এবার তাহলে ঢাকা লিগও মাঠে গড়াচ্ছে না!

গেল বছরের নভেম্বরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিবিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ১৬টি ক্লাব নির্বাচন বয়কটের পথে হেঁটেছিল। মূলত বিসিবি নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে এসব ক্লাবের প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তখন বিসিবির নির্বাচন হলেও সঠিক পথে চলছিল না ক্লাব ক্রিকেট।
গেল কয়েকমাস ধরে সেই অস্থিরতা লেগেই আছে। বর্তমান বিসিবির অধীনে সব ধরনের ঘরোয়া ক্রিকেট বয়কট করেছিল ঢাকার ৪৫ ক্লাব। প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট বয়কট করলেও বাকিদের নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল বিসিবি।
এবার আলোচনায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)। এই টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখনো পর্যন্ত দলবদলের বিষয়েও কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। তবে বয়কট করা সেই ক্লাবগুলো এখনো তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। মোহামেডান ক্লাবের ক্রীড়া সংগঠক মাসুদুজ্জামান এমনটি জানিয়েছেন।
ঢাকা পোস্টকে তিনি বলছিলেন, 'আমরা কোর্টের অপেক্ষায় আছি, কোর্ট আমাদের একটা সঠিক দিক নির্দেশনা দিবে। আমরা চেষ্টা করছি কোর্টের কাছে যাওয়ার জন্য। ক্রীড়া মন্ত্রালয়ের সাথেও আমরা কথা বলার চেষ্টা করছি। আর এ বিষয়ে কোনো সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো লিগের ব্যাপারে যাব না, যেটা আগেও বলেছি। এখন আসলে যত দ্রুত সম্ভব এটা সমাধান হলে, আমরা লিগে মনোযোগ দিব, আমরাও খেলতে চাই।'
লিগ আয়োজন নিয়ে বিসিবির সিসিডিএম বিভাগের একটি সূত্র ঢাকা পোস্টকে বলেন, 'প্রিমিয়ার লিগ হোক আমরাও চাই। কিন্তু আসলে পরিস্থিতি এখন একটু ভিন্ন। প্রথম বিভাগ বা দ্বিতীয় বিভাগ যেভাবে হয়েছে সেভাবে তো আসলে প্রিমিয়ার লিগ হতে পারে না।'
'এটা একটা আলাদা টুর্নামেন্ট। প্রথম বা দ্বিতীয় বিভাগে যারা খেলতে চায়নি, তারা আসেনি তারপরও আমরা চালিয়ে দিয়েছি খেলা। এখন তো আসলে সেটা সম্ভব না, তার থেকে না হওয়াটা ভালো। যদি হয় প্রত্যেকটা দলকে নিয়েই হওয়া উচিত আর যদি না হয় তাহলে দরকার নেই। আমরা এ বিষয়ে সভাপতি থেকে এখনো কোনো প্রকার দিক নির্দেশনা পাইনি যে লিগ শুরু করতে হবে।'-যোগ করেন তিনি।
ক্রিকেটারদের রুটি রুজির বড় অংশ এই ঢাকা লিগ। প্রায় ২০০ ক্রিকেটার যুক্ত থাকেন ঢাকা লিগে। এছাড়া কোচিং স্টাফসহ বাকি সদস্যরা মিলিয়ে আরো যুক্ত থাকেন ৫০ জন। যে কারণে ক্রিকেটাররা খেলার জন্য আগ্রহী হয়ে রয়েছেন।
ঢাকা পোস্টকে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, 'ক্রিকেটাররা অবশ্যই খেলতে চায়, তাদের কাজই তো খেলা। তবে বোর্ডের সক্ষমতা নেই খেলানোর। আর ক্লাবগুলো এই বোর্ড থাকলে খেলবে না, সব মিলে আসলে এখন কি হবে সেটা আমরাও বুঝতেছি না। ঢাকা লিগ মে মাস পর্যন্ত খেলার সুযোগ রয়েছে এরপরে চাইলেও আর হবে না।'
'আমরা একবার আলোচনায় বসেছিলাম তখন শুধু প্রথম বিভাগ না, ঢাকা লিগ নিয়েও আমরা কথা বলতে বলেছিলাম। এখন আসলে সমাধান পাওয়াটা খুব কঠিন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমরা খেলতে চাই যেভাবেই হোক। আমরা মাঠে খেলতে চাই এটা কীভাবে হবে জানি না। এখন আসলে টাকা পয়সা কম বা বেশি নিয়ে না, খেলা হওয়াটাই আসলে গুরুত্বপূর্ণ।'
সবমিলিয়ে পরিস্থিতি এখন যে অবস্থাতে রয়েছে তাতে করে এবারের ঢাকা লিগ আর হচ্ছে না। বিসিবির পক্ষ হতেও এখনো পর্যন্ত লিগ আয়োজনের কোনো দৃশ্যমান কিছু চোখে পড়ছে না। বিসিবি সভাপতি নিজে অস্ট্রেলিয়াতে অবস্থান করছেন, আর লিগ আয়োজন নিয়েও কাউকে কোনো নির্দেশনা দেননি তিনি।
এসএইচ/এইচজেএস