শোকার্ত ভারতের ড্রেসিংরুম

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ভারত। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে চেন্নাইয়ে দারুণ জয় পেয়েছে তারা। এই ম্যাচে খেলেননি তাদের ব্যাটার রিংকু সিং। অসুস্থ বাবাকে দেখতে বাড়ি ফিরে যান। পরে দলের সঙ্গে যোগ দিলেও দুঃসংবাদ শুনেছেন। সতীর্থের পিতৃবিয়োগে শোকার্ত ভারতের ড্রেসিংরুম।
রিংকুর বাবা খানচাঁদ সিং আজ (শুক্রবার) মারা গেছেন। গ্রেটার নয়ডার যথরথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ক্যানসারের চতুর্থ ধাপে পৌঁছে গিয়েছিলেন খানচাঁদ। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে।
জিম্বাবুয়ে ম্যাচের আগে সময়মতো রিংকু দলের সঙ্গে যোগ দিলেও একাদশে জায়গা পাননি। সাঞ্জু স্যামসন তার জায়গায় খেলেন। বদলি ফিল্ডার হিসেবে মাঠে দেখা গিয়েছিল রিংকুকে।
রিংকুর বাবা তার ক্যারিয়ারে অসামান্য অবদান রাখেন। ভারতীয় ক্রিকেটের বিরাট সমর্থক খানচাঁদ এলপিজি সিলিন্ডার ডেলিভারিম্যানের কাজ করতেন আলীগড়ে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ছেলেকে বড় ক্রিকেটার বানাতে সর্বোচ্চটা নিংড়ে দিয়েছেন।
ভারতের সাবেক স্পিনার হরভজন সিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিংকুর পুরো পরিবারের প্রতি তার ‘আন্তরিক সমবেদনা ও প্রার্থনা’ জানিয়েছেন। এক্স-এ একটি পোস্টে হরভজন লিখেছেন, ‘রিংকু সিংয়ের বাবা শ্রী খানচাঁদ সিং জি-র প্রয়াণের সংবাদ শুনে অত্যন্ত ব্যথিত হলাম। রিংকু ও তার পরিবারের জন্য এটি একটি অত্যন্ত কঠিন সময়, বিশেষ করে যখন সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নিজের দায়িত্ব পালনে অবিচল রয়েছে। আমার আন্তরিক সমবেদনা এবং প্রার্থনা তার ও তার প্রিয়জনদের সাথে রয়েছে। ওয়াহেগুরু প্রয়াত আত্মাকে চিরশান্তি দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক সইবার শক্তি ও সাহস দিন।’
রিংকু এবারের বিশ্বকাপে বাজে ফর্মে। ৫ ইনিংস খেলে মাত্র ২৪ রান করেছেন। দারুণ ফর্মে থেকে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেলেও লম্বা ইনিংস খেলার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। বড় রান করতে না পারায় স্যামসনকে তার জায়গায় নেওয়া হয়।
ভারতীয় ক্রিকেট টিম এখন শেষ সুপার এইট ম্যাচ খেলবে কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এই ম্যাচ দুই দলের জন্যই ‘ডু অর ডাই’।
এফএইচএম/