জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় তোপের মুখে ইরানের ফুটবলাররা

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এএফসি নারী এশিয়ান কাপে অংশ নিয়েছে ইরান। যেখানে গতকাল (বৃহস্পতিবার) অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীতের সময় সামরিক স্যালুট দিয়ে আলোচনায় এসেছে ইরানের ফুটবলাররা। তবে একইসঙ্গে প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় তারা তোপের মুখে পড়েছে। এমনকি খেলোয়াড়দের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে শাস্তির দাবি করেছেন ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের এক উপস্থাপক।
গত ২ মার্চ এশিয়ান কাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেছিল ইরান। খেলার আগে ইরানের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় খেলোয়াড়রা নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই ম্যাচে ইরান ৩-০ গোলে হেরে যায়। তবে তিন দিন পর স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে তারা জাতীয় সংগীত গেয়েছেন এবং সামরিক সালাম জানান, যদিও ওই ম্যাচেও ৪-০ গোলে পরাজিত হয়েছে ইরানের মেয়েরা।
ফুটবলারদের জাতীয় সংগীতের সময় চুপ করে থাকার ঘটনাকে দেশপ্রেমের অভাব এবং অপমানের দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংয়ের উপস্থাপক মোহাম্মদ রেজা শাহবাজি। ফুটবলারদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে দেওয়া তার মন্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘যদি কেউ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাকে আরও কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের নারী ফুটবল দল জাতীয় সংগীত না গাওয়ার যে ঘটনা ঘটিয়েছে...এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়দের এই আচরণ দেশপ্রেমের অভাব প্রকাশ করে এবং এটি দেশকে অপমানের চরম উদাহরণ। আমি শুধু একটি কথাই বলব– যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতকদের আরও কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।’ পরবর্তীতে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে রয়টার্স। পাশাপাশি ইরান ফুটবল ফেডারেশন এবং এশিয়ান কাপে অংশ নেওয়া দলটির কাছেও মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।
এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরুর আগেই নিরাপদে অস্ট্রেলিয়ায় পা রাখে দেশটির ফুটবল দল। পরবর্তীতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে এড়িয়ে যান দলটির কোচ ও অধিনায়ক। এরপর অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুললে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি ইরানের ফরোয়ার্ড সারা দিদার। ওই সময় তিনি বলেন, দেশ থেকে ভালো খবরের প্রত্যাশায় আছেন। অন্যদিকে, কোচ মারজিয়েহ জাফরির মতে– দেশে থাকা পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও খেলোয়াড়রা টুর্নামেন্টে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
ইতোমধ্যে নিজেদের দুটি ম্যাচে হেরে এশিয়ান কাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত করে ফেলেছে ইরান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা আগামী রোববার ফিলিপাইনের মুখোমুখি হবে।
এএইচএস