৯টি ক্যাচ হাতছাড়া, ‘ক্যাচিংয়ে ভারত সবচেয়ে বাজে দল’

দুর্দান্ত ফর্ম দেখিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা দখলে রাখার মিশন চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। গ্রুপপর্বে চার ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে সূর্যকুমার যাদবের দল। ব্যাট-বলে অসাধারণ পারফর্ম করলেও, ভাবাচ্ছে তাদের ফিল্ডিং। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত ৯টি ক্যাচ ছেড়েছে ভারত, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাদের উপরে আছে কেবল আয়ারল্যান্ড (১০)। ভারতের মিস ফিল্ডিং দেখে সাবেক পেসার বরুণ অ্যারন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গতকাল (বুধবার) আহমেদাবাদে সুপার এইটের আগে শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে আতিথ্য দেয় ভারত। যেখানে স্বাগতিকদের লক্ষ্য তাড়ায় রোমাঞ্চ জাগিয়ে ১৭ রানে হেরেছে ডাচরা। সুপার এইটে স্বাভাবিকভাবেই দলগুলোকে আরও কঠিন লড়াই মোকাবিলা করতে হবে। তার আগে ভারতের ফিল্ডিংয়ে জোর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন অ্যারন। তার মতে– ক্যাচিংয়ের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বাজে দল ভারত। প্রতি ম্যাচেই ন্যূনতম দুটি করে ক্যাচ ছাড়ছে বলে দাবি অ্যারনের।
ক্রীড়াভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর এক বিশ্লেষণে বরুণ অ্যারন বলেন, ‘অনেক বড় সমস্যা। গত ১২ বা ১৮ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বাজে ক্যাচিং দল ভারত। তাদের ক্যাচ ধরার হার ৭০ শতাংশেরও নিচে। প্রতিটি ম্যাচেই তারা কমপক্ষে ২-৩টি ক্যাচ ছাড়ে। আমি শুধু এতটুকু আশা করি যে, সুপার এইট এবং সেমিফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ছাড়বে না ভারত।’

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করেছে ভারত। এর মধ্যে সূর্য ও রিংকু সিং শেষ ওভারে ক্যাচ ধরতে গিয়ে সংঘর্ষের পর্যায়ে চলে যান। শিবাম দুবের করা শেষ ওভারে ২৮ রান তাড়ায় ব্যাট করছিলেন ডাচ ব্যাটার জ্যাক লায়ন-ক্যাচেট। এক্সট্রা কভারে দৌড়ে যাচ্ছিলেন সূর্যকুমার, আর একই লক্ষ্যে রিংকু লং-অফ থেকে এগিয়ে আসেন। পরস্পরের ধাক্কায় ভারত অধিনায়কের বুক থেকে লাফিয়ে মাটিতে পড়ে যায় বলটি। তবে সূর্য-রিংকুর ভাগ্য ভালো যে, তাদের কেউ বড় আঘাত পাননি।
ম্যাচটিতে টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে ১৯৩ রানের বড় পুঁজি গড়ে ভারত। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সূর্যকুমার বলেন, ‘আমরা ১৯০ রান করার লক্ষ্য নিয়ে নামি এবং সেটা নিয়েই ফিরেছি। এখানে কিছু কুয়াশা ছিল, ফলে বোলারদের জন্য বল করা চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে দিনশেষে যা হয়েছে আমরা খুশি। পরেরদিনও আমরা একই পরিস্থিতিতে পড়তে পারি। শুরুটা হয়তো ধীরগতির ছিল, তবে ব্যাটারদের জন্য নিজের দায়িত্বশীলতা বোঝা, মিডল ওভারে উইকেটের আচরণ কেমন তা জানাটা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর আমাদের হাতে বিধ্বংসী হার্দিক, শিবাম, রিংকু, অক্ষর ও ওয়াসি আছে। তারা দারুণভাবে ম্যাচ শেষ করতে পারে।’
এএইচএস