পাকিস্তানের বিদায়ের পর সালমানের বড় স্বীকারোক্তি

পাল্লেকেলেতে গতকাল (শনিবার) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ রানের রোমাঞ্চকর জয় কেবল সান্ত্বনা হয়েই এসেছে পাকিস্তানের জন্য। সেমিফাইনালের হাতছানি নিয়ে মাঠে নেমে ম্যাচটি জিতলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। হতাশার বিশ্বকাপ শেষে অধিনায়ক সালমান আগা স্বীকার করলেন, তার ব্যাটাররা টুর্নামেন্টে ব্যর্থ। বিশেষ করে গত কয়েক বছর ধরে চলা মিডল অর্ডার ব্যাটিং ব্যর্থতা এখনো চলমান। সিনিয়র ব্যাটার বাবর আজম ও সাইম আইয়ুবকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন সালমান।
পোস্ট-ম্যাচ প্রেজেন্টেশনে সালমান বললেন, ‘আমরা টুর্নামেন্টে ভালো ব্যাট করতে পারিনি। ফারহান আরও সমর্থন পেলে ভালো কিছু হতো। গত কয়েক বছর ধরে মিডল অর্ডার সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেদিকে নজর দিতে হবে আমাদের।’
ইনিংসের এক পর্যায়ে ওপেনার ফারহান ও ফখরের জুটতে পাকিস্তানের রান ২২৫ হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু ৩৪ রানে ৮ উইকেট হারানোর ধাক্কায় ২১২ রান করতে পারে তারা।
পরে সংবাদ সম্মেলনে সাহিবজাদা ফারহানের ওপর নির্ভরতার কথা স্বীকার করলেন সালমান, ‘পুরো টুর্নামেন্ট যদি দেখেন, আমাকে যদি ছোট করে বলতে বলেন, আমরা পারফরম্যান্সের ধারেকাছেও ছিলাম না। আমাদের মিডল অর্ডার কখনো পারফরর্ম করেনি এবং আমরা আমাদের রানের জন্য সাহিবজাদার (ফারহান) ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল ছিলাম।’
বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ৩৮৩ রান করে বিরাট কোহলিকে পেছনে ফেলেছেন ফারহান। পাকিস্তানের পরবর্তী সর্বোচ্চ স্কোরার শাদাব খান, ৬ ইনিংসে রান মাত্র ১১৮। বোঝাই যাচ্ছে, ব্যাটিংয়েই মূলত ধুঁকছে পাকিস্তান।
ডেথ ওভারে ব্যাটে-বলে বাজে পারফর্ম করেছে পাকিস্তান। তারা শেষ চার ওভারে মাত্র ৩৫ রান করে। কিন্তু শেষ সাত ওভারে হজম করেছে ১০০ রান। শেষ দুই ওভারে ৪০ রান তুলে তো শ্রীলঙ্কা জয়ের কাছে পৌঁছেছিল।
সালমান বললেন, ‘আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম, সেভাবে শেষ করতে পারিনি। আমরা ১৮ ওভার ভালোভাবে ব্যাটিং করেছি। দুই ওভারে প্রতিপক্ষ ভালো করার সুযোগ পেয়েছে। শেষ যে তিন ওভার আমরা বল করেছিলাম, আমাদের প্রয়োগ ভালো ছিল না। আমাদের বোলিং ইউনিট এর চেয়ে তুলনামূলক ভালো, অতীতে সেটা দেখিয়েছি। কিন্তু বল হাতে আজকে আমাদের প্রয়োড়ে ঘাটতি ছিল।’
আইসিসির টুর্নামেন্টে এনিয়ে টানা চার আসরে সেমিফাইনালের আগে বিদায় নিলো পাকিস্তান। সালমান গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ‘উন্নত সিদ্ধান্ত গ্রহণের’ আহ্বান করলেন। তিনি বললেন, ‘যখন চাপ আসে, কীভাবে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারগুলোতে উন্নতি করতে পারি। আমরা যখন চাপে থাকি, আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ যতটা ভালো হওয়া উচিত ততটা হয় না। এজন্যই আমরা এমন ফল দেখি।’
এফএইচএম/