বাটলার নাকি বাফুফে, কার কথা সত্য?

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার পেশাদারিত্বের বুলি আওড়ান। অথচ অনেক সময় অপেশাদার আচরণ ও কর্মকাণ্ডের নজির রয়েছে তার। বাটলারের ঢাল হয়ে দাঁড়ান বাফুফে কর্মকর্তারা। এবার সেই বাটলার এশিয়া কাপের জন্য অস্ট্রেলিয়া সফরের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বাফুফে কর্তাদেরই এক হাত নিয়েছেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে অনেক মিথ্যাচার করা হয়েছে। আমি খুব বেশি কিছু বলব না, তবে বাস্তবতা হলো– প্রস্তুতি আদর্শ মানের হয়নি। আমি কাউকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দোষারোপ করছি না। আমাদের একটি পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সেটি কাজে লাগেনি।’ বাফুফে কর্মকর্তারা প্রায়ই বলেন ব্রিটিশ কোচ বাটলারের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতি। এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাটলার, ‘আমি একজন বাস্তববাদী মানুষ এবং এই দলের জন্য আমিই দায়বদ্ধ। তবে আমি কেবল তখনই দায়ভার নেব, যখন মানুষ মিডিয়ায় গিয়ে এটা বলা বন্ধ করবে যে—সবই “বাটলারের পরিকল্পনা” বা “বাটলারের দোষ”।’
বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ ও সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমই মূলত নারীদের এশিয়া কাপ নিয়ে বিভিন্ন সময় মিডিয়ায় বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলেছেন। সকল পরিকল্পনাই তারা কোচ পিটারের অনুমোদিত কিংবা সম্মতি রয়েছে বলে মিডিয়ায় জানিয়েছেন। গতকাল পিটার সেটা অস্বীকার করলেও বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম বলছেন ভিন্ন কথা, ‘আমার কাছে তার নিজের দেওয়া পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনার শেষ অংশ হয়নি, সেটার বিকল্পও আমরা দিয়েছিলাম, সেটাতে সে রাজি হয়নি।’
ডিসেম্বরে আজারবাইজান ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলার পর সাফ নারী ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ ছিল। বাফুফে নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ ঋতুপর্ণাদের নাসরিন ক্লাবের হয়ে খেলাতে চেয়েছিলেন। পিটারের জন্য পারেননি। সেই পিটারই আবার কয়েকদিন পর নারী ফুটবল লিগ আয়োজনে সম্মতি দেন। ভুটান লিগের সমালোচনা করা পিটার বাংলাদেশের নারী লিগ নিয়ে মাঝে সন্তোষ প্রকাশ করলেও গতকাল বলেছেন ভিন্ন কথা। নারী ফুটবলের জন্য নাকি তার বিদেশের প্রস্তুতিও হয়নি বলে জানালেন, ‘আমরা যে তারিখগুলো দিয়েছিলাম বা চিঠি আদান-প্রদান হয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে লিগের তারিখের মিল ছিল না। কারণ প্রস্তুতির চেয়ে লিগ বেশি অগ্রাধিকার পেয়েছিল।’
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়া কাপ খেলবে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এটাকে নাম দিয়েছেন মিশন অস্ট্রেলিয়া। মিশন অস্ট্রেলিয়া নিয়ে মিডিয়ায় কথা বলেন বাফুফে নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ, পাশাপাশি সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমও কাজ করেছেন। ফাহাদ নারী উইংয়ে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও নারী ফুটবল লিগ ও মিশন অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। নারী লিগের জন্য বিদেশি প্রস্তুতি না নেওয়ার বিষয়টি পিটারের উপরই ছেড়েছেন ফাহাদ, ‘সে রাজি থাকলে ১৪ ফেব্রুয়ারি দল যেত। সে রাজি না হওয়ায় খেলা পিছিয়েছে। তিনি যেটা বলেছেন সঠিক নয়।’
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে নারী ফুটবল কমিটির চেয়রাম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ ছিলেন। তিনি এশিয়া কাপের প্রস্তুতি নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি হতাশ বলব না, তবে ওই লেভেল থেকে যদি বাইরে রেখে ওদেরকে ট্রেনিং করাতে পারতাম, আরও কিছু প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলাতে পারতাম, তারপর আমার স্যাটিসফ্যাকশনটা বেটার থাকত। এখন ওই স্যাটিসফ্যাকশনটা অবশ্যই নাই।’

বাটলার ও বাফুফে কর্মকর্তাদের মন্তব্য একে অপরের স্বার্থবিরোধী। দুই পক্ষের মধ্যে একপক্ষের বক্তব্য বা অবস্থান নিশ্চয়ই ভুল বা অসত্য। পিটার বাটলার বাফুফের বেতনভুক্ত কোচ। তিনি গতকাল বাফুফে কর্মকর্তাদের ফুটবল জ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। যা তার চুক্তি ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে চরম সাংঘর্ষিক। পিটারের অনেক কর্মকাণ্ড বাফুফে এড়িয়ে আসছে। এশিয়া কাপের আগে এমন মন্তব্য করলেও এখনও নমনীয় অবস্থানেই আছে ফেডারেশন।
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টুর্নামেন্টে হারের পর বাফুফের কাছে প্রতিক্রিয়া দেননি বাটলার। কয়েকজন সাংবাদিকদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে মতামত দিয়েছেন। দুটি নেতিবাচক মন্তব্য নিজে করার পর সেটা বাফুফে নজরে আসায় অস্বীকার করেন পরে। আবার সাংবাদিককে পাঠানো সেই মেসেজও মুছে দেন তিনি। এতে পুনরায় বাটলারের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফুটবলসংশ্লিষ্ট অনেকেরই ধারণা– এশিয়া কাপের ব্যর্থতা ঢাকতে আগেভাগে কোচ বাফুফে কর্তাদের দায় দিয়ে রাখলেন।
এজেড/এএইচএস