এশিয়ান কাপে অ্যাক্রিডিটেশন ভোগান্তিতে সাংবাদিকরা, প্রস্তুত অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলস। নারী এশিয়ান কাপের ফাইনাল নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনি অস্ট্রেলিয়া স্টেডিয়ামে। আনুষ্ঠানিক নাম সিডনি অস্ট্রেলিয়া হলেও অলিম্পিক পার্ক স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত। ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকের মূল ভেন্যুই ছিল এটি।
আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট কাভারে সাংবাদিকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অ্যাক্রিডিটেশন। তাই বিদেশে এসে সাংবাদিকদের প্রথম কাজই থাকে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড সংগ্রহ। নারী এশিয়ান কাপের সকল স্টেডিয়াম থেকে সাংবাদিকদের কার্ড সংগ্রহের অপশন রয়েছে। বাংলাদেশের খেলা সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামে। অলিম্পিকে পার্কে খেলা না থাকায় যাওয়ার সুযোগ কম, তাই অলিম্পিক পার্ক স্টেডিয়াম থেকেই কার্ড সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছিলাম।
অলিম্পিক পার্ক জুড়ে নারী এশিয়ান কাপের ব্যানার, ফেস্টুন। প্রতি রাস্তায় এশিয়ান কাপের আবহ। সুন্দর ব্র্যান্ডিংয়ে এশিয়ান কাপের কীর্তি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে অস্ট্রেলিয়া। অলিম্পিক পার্কে আরচ্যারি, সাঁতারসহ আরো অনেক ভেন্যু রয়েছে। সকল ভেন্যুর সামনেই নারী এশিয়ান কাপের ব্র্যান্ডিং। এই টুর্নামেন্টকে অস্ট্রেলিয়া বেশ গুরুত্ব সহকারেই নিয়েছি।
বৃষ্টি¯বিঘ্নিত দিনে অলিম্পিক পার্ক আরো যেন সবুজ ও বর্ণিল। বিকেল পাঁচটায় অ্যাক্রিডিটেশন সেন্টার বন্ধ হবে তাই খানিকটা দ্রুত পৌঁছানোর চেষ্টা। তেমন ভিড় ছিল না। পাসপোর্ট দেয়ার পর একজন ভলান্টিয়ার সার্ভারে খুজে পেলেন না। এরপর আরেকজন সার্ভারে পেলেও এএফসি’র অথরাইজেশন পাননি। অথচ এএফসি মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন অ্যাপ্রুভ করেছে আরো মাস দু’য়েক আগে।

অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন কিংবা আয়োজকদের এখানে কোনো গাফিলতি নেই। এরপরও ভলান্টিয়ার কাঙ্খিত সেবা দিতে না পারায় বারবার দুঃখ প্রকাশ করছিলেন। এএফসি’র সঙ্গে যোগাযোগ করে অথরাইজেশন পাওয়ার পর দ্রুতই কার্ড প্রিন্ট হয়। বাংলাদেশ থেকে আসা আরেক সহকর্মী ইমরানের নাম সার্ভারে ছিল না। এএফসি’র সঙ্গে ভলান্টিয়াররা যোগাযোগ করে জানে অ্যাক্রিডিটেশন রিজেক্টেড। তার কাছে থাকা অ্যাপ্রুভ মেইল দেখানোর পরও কাজ হচ্ছিল না। যখন দিনের কর্মদিবস শেষ বের হওয়ার পালা তখন এএফসি’র মেইলে আবার দ্রুত কার্ড প্রিন্ট হয়।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের নারী এশিয়া কাপের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশনে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা শুরু থেকেই ভোগান্তিতে। প্রতিষ্ঠিত অনেক সাংবাদিকেরই শুরুতে আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়েছিল। এরপর ব্যক্তিগত ও ফেডারেশনের মেইলে বেশ কয়েক দিন অপেক্ষামানের পর আবেদন সফল হয়। এত ঘটনার পর অ্যাপ্রুভ হয়েও অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রদানের সার্ভারে ‘নো অথরাইজেশন’, ‘রিজেক্টেড’ লেখা থাকা সাংবাদিকের জন্য চরম ভোগান্তির। বিষয়টি এএফসি’র হলেও অস্ট্রেলিয়ান স্টাফরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে এজন্য দুঃখপ্রকাশ করছিলেন। শেষ পর্যন্ত দুই জন সাংবাদিককে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড হস্তান্তর করতে পেরে বেশ খুশি মনে দিনের কাজ শেষ করেছেন তারা। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পোর্টিং দেশ, তেমনি অস্ট্রেলিয়ানদের মানসকিতাও স্পোর্টিং।
এজেড/এইচজেএস