বিশ্বকাপে পরিবারের কাউকে সঙ্গে রাখতে পারবেন না ভারতের খেলোয়াড়

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করেছে ভারত। যদিও তাদের পারফরম্যান্স পুরোপুরি সন্তোষজনক ছিল না। এবার ব্যক্তিগত পর্যায়ে খেলোয়াড়রা একটি নতুন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে— বিসিসিআই বিশ্বকাপ চলাকালে দলের সঙ্গে পরিবারের থাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই ব্যাপারে স্পষ্ট হতে টিম ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দ্বারস্থ হয়েছিল।
ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে এক বিসিসিআই সূত্র বলেছেন, ‘ভারতীয় দলের ম্যানেজমেন্ট বিসিসিআইর কাছে জানতে চেয়েছিল যে খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও বাগদত্তারা দলের সঙ্গে ভ্রমণ করতে ও থাকতে পারবে কি না। বোর্ড পরিষ্কার করে বলে দিয়েছে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিবার থাকতে পারবে না। তবে তারা যদি চান, তাহলে আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে।’
ভারতীয় ক্রিকেটে পরিবারকে দলের কাছ থেকে দূরে রাখার ব্যাপার নতুন নয়। বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি ট্যুরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিপর্যয়ের পর বিসিসিআই একগাদা কঠোর আচরণবিধি আরোপ করে। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য বিধি ছিল— খেলোয়াড়দের তাদের স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের জন্য।
অবশ্য করোনা মহামারির সময়ে পুরো সফরে পরিবারকে নিয়ে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত বছর অস্ট্রেলিয়া সফরের পর নিয়ম কঠোর করা হয়। চলতি বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের জন্য ঘরোয়া পরিবেশ তৈরি করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্লান্তি এড়াতে বিশ্বকাপ জুড়ে বেসরকারি চার্টার ফ্লাইটে চলাচল করবে দল। এছাড়া ব্যক্তিগত রাঁধুনি রাখছেন কেউ কেউ। অবশ্য হোটেলের কাছাকাছি ভিন্ন জায়গায় থাকতে হবে তাদেরকে, সেখান থেকে খাবার তৈরি করে পৌঁছে দেওয়া হবে দলের কাছে।
সাম্প্রতিক হতাশার প্রেক্ষিতে খেলোয়াড়দের পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই এই ‘শুধুমাত্র-ব্যবসায়িক’ দৃষ্টিভঙ্গি বিসিসিআই-এর। মনোযোগে ব্যঘাত ঘটাতে পারে এমন বাইরের বিষয়গুলোকে সীমিত করে এবং খেলোয়াড়দের পরিবেশ— এমনকি তাদের পুষ্টি গ্রহণ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে বোর্ড স্পষ্টভাবে আরামের চেয়ে শৃঙ্খলাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। এই কঠোর পরিবেশ ট্রফি জেতার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক দৃঢ়তা তৈরি করবে, নাকি ক্লান্তির জন্ম দেবে— সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এফএইচএম/