পাকিস্তানকে হারাতে যে পরিকল্পনা ছিল ভারতের

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই চরম উত্তেজনা। আর পাকিস্তান ভারত ম্যাচ বয়কট করার ঘোষণা দিয়ে পরে সিদ্ধান্ত পাল্টে খেলতে চেয়েছে। তাও আবার বিশ্বকাপের মঞ্চ। সব মিলিয়ে গতকাল (রোববার) কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এই ম্যাচের বিশালতা ছিল অনেক। আর প্রতিদ্বন্দ্বী যখন পাকিস্তান, ভারতও ছিল উজ্জীবিত। কিন্তু এসব নিয়ে এতটুকু বিচলিত ছিল না ভারতীয় দল। তাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ ছিল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর। ৬১ রানে জেতার পর দলের এই মানসিকতার কথা জানালেন স্পিনার অক্ষর প্যাটেল।
ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘ভারতের ব্যাটিং বনাম পাকিস্তানের বোলিং বা এই জাতীয় যাই হোক না কেন— আমরা সেসব নিয়ে ভাবছিলাম না। আমরা শুধু আমাদের পরিকল্পনা এবং ব্যাটিং বা বোলিং করার সময় তার বাস্তবায়ন নিয়ে ভাবছিলাম। আমরা শুধু ভাবছিলাম যে আমরা যদি আগে বোলিং করি বা পরে বোলিং করি, তবে আমাদের কী করতে হবে? উইকেট কেমন ছিল? অর্থাৎ, আমরা আমাদের খেলা নিয়েই ভাবছিলাম।’
ম্যাচটাকে সাদামাটা হিসেবেই ভেবেছেন অক্ষর, ‘আমরা এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা এই জাতীয় কিছু নিয়ে ভাবছি না। আমরা একটি দলের বিপক্ষে খেলছি এবং আমরা কেবল ক্রিকেটের ওপর মনোযোগ দিচ্ছি। তাই যখনই আমি খেলি, আমি অন্যদের নিয়ে ভাবি না। আমি এটাকে একটি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ‘ওয়ান-অন-ওয়ান’ ম্যাচ হিসেবে দেখি। তাই আমি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা অন্য কিছু নিয়ে ভাবছি না।’
নিরপেক্ষ ভেন্যু হলেও ভারত বিশাল সমর্থন পেয়েছে। ২৮ হাজার আসনের প্রেমাদাসায় ৯০ শতাংশ দখল করে রেখেছিলেন ভারতীয় ভক্তরা। এই অলরাউন্ডারের মতে, বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশে সমর্থকদের সঙ্গে যে অভিজ্ঞতা হয়, শ্রীলঙ্কাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
তিনি বললেন, ‘না, শুধু শ্রীলঙ্কাই নয়— এমনকি অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ড, অথবা শেষবার যখন আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলছিলাম, একই ছিল। ভারতীয় সমর্থকদের বেশিরভাগই আমাদের সমর্থন দিতে আসে। আমরা কখনো ভাবি না কোন দেশের বিপক্ষে খেলছি। আমরা শুধু মাঠের উইকেট নিয়ে ভাবি, সেখানে কী আছে।’
অক্ষর বললেন, ‘আর হ্যাঁ, আমাদের প্রতি তাদের সমর্থন ভালো লাগে। এমন না যে শুধু শ্রীলঙ্কাতেই, অন্য দেশে গেলেও অনেকেই আমাদের সমর্থন দিতে আসে। এটা সবজায়গাতে একই।’
অক্ষর বোলিং শেষ করেছে ২৯ রানে ২ উইকেট নিয়ে। সময়মতো ব্রেকথ্রু করেছেন বাবর আজমকে ৫ রানে ক্লিন বোল্ড ও উসমান খানকে বিদায় করেছেন। উসমান ৪৪ রানে স্টাম্পিং হতেই পাকিস্তানের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। অক্ষর তাকে শর্ট বলের ফাঁদে ফেলেন।
উসমানকে আউট করার পরিকল্পনা নিয়ে এই স্পিনার বললেন, ‘মাঝে মাঝে বলগুলো স্কিড করছিল এবং ডেলিভারিগুলো বেশি স্পিন করছিল। আমি যখন নতুন বলে বোলিং করছিলাম, তখন বুঝতে পারলাম যে নতুন বলটি একটু বেশি স্কিড করছে। ব্যাটার কী করতে চায় এবং সে কোন এরিয়া লক্ষ্য করতে চায় তার ওপর ভিত্তি করে আমার পরিকল্পনা ছিল। এরপর আমি আমার লাইন বা লেংথ পরিবর্তন করি। আর দ্বিতীয় আউটের বিষয়টি ছিল এমন যে, সে (উসমান) ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসছিল। তাই আমি আবারো আমার লেংথ অনুযায়ী বল করি।’
ব্যাটিংয়ে ইশান কিষাণের দারুণ পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন অক্ষর, ‘যেভাবে সে ব্যাট করল, আমি মনে করি এটা ছিল অন্যতম সেরা ইনিংস, কারণ সহজ ছিল না (ব্যাটিং করা)। বল স্পিন হচ্ছিল, কোনো কোনোটা আবার ফ্লাড লাইটের নিচে সরাসরি ঢুকছিল, তাই এটা সহজ ছিল না। ঘরোয়া ক্রিকেটের ফর্ম নিউজিল্যান্ড সিরিজ এবং পরে গত ম্যাচ (নামিবিয়া) পর্যন্ত ধরে রেখেছিল সে, যেখানে ৫০ রান করেছিল। তাই যখন আপনার আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে তখন নিজেকে বা উইকেট নিয়ে বেশি ভাবা লাগে না। অবশ্যই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দক্ষতাও ছিল। একই জায়গায় সে তার সব শট খেলেনি। কাভার, স্লিপ সব দিক দিয়ে তার শট খেলেছে। সে ভালোভাবে মাঠ ব্যবহার করেছে। কৃতিত্ব তাকে দিতে হবে।’
এফএইচএম/