বিখ্যাত উক্তি, 'ফরোয়ার্ডরা ম্যাচ জেতায়, ডিফেন্ডাররা চ্যাম্পিয়ন করায়।' বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সঙ্গে বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশ অ-১৯ দল ফাইনালে ডিফেন্স ও গোলরক্ষকের সমন্বয়হীনতা ছিল স্পষ্ট। কোচ বাটলারের পরিকল্পনা ও কৌশল এই ম্যাচে প্রশ্নবিদ্ধ। ভারত গ্রুপ পর্যায়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২ গোলে হেরেছিল। ভারতের কোচের কৌশলের কাছে বাটলার পরাজিত হয়েছেন আজ।
নারী দলের দেখভাল করে বাফুফের নারী উইং। বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে নেপালে। গত কয়েক দিন দলের সঙ্গে তার ছবি ও বক্তব্য সরবারহ করেছে মিডিয়া বিভাগ। আজ ফাইনালে হারের পর সেই কিরণেরও কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। নারী দলের হারের পর তাই ঘুরেফিরে বাটলার ও ফেডারেশনের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন আসছে।
বাংলাদেশ ফাইনালে হারলেও আলপি আক্তার সাত গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। একটি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়া অত্যন্ত সম্মানের। সেই আলপি আক্তারের কোনো প্রতিক্রিয়াও মিডিয়া পায়নি। অ-১৯ দলের সঙ্গে থাকা মিডিয়া ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমি সম্প্রতি ফেডারেশনের ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। ফাইনাল ম্যাচে সাধারণ পেশাদারিত্বের বহিঃপ্রকাশ দেখাতে পারেননি।
এজেড/এইচজেএস