বিদায় নিশ্চিতের পর শেষ ওভারে পাকিস্তানের শ্বাসরুদ্ধকর জয়

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে থামানোর শর্ত মেলাতে না পেরে বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল মাঝপথে। তারপর সান্ত্বনার জয় খোঁজার পথেও হোঁচট খেতে বসেছিল পাকিস্তান। শেষ ওভারে ব্যবধান ২৮ রানে নামিয়ে এনে ২২ রান তোলেন দাসুন শানাকা। শেষ দুই বলে ৬ রান করতে পারেননি লঙ্কার অধিনায়ক। ম্যাচটি ৫ রানে জিতেছে পাকিস্তান। তাতে নিউজিল্যান্ডের সমান ৩ পয়েন্ট নিয়েও নেট রানরেটে পিছিয়ে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করল তারা।
২১৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই পাথুম নিশাঙ্কাকে হারায় শ্রীলঙ্কা। ইনফর্ম এই ব্যাটার ৭ বল খেলে করেছেন মাত্র ৩ রান। তার বিদায়ে ৮ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। আরেক ওপেনার কামিল মিশরা উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৪ চার ও এক ছক্কায় ১৫ বলে করেছেন ২৬ রান।

৩৩ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের বিদায়ে বেশ বিপাকে পড়ে লঙ্কানরা। দলের বিপদে তখন হাল ধরেন চারিথ আসালঙ্কা ও পবন রথনায়েকে। দুজনে মিলে তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৪২ রান। ২৫ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন আসালঙ্কা।
এরপর কামিন্দু মেন্ডিস ও জানিথ লিয়ানাগে দ্রুতই ফিরেছেন। দুজনের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। তাতে আরো একবার বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। এবার অভিজ্ঞ দাসুন শানাকাকে সঙ্গে নিয়ে দুর্দান্ত জুটি গড়েন পবন। তাতে কিছুটা হলেও ম্যাচে ফেরে দল। এই জুটিতেও ১৪৭ রান পার করে পাকিস্তানকে বিদায়ের দরজা দেখায় লঙ্কানরা।

পবন ৬১ রানের জুটি গড়ে ফিরে যান। ৫৮ রান করেন তিনি। শেষ ১৫ বলে লাগতো ৫১ রান। শানাকা ঝড় তুলে পাকিস্তানকে অস্বস্তিতে ফেলেন। শেষ ওভারে লাগে ২৮ রান। তিনি শাহিন আফ্রিদিকে ১ চার ও টানা ৩ ছয় মারলে হারের চোখ রাঙানি দেখে পাকিস্তান। কিন্তু শেষ ২ বল ডট দিয়ে জয় নিশ্চিত করেন শাহিন। ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৭ রান করে শ্রীলঙ্কা। ২৪ বলে ১ চার ও ৫ ছয়ে ফিফটি করা শানাকা ৭৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার ৩১ বলের ইনিংসে ছিল ২ চার ও ৮ ছয়।
তার আগে সাহিবজাদা ফারহান আর ফখর জামানের ১৭৬ রানের ওপেনিং জুটিতে পাকিস্তান ৮ উইকেটে ২১২ রান করে। ফারহান ১০০ রানে থামেন। ফখর করেন ৮৪ রান। এই জুটি ভাঙার পর ৩৪ রানের ব্যবধানে ৮ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান আরও বড় সংগ্রহ করতে পারেনি। সুপার এইটে তিন ম্যাচের সবগুলো হেরে বিশ্বকাপ শেষ করল শ্রীলঙ্কা।
এফএইচএম/