ম্যানসিটিতে ৪ মুসলিম ফুটবলার যেভাবে রমজান পালন করেন

বিশ্বজুড়ে পবিত্র রমজান মাস পালন করছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। ক্রীড়াঙ্গনও এর বাইরে নয়। বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলা মুসলিম ফুটবলাররা ব্যস্ত সূচির পাশাপাশি নিজেদের মতো ধর্মীয় বিধান পালন করছেন। সাবেক ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলছেন চার মুসলিম ফুটবলার। তাদের জন্য ক্লাবটির পক্ষ থেকে রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
এদিকে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে রমজানের সময় খেলার মাঝে ইফতারের জন্য আলাদা বিরতি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম মেনে আজ (শনিবার) লিডস ইউনাইটেড ও ম্যানসিটির ম্যাচে খেলোয়াড়রা সেই বিধি মানতে দেখা যেতে পারে। ম্যাচটি শুরু হবে ইংল্যান্ডের স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টায়, এর ১১ মিনিট পর সূর্যাস্ত। ম্যানসিটির স্কোয়াডে ফুটবলারদের মধ্যে মুসলিম আছেন– মিশরের ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ, ফরাসি মিডফিল্ডার রায়ান চেরকি, আলজেরিয়ান লেফট-ব্যাক রায়ান আইত-নুরি ও উজবেকিস্তানের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার আবদুকোদির খুসানোভ।
চলতি মৌসুমে এই চার ফুটবলার একসঙ্গে একবার করে দুটি কাপ প্রতিযোগিতায় শুরুর একাদশে খেলেছেন, তবে প্রিমিয়ার লিগে এখনও একত্রে শুরু করেননি। মুসলিম ফুটবলারদের ধর্মীয় বিধান পালন নিয়ে বিবিসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা বলেন, ‘তারা তাদের ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করছে। আমাদের পুষ্টিবিদরা দলীয় চাহিদা অনুযায়ী (খাবারের) ব্যবস্থা করে থাকে। প্রিমিয়ার লিগের কিক-অফ সময় আমরা পরিবর্তন করতে পারি না। তারা ওই সময়ে খেলতে অভ্যস্ত, অনেক বছর ধরেই রমজানের সময় খেলছে।’
‘দুই রায়ান, ওমর এবং খুসা– তাদের জন্য এটা নতুন কিছু নয়। তারা জানে কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হয়’, আরও যোগ করেন গার্দিওলা। এর আগে ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাসে বহু মুসলিম খেলোয়াড়ের স্মরণীয় অবদান রয়েছে। জার্মান মিডফিল্ডার ইলকাই গুনদোয়ানের নেতৃত্বে ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ শিরোপার ট্রেবল জেতে সিটি। আলজেরিয়ান উইঙ্গার রিয়াদ মাহরেজও সেই দলে ছিলেন এবং ২০১৬ সালে লেস্টার সিটির হয়ে পিএফএ বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন।
এর আগে ২০১১ সালের এফএ কাপ ফাইনালে স্টোকসিটির বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে ম্যানসিটির ৩৫ বছরের শিরোপাখরা কাটান আইভরিকোস্টের মিডফিল্ডার ইয়ায়া তৌরে। এক বছর পর ম্যাচসেরা হলে সরাসরি সম্প্রচারে তিনি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে শ্যাম্পেনের বোতল নিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর প্রিমিয়ার লিগ পুরস্কার হিসেবে ট্রফি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সিটির ট্রেনিং কিট জাপানি বিয়ার কোম্পানি আসাহি স্পন্সর করলেও সেখানে ‘সুপার ড্রাই ০.০%’ ব্র্যান্ডের লোগো থাকে, যা অ্যালকোহলমুক্ত পণ্য।

এসব বিষয়ে খেলোয়াড় ও স্টাফদের সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে মুসলিম চ্যাপলেইনস ইন স্পোর্ট (এমসিএস) সংগঠন। ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে তারা অনূর্ধ্ব-৮ দল থেকে শুরু করে মূল দল পর্যন্ত ক্লাবটির সঙ্গে কাজ করছে। এমসিএস–এর প্রতিষ্ঠাতা ইমাম ইসমাইল ভামজি বলেন, ‘আমরা ক্লাবের ভেতরে নামাজ পড়ি এবং ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করি। এ ছাড়াও খেলোয়াড় ও স্টাফদের জন্য সবসময় উন্মুক্ত থাকি আমি। পাশাপাশি তাদের ট্রেনিং সেন্টারে ঘুরে সবার সঙ্গে কথা বলি এবং গোপনীয়ভাবে তাদের সমস্যা শুনে সমাধানের চেষ্টা থাকে।’
সম্প্রতি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের স্টেডিয়াম ওল্ড ট্রাফোর্ডে সমর্থকদের জন্য ইফতারের আয়োজন করে, যেখানে স্টেডিয়ামের ভেতরে আজানও দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের ম্যানসিটিসহ অন্য ক্লাবগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রমজানে এমন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়। ইমাম ইসমাইল ইসলামি সচেতনতা ও হালাল খাদ্যসংক্রান্ত কর্মশালা পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ‘যারা রোজা রাখার যোগ্য, তাদের জন্য রোজার গুরুত্ব এবং পেশাদার ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব কী সেসব ব্যাখ্যা করি। কীভাবে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন ও খেলাধুলা– দুটোই সামঞ্জস্য রেখে চালিয়ে যাওয়া যায়, সে পথ দেখাই।’
এএইচএস