কেমন হলো ক্লাবপাড়ার ভোট

বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে মতিঝিল-আরামবাগে দেশের অনেক শীর্ষ ক্রীড়া ক্লাব অবস্থিত। ক্লাবপাড়ায় ওয়ারী, ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স, সোনালী অতীত ক্লাব ও ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থা ছিল ভোটকেন্দ্র। দেশের আরেক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়নও ঢাকা-৮ এর অন্যতম কেন্দ্র।
জাতীয় ভোটে সাধারণত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই কেন্দ্র হয়। ঢাকার কয়েকটি ক্রীড়া ক্লাব ভোটের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে অনেক দিন থেকেই। দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়নের প্রিজাইডিং অফিসার ইমরান হোসেন বলেন, ‘এই কেন্দ্র খানিকটা ভিন্ন। যেমন সুবিধা রয়েছে, তেমনি কিছু অসুবিধাও রয়েছে। ক্লাব হওয়ায় এখানে আবাসিক সুবিধা পেয়েছি। আবার বেঞ্চ, টেবিল বাইরে থেকে আনতে হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে পরিবেশ বেশ সুন্দর ছিল। সবাই সুন্দরভাবে ভোট প্রদান করেছেন।’
ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের ভোটার সংখ্যা ২৮৯৯। বিকেল তিনটার পর পর্যন্ত ১২৪৪ জন ভোট প্রদান করেছেন। ব্রাদার্স ক্লাবে সবাই ছিলেন পুরুষ ভোটার। বিকেল চারটার দিকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব পরিদর্শন করেন।

বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ক্লাব ওয়ারী। এই ক্লাবও বেশ কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র ছিল। ওয়ারী ক্লাবে ভোটার সংখ্যা ৩৩৬৯। সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ১১২৫ ভোটাধিকার প্রয়োগ হয়েছে। ওয়ারী ক্লাবের কয়েক গজ দূরেই অবস্থান সোনালী অতীত ক্লাবের। সাবেক ফুটবলরাদের সংগঠন সোনালী অতীত ক্লাবে আরামবাগ এলাকার নারীদের ভোটকেন্দ্র ছিল। ১৪৯৯ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৭০০ জন ভোট দিয়েছেন। এই ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পেয়ে বেশ খুশি প্রিজাইডিং অফিসার, ‘অন্য সব ভোট কেন্দ্রের চেয়ে এটা একটু ভিন্ন আবহ। সাবেক ফুটবলারদের সংগঠন এখানে আলাদা একটা মর্যাদা। জায়গাও অনেক, পরিবেশ সুন্দর। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করেছেন।’
ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থায় ভোটার সংখ্যা ১৮৩১। সেখানে একটি মহিলা ও তিনটি পুরুষদের বুথ রয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসারের তথ্য মতে, এখানে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। ক্লাব পাড়ায় আরেকটি কেন্দ্র ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স। ফকিরেরপুল ক্লাবে ভোটার সংখ্যা ২৩৯৯। সবাই পুরুষ ভোটার। পৌনে চারটা পর্যন্ত ১০৩৪ জন ভোট দিয়েছেন।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মূল ভেন্যু জাতীয় স্টেডিয়াম। এখানে অনেক খেলার ভেন্যু ও বিভিন্ন ফেডারেশনের কার্যালয়। আরামবাগ ক্লাবপাড়া। এই দু’টিই পড়েছে ঢাকা-৮ আসনে। কয়েকটি ক্লাব ঘুরে দেখা গেছে, বেশ শান্তিপূর্ণভাবে ক্লাবপাড়ায় ভোট হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসারদের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট থাকলেও কোনো অসঙ্গতি বা সমস্যা হয়নি। হাতপাখার প্রার্থী ক্লাব পাড়ায় গেলেও আলোচিত দুই প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী নিজেরা এই কেন্দ্রগুলোতে আসেননি।
এজেড/এমএমএম