৩২ গোলের লিগকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলছেন ঋতুপর্ণা-আফিদারা

নারী ফুটবলে প্রথমবার এসেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী স্টারস। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফুটবল ক্লাবকে হারিয়ে শিরোপা উদযাপন করেন ঋতুপর্ণা-আফিদারা। দশ ম্যাচের দশটি জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ফুটবলার ও কোচিং স্টাফের আনন্দ ছিল একটু বেশি।
জাতীয় দলের অধিনায়ক আফিদা খন্দকার রাজশাহীতে থাকলেও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ছিল সিনিয়র ফুটবলার শিউলি আজিমের হাতে। চ্যাম্পিয়ন হয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের মেয়েদের কথা বলব— সবাই খুব কমিটেড ছিল, খুব ডিটারমাইন্ড ছিল চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটা নেওয়ার জন্য। আমরা সেটার জন্য পরিশ্রমও করেছি এবং শেষ পর্যন্ত পেরেছি।’
এবারের নারী লিগে অনেক ম্যাচই দশটির বেশি গোল হয়েছে। এমনকি বিশটিরও বেশি গোল হয়েছে একাধিক ম্যাচে। সর্বোচ্চ ৩২ গোল হয়েছে এক ম্যাচে। টেবিলে সবার নিচে থাকা কাচারীপাড়া ১১৭ গোল হজম করেছে। ম্যাচ প্রতি তারা গড়ে ১৩ গোল খেয়েছে।
রাজশাহী দলের অন্যতম খেলোয়াড় জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা। ক্লাব পর্যায়ে সাফল্য পেয়ে তিনি বলেন, ‘এই বিগত লিগের থেকে এই লিগটা খুবই কম্পিটিটিভ এবং আমাদের লক্ষ্য ছিল ক্লাব এবং ক্লাবেরও লক্ষ্য ছিল এই শিরোপাটা ধরে রাখার। আমরা ওইটা ফুলফিল করতে পেরেছি এবং আমরা হ্যাপি।’
ভুটানের লিগে ঋতুপর্ণারা যখন খেলতেন, তখন বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতেন। সেই লিগে নাকি বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণও খেলতে পারেন। রাজশাহী স্টারস ১০ ম্যাচে ৯০ গোল করেছে। ম্যাচ প্রতি ৯ গোল। ফলে লিগের মান ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। ঋতুপর্ণা অবশ্য ভুটানের লিগের সাথে তুলনা করে বলেন, ‘ভুটানের লিগ আসলে আপনারা দেখছেনই, তো বাংলাদেশের লিগেও তো ২৪-২৫টা গোল হচ্ছে। ভুটানে এমনটা হয়েছে এমন না যে ভুটান লিগ নিচু স্তরের লিগ। ভুটান লিগটাও ভালো একটা লিগ।’
আফিদা ভুটান লিগে খেলেননি। তবে তিনি এবারের লিগকে গত কয়েকটির চেয়ে এগিয়ে রেখে বলেন, ‘লিগটা গত তিন বছরের থেকে এ বছর অনেক কম্পিটিটিভ হয়েছে। কারণ প্রত্যেকবার কী হতো ন্যাশনাল প্লেয়াররা একটা টিমেই হয়তো চলে যেত বা দুই একটা টিমে। এবার হচ্ছে ন্যাশনাল টিমের প্লেয়াররা কম-বেশি সব টিমে ভাগাভাগি হয়ে গিয়েছে। এজন্য লিগটাও কম্পিটিটিভ হয়েছে।’
আফিদার সঙ্গে একমত পোষণ করে রাজশাহীর অধিনায়ক শিউলি বলেন, ‘ফরাশগঞ্জ এবং আর্মি— এই দুইটা টিমই আমার কাছে মনে হয়েছে যে খুব টাফ ছিল। ফুটবলটা তো আনপ্রেডিক্টেবল, সো যত ভালো টিমই হোক আসলে রুখে দেওয়া পসিবল যেকোনো টিমের কাছেই। আমরা ওইটা মাথায় রেখেই মাঠে নেমেছি। আমরা জানি আর্মি একটা ব্যালেন্সড টিম, খুব ভালো টিম, আমাদের ন্যাশনাল টিমের অনেক প্লেয়ার ওখানে আছে। সো আমরা ওইটা মাথায় রেখেই খেলেছি যে রেজাল্ট যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হতে পারে।’
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। ১ মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাম্প শুরু। টুর্নামেন্টের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। বাংলাদেশ দল আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রস্তুতি শুরু করেনি। অস্ট্রেলিয়ায় ঘাসের মাঠে খেলা, সেখানে বাংলাদেশের ফুটবলাররা এখনো ক্লাবের হয়ে টার্ফে খেলে যাচ্ছেন। শিরোপা উদযাপন মুহূর্তে তাই জাতীয় দলের প্রসঙ্গও আসলে ঋতুপর্ণার মন্তব্য, ‘নো কমেন্টস প্লিজ। নো কমেন্টস। থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ।’
বাংলাদেশ অধিনায়ক আফিদা জাতীয় দলের প্রস্তুতি নিয়ে বলেন, ‘লিগটাও দরকার ছিল। প্র্যাকটিস তো আমরা কম-বেশি হচ্ছে যখন লিগ বন্ধ হয়ে গেল। তারপর থেকে আমরা হচ্ছে ন্যাশনাল টিমের ক্যাম্প শুরু করছি। তো এখন পর্যন্ত চলমান আছে। তো কয়েকদিন ধরে প্র্যাকটিস করছি, আবার লিগ শুরু হয়েছে। তো এটাও ভালোই হয়েছে, খারাপ হয়নি।’
এজেড/এফএইচএম