মাঠে বিশৃঙ্খলার দায়ে ১৯ সমর্থকের কারাদণ্ড

আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের ফাইনাল হয়েছে মাসখানেক আগে। কিন্তু সেনেগাল ও মরক্কোর সেই ফাইনালে বিশৃঙ্খলার দায়ে এতদিন পর শাস্তি পেলেন ১৯ সমর্থক। এর মধ্যে ১৮ জন সেনেগালিজ এবং একজন ফরাসি নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে ফুটবল মাঠের অবকাঠামো নষ্ট করা ও ক্রীড়া ইভেন্ট চলাকালে সহিংসতাসহ একাধিক অভিযোগ ছিল। পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময়ের শুনানি শেষে ১৯ সমর্থকের শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপি–কে আইনজীবী নাইমা এল গুয়েলাফ জানিয়েছেন, ১১ জনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫৫০ ডলার জরিমানা, চারজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ২১৮ ডলার জরিমানা এবং বাকি চারজনকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ১৩০ ডলার জরিমানা করেছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর এক আসামি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। অন্যরা হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ পেয়ে আসামিদের বেঞ্চ থেকে উঠতে অস্বীকৃতি জানান।
শাস্তির রায় শুনে আদালতে উপস্থিত শাস্তিপ্রাপ্তদের পরিবারের সদস্যরা বিচলিত হয়ে তাদের স্বজনদের নির্দোষ দাবি করেন। একইসঙ্গে তাদের আইনজীবীরা এই রায়কে কঠোর আখ্যা দিয়ে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন। শুনানিতে সেনেগাল ও ফ্রান্সের কূটনীতিক এবং কয়েকজন আসামির স্বজন উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্তদের আইনজীবীদের দাবি– তাদের মক্কেলদের দোষী সাব্যস্ত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ আদালতের কাছে নেই।
বিপরীতে, রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে বলে, অভিযুক্তরা ম্যাচের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করেছে এবং তাদের কর্মকাণ্ডে প্রায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৭১৯ ডলারের ক্ষতিসাধন হয়েছে। এর আগে আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিএএফ ওই ম্যাচকে কেন্দ্র করে সেনেগাল ও মরক্কোকে মোট ১০ লাখ ডলার জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা দেয়। মরক্কো এ শাস্তিকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।
গত ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্বাগতিক মরক্কোর পক্ষে স্টপেজ টাইমে পেনাল্টি দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা মাঠে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া সেনেগালের খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ জানিয়ে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। ক্ষুব্ধ সমর্থকরা মাঠে চেয়ার ছুড়ে মারেন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত ম্যাচে সেনেগাল ১-০ গোলে জিতে শিরোপা উৎসবে মাতে।
এএইচএস