পাকিস্তানের ‘তুরুপের তাস’কে ফাঁদে ফেলার কৌশল বললেন অশ্বিন

চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের স্পিনে ভুগছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের স্পিনারদের কাছে তিন উইকেট এবং নামিবিয়ার স্পিনে পাঁচ উইকেট পড়েছে তাদের। পরের ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে, যে দলে আছেন রহস্য-স্পিনার উসমান তারিক। ভিন্নধর্মী বোলিংয়ের কারণে বিতর্কিত হলেও এই বোলারকেই সবচেয়ে বিপজ্জনক স্পিন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে পাকিস্তান। আর তাকে ফাঁদে ফেলতে অভিনব পরামর্শ দিলেন ভারতের সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
‘অ্যাশ কি বাত’ নামের নিজের ইউটিউব শোতে অশ্বিন নিয়মের মধ্যে থেকে ব্যাটারদের একটি চতুর কৌশল প্রয়োগ করতে বলেছেন। ভারতের সাবেক স্পিনার জানান, বল ছোড়ার আগে তারিক কয়েক সেকেন্ডের জন্য থামেন। আর এই বিরতিই হতে পারে ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য অস্ত্র।
অশ্বিন বলেছেন, ‘আমি একটি জিনিস দেখতে চাই। কার সেটা করার সাহস আছে? তারিক যদি বল ডেলিভারি করার আগে থামে, ব্যাটারের অধিকার আছে সরে যাওয়ার। ব্যাটার বলতে পারে, ‘আমি জানি না বল কখন আসছে, তাই আমি সরে গিয়েছি।’”
এক্ষেত্রে ব্যাটার নাকি বোলারকে সতর্ক করবেন আম্পায়ার, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যেতে পারেন। অশ্বিন অবশ্য নিয়ম মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘এটা বেশ মজার ব্যাপার হতে পারে এবং আম্পায়ারের জন্য মাথাব্যথার বড় কারণ। আম্পায়ারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি বোলারকে নাকি ব্যাটারকে সতর্ক করবেন। ক্রিকেটে যেটা হয়, বোলারকে প্রথমে সতর্ক করা হয়।’
তাছাড়া বারবার ব্যাটার সরে দাঁড়ালে তারিকের মনোযোগও নড়ে যাবে মনে করেন অশ্বিন। সেক্ষেত্রে পাকিস্তান স্পিনারের ওপর চাপ পড়বে এবং এই ধরনের বড় ম্যাচের মাঝখানে ছন্দও হারাতে পারেন।
তিনি বললেন, ‘একবার ভাবুন, এত বড় একটা ম্যাচ। সে ২৪টি বল একইভাবে করবে। যদি ব্যাটার সরে যেতে শুরু করে, ভাবুন তো চাপ পড়বে তারিকের ওপর। হয়তো খেলার মাঝখানে তার অ্যাকশনে পরিবর্তন আনতে হবে। পাকিস্তানের তুরুপের তাসের হয়তো তখন কিছুই করার থাকবে না।’
তারিক প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বের ব্যাপক নজরে আসেন তার বোলিং অ্যাকশন দিয়ে। তার অফব্রেক ডেলিভারিগুলোর রান-আপ অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু বল ছোড়ার মুহূর্তে তিনি থমকে দাঁড়ান। বল ডেলিভারি দেওয়ার ঠিক আগে প্রায় দুই সেকেন্ডের জন্য তিনি প্রায় সম্পূর্ণ স্থির হয়ে যান, এরপর একটি স্লিঙ্গিং সাইড-আর্ম অ্যাকশনে অফব্রেক ছুড়ে দেন। এমন বোলিং অ্যাকশনের কারণে পিএসএলের দুই আসরে এক বছরে দুইবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। দুইবারই সফলভাবে পরীক্ষায় উতরে গিয়ে বোলিং চালিয়ে যান। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে তিন উইকেটও নেন তিনি।
সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজেও অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন গ্রিন তারিকের বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অশ্বিন কিন্তু তার বোলিং অ্যাকশনকে বৈধ হিসেবে মেনে নিয়েছেন, ‘যদি আমার বোলিং অ্যাকশন স্বাভাবিক হতো কিন্তু হঠাৎ করে থামতাম এবং ওভারের শেষ বলটা করতাম, সেটা কয়েক বছর আগেও অবৈধ হতো। কারণ সেটা আমার বোলিং অ্যাকশনের স্বাভাবিক ছন্দ নয়। আম্পায়ার আমাকে সতর্ক করতে পারতো। কিন্তু তারিকের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি ভিন্ন। ওই থেমে যাওয়া (পজ) তার স্বাভাবিক অ্যাকশন।’
এফএইচএম/